ইবি শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা মঙ্গলবার
jugantor
ইবি শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা মঙ্গলবার

  ইবি প্রতিনিধি  

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪২:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

আবাসিক হল খোলার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার বেলা ১১টা থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও বিভিন্ন আবাসিক হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরপরই এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন তারা। সম্মেলনে তারা তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তে নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আতাউর রহমান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমরা পরীক্ষা নিতে রাজি না।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাস ছাড়াও বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শেখ রাসেল হলের সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় তারা ‘প্রশাসনের প্রহসন মানি না মানবো না’, ‘এক দফা এক দাবি, আজকেই হল খুলে দিবি’, ‘লাথি মার ভাঙরে তালা, খুলে ফেল হলের তালা’, ‘ভাওতাবাজি বন্ধ কর, হলগুলো ওপেন কর’, ‘আমার হল বন্ধ কেন, জবাব চাই জবাই চাই’সহ নানা স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৭ মে হল ও ২৪ মে থেকে সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময়ে কোনো ধরনের একাডেমিক পরীক্ষাও নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত ‘বিচার মানেই তালগাছ আমার’ এ ধরনের। সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা কোনোভাবেই একমত না। অবিলম্বে হল খোলা না হলে আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইবি ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র মৈত্রী।

ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছে। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা গত ১১ মাস ধরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের ক্ষতিগ্রস্ততা আরও দীর্ঘায়িত করবে। আমরা চাই অনতিবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হলসমূহ খুলে দেওয়ার মাধ্যমে পুনরায় ক্লাস ও পরীক্ষা চালু করা হোক।

এছাড়া সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে চাকরির বয়সসীমা বাড়ানো হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সেশনজটের মুখে পড়েছে। এভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে বলে জানান তারা।

ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি আব্দুর রউফ যুগান্তরকে বলেন, চলমান পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত আবারো শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেবে। এমন সিদ্ধান্ত ছাত্র সমাজের ক্ষতির দিকে নিয়ে যাবে। প্রশাসন চাইলেই হল খুলে পরীক্ষাগুলো নিতে পারত।

পরীক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিভাগের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর মেস ভাড়া নিয়ে থাকছি। আর তিনটা পরীক্ষা বাকি আছে। এখন আবার পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এটা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। আমাদের সাথে তামাশা করা হচ্ছে। বাড়ি থেকে পরীক্ষার জন্য ডেকে আনা হলো। এখন আবার পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না। আমরা চাকরিতে আবেদনসহ নানা সমস্যায় পড়ছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, আগামীকাল ডিনদের নিয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে পরীক্ষা ও সার্বিক বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হল খোলার ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

ইবি শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা মঙ্গলবার

 ইবি প্রতিনিধি 
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আবাসিক হল খোলার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার বেলা ১১টা থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও বিভিন্ন আবাসিক হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরপরই এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন তারা। সম্মেলনে তারা তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তে নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আতাউর রহমান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমরা পরীক্ষা নিতে রাজি না।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাস ছাড়াও বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শেখ রাসেল হলের সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় তারা ‘প্রশাসনের প্রহসন মানি না মানবো না’, ‘এক দফা এক দাবি, আজকেই হল খুলে দিবি’, ‘লাথি মার ভাঙরে তালা, খুলে ফেল হলের তালা’, ‘ভাওতাবাজি বন্ধ কর, হলগুলো ওপেন কর’, ‘আমার হল বন্ধ কেন, জবাব চাই জবাই চাই’সহ নানা স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৭ মে হল ও ২৪ মে থেকে সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময়ে কোনো ধরনের একাডেমিক পরীক্ষাও নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত ‘বিচার মানেই তালগাছ আমার’ এ ধরনের। সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা কোনোভাবেই একমত না। অবিলম্বে হল খোলা না হলে আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইবি ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র মৈত্রী।

ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছে। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা গত ১১ মাস ধরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের ক্ষতিগ্রস্ততা আরও দীর্ঘায়িত করবে। আমরা চাই অনতিবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হলসমূহ খুলে দেওয়ার মাধ্যমে পুনরায় ক্লাস ও পরীক্ষা চালু করা হোক।

এছাড়া সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে চাকরির বয়সসীমা বাড়ানো হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সেশনজটের মুখে পড়েছে। এভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে বলে জানান তারা।

ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি আব্দুর রউফ যুগান্তরকে বলেন, চলমান পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত আবারো শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেবে। এমন সিদ্ধান্ত ছাত্র সমাজের ক্ষতির দিকে নিয়ে যাবে। প্রশাসন চাইলেই হল খুলে পরীক্ষাগুলো নিতে পারত।

পরীক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিভাগের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর মেস ভাড়া নিয়ে থাকছি। আর তিনটা পরীক্ষা বাকি আছে। এখন আবার পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এটা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। আমাদের সাথে তামাশা করা হচ্ছে। বাড়ি থেকে পরীক্ষার জন্য ডেকে আনা হলো। এখন আবার পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না। আমরা চাকরিতে আবেদনসহ নানা সমস্যায় পড়ছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, আগামীকাল ডিনদের নিয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে পরীক্ষা ও সার্বিক বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হল খোলার ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন