জাবিতে আগুনে পুড়ছে বনাঞ্চল, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য
jugantor
জাবিতে আগুনে পুড়ছে বনাঞ্চল, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

  জাবি প্রতিনিধি  

০৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৯:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। বুধবার ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র ও মীর মশাররফ হোসেন হলের মাঝের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আগুন লেগে ধ্বংস হয়েছে জীববৈচিত্র্য। ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আধাঘন্টা চেষ্টার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বুধবার দুপুর ১২টায় এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থলে সাভারের ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আড়াই ঘণ্টার আগুনে দশ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সাভার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, আগুন লাগার বিষয়টি জানার পরে আমরা ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এতে আমাদের দুটি ইউনিট কাজ করেছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা বলতে পারছি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, আমরা দুপুর ১টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আগুনের ভয়াবহতা দেখে আমরা ফায়ার সার্ভিসকে জানাই। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের উৎস সম্পর্কে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। এটা কোনো দুষ্কৃতকারীর কাজ, অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের এ সময়টাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত এ বনাঞ্চলে ঝরাপাতার নিচে টিকটিকি, ব্যাঙ, গিরগিটিসহ নানা ধরণের কীটপতঙ্গ আশ্রয় নেয়। এছাড়া সেখানে বাগডাস, শেয়াল, বনবিড়াল, গন্ধগোকুল ও মেছোবিড়ালের মতো নিশাচর প্রাণীরাও থাকে। তাই এ ধরনের আগুনে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান দেশ বলেন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রায়ই এমন আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। গাছপালা ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যাপক পরিমাণে কীট-পতঙ্গ ও নিশাচর প্রাণী আগুনে মারা যায়। আকারে ছোট হলেও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রাণীদের বড় অবদান রয়েছে।

তবে আগুন লাগার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারই প্রথম নয়। বিগত দুই সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, জহির রায়হান মিলনায়তন সংলগ্ন পুকুরপাড়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বটতলার পেছনের কিছু অংশে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তবে সেসব আগুনের ভয়াবহতা এত বেশি ছিল না।

জাবিতে আগুনে পুড়ছে বনাঞ্চল, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

 জাবি প্রতিনিধি 
০৭ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। বুধবার ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র ও মীর মশাররফ হোসেন হলের মাঝের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আগুন লেগে ধ্বংস হয়েছে জীববৈচিত্র্য। ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আধাঘন্টা চেষ্টার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

বুধবার দুপুর ১২টায় এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থলে সাভারের ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আড়াই ঘণ্টার আগুনে দশ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সাভার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, আগুন লাগার বিষয়টি জানার পরে আমরা ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এতে আমাদের দুটি ইউনিট কাজ করেছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা বলতে পারছি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, আমরা দুপুর ১টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আগুনের ভয়াবহতা দেখে আমরা ফায়ার সার্ভিসকে জানাই। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের উৎস সম্পর্কে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। এটা কোনো দুষ্কৃতকারীর কাজ, অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের এ সময়টাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত এ বনাঞ্চলে ঝরাপাতার নিচে টিকটিকি, ব্যাঙ, গিরগিটিসহ নানা ধরণের কীটপতঙ্গ আশ্রয় নেয়। এছাড়া সেখানে বাগডাস, শেয়াল, বনবিড়াল, গন্ধগোকুল ও মেছোবিড়ালের মতো নিশাচর প্রাণীরাও থাকে। তাই এ ধরনের আগুনে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান দেশ বলেন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রায়ই এমন আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। গাছপালা ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যাপক পরিমাণে কীট-পতঙ্গ ও নিশাচর প্রাণী আগুনে মারা যায়। আকারে ছোট হলেও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রাণীদের বড় অবদান রয়েছে।

তবে আগুন লাগার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারই প্রথম নয়। বিগত দুই সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, জহির রায়হান মিলনায়তন সংলগ্ন পুকুরপাড়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বটতলার পেছনের কিছু অংশে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তবে সেসব আগুনের ভয়াবহতা এত বেশি ছিল না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন