প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে রাবি কর্তৃপক্ষের প্রতিবাদ
jugantor
প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে রাবি কর্তৃপক্ষের প্রতিবাদ

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৬ এপ্রিল ২০২১, ২১:০২:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

গত ১৪ এপ্রিল যুগান্তর অনলাইন সংস্করণে ‘বিদায়কালে ৩১২ কোটি টাকার টেন্ডার শেষ করতে মরিয়া ভিসি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদসহ বক্তব্য দিয়েছেন রাবি কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবাদ বক্তব্যে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ৩০ কোটি টাকা ঊর্ধ্ব বাজেটের কাজের টেন্ডার অনুমোদন ভিসি দিতে পারেন না। দিয়ে থাকে মন্ত্রণালয়। গত ১৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় রাবির তিনটি বড় প্রকল্পের টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন কমিটি করে।

সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রকল্প পরিচালক ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট পোর্টালের (ইজিপি) স্বয়ংক্রিয় মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করেন। প্রাথমিকভাবে টেন্ডার দাখিলের শেষ তারিখ ২২ এপ্রিল থাকলেও করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশে অফিস বন্ধ থাকার কারণে মেয়াদ বাড়িয়ে ২৯ এপ্রিল করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি মতে, ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের একনেক সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তিনটিসহ কয়েকটি প্রকল্পের জন্য ৫১৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এই তিন প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২২।

বিনা কারণে টেন্ডার আহ্বান না করে দেরি করা অসহযোগিতা বলে বিবেচিত হয়। ফলে সরকার কর্তৃক টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি অনুমোদনের পর টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু না করলে আরও বিলম্ব হতো এবং তাতে বিশ্ববিদ্যালয় তথা সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

যথাসময়ে টেন্ডার আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উন্নয়ন কাজ তরাম্বিত করেছে মাত্র। এতে কারও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল অথবা থাকার প্রশ্নই আসে না।

প্রতিবেদনে এই তিনটি প্রকল্পের কাজ ভাগাভাগির প্রস্তুতি চলছে এবং স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব সিন্ডিকেটকে খুশি করতে ভিসি কাজগুলো তাদের দিয়ে যেতে চান বলে যা বলা হয়েছে রাবি কর্তৃপক্ষ তারও প্রতিবাদ করেছেন।

কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতিবেদনে শব্দচয়ন অত্যন্ত আপত্তিকর, মনগড়া ও ভিত্তিহীন। প্রতিবেদকের জানা উচিত ইজিপি টেন্ডার একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। এখানে পছন্দের কোন ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়মানুযায়ী এই তিন প্রকল্পের জন্য টেন্ডার জমাকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ, মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত মুল্যায়ন কমিটি দ্বারা যাচাই বাছাই শেষে উপযুক্ত দরদাতাকে নোটিফিকেশন্স অব অ্যাওয়ার্ড দেবে এবং এতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে।

ফলে বর্তমান প্রশাসনের আমলে তা হবে না, কারণ আগামী ৬ মে বর্তমান ভিসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ইজিপি টেন্ডার সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতিবেদন করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করেন।

সরকারি নির্দেশনা না মেনে প্রকৌশল ও হিসাব শাখা খোলা রাখার বিষয়ে প্রতিবেদনের বক্তব্যকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ১৪ এপ্রিলথেকে প্রকৌশল ও হিসাব শাখা বন্ধ রয়েছে। প্রতিবেদনে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কো-কনভেনর ড. সৈয়দ আলী রেজার মতামতের বিপরীতে কর্তৃপক্ষ বলেছেন, বাস্তবতা হলো রাবি প্রশাসন তড়িঘড়ি করে কিছু করছে না।

সরকারি অনুমোদনের পর প্রকল্পের কাজে কালক্ষেপন করলেই বরং উদ্দেশ্য থাকে। কালক্ষেপণের পক্ষপাতি ব্যক্তিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাবেক প্রশাসনের আমলে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার উন্নয়ন ও ঢাকার গেস্ট হাউস নির্মাণ ও জমি ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো কোনো ব্যক্তির সঙ্গে উপাচার্যের সখ্যতার যে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। ওই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। মহামারির মধ্যেও অ্যাডহক ও বিতর্কিত নিয়োগগুলোকে সিন্ডিকেট ডেকে বৈধ ও স্থায়ীকরণের যে কথা প্রতিবেদনে এসেছে তাও মিথ্যা।

প্রতিবেদনটিতে ভুল, মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য দিয়ে উপাচার্যকে হেয় ও তার সম্মানহানি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সঠিক তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে রাবি কর্তৃপক্ষের প্রতিবাদ

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৯:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গত ১৪ এপ্রিল যুগান্তর অনলাইন সংস্করণে ‘বিদায়কালে ৩১২ কোটি টাকার টেন্ডার শেষ করতে মরিয়া ভিসি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদসহ বক্তব্য দিয়েছেন রাবি কর্তৃপক্ষ। 

শুক্রবার জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবাদ বক্তব্যে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ৩০ কোটি টাকা ঊর্ধ্ব বাজেটের কাজের টেন্ডার অনুমোদন ভিসি দিতে পারেন না। দিয়ে থাকে মন্ত্রণালয়। গত ১৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় রাবির তিনটি বড় প্রকল্পের টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন কমিটি করে। 

সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রকল্প পরিচালক ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট পোর্টালের (ইজিপি) স্বয়ংক্রিয় মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করেন। প্রাথমিকভাবে টেন্ডার দাখিলের শেষ তারিখ ২২ এপ্রিল থাকলেও করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশে অফিস বন্ধ থাকার কারণে মেয়াদ বাড়িয়ে ২৯ এপ্রিল করা হয়েছে। 

কর্তৃপক্ষের দাবি মতে, ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের একনেক সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তিনটিসহ কয়েকটি প্রকল্পের জন্য ৫১৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এই তিন প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২২। 

বিনা কারণে টেন্ডার আহ্বান না করে দেরি করা অসহযোগিতা বলে বিবেচিত হয়। ফলে সরকার কর্তৃক টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি অনুমোদনের পর টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু না করলে আরও বিলম্ব হতো এবং তাতে বিশ্ববিদ্যালয় তথা সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হতো। 

যথাসময়ে টেন্ডার আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উন্নয়ন কাজ তরাম্বিত করেছে মাত্র। এতে কারও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল অথবা থাকার প্রশ্নই আসে না। 

প্রতিবেদনে এই তিনটি প্রকল্পের কাজ ভাগাভাগির প্রস্তুতি চলছে এবং স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব সিন্ডিকেটকে খুশি করতে ভিসি কাজগুলো তাদের দিয়ে যেতে চান বলে যা বলা হয়েছে রাবি কর্তৃপক্ষ তারও প্রতিবাদ করেছেন।

কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতিবেদনে শব্দচয়ন অত্যন্ত আপত্তিকর, মনগড়া ও ভিত্তিহীন। প্রতিবেদকের জানা উচিত ইজিপি টেন্ডার একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। এখানে পছন্দের কোন ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়মানুযায়ী এই তিন প্রকল্পের জন্য টেন্ডার জমাকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ, মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত মুল্যায়ন কমিটি দ্বারা যাচাই বাছাই শেষে উপযুক্ত দরদাতাকে নোটিফিকেশন্স অব অ্যাওয়ার্ড দেবে এবং এতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে। 

ফলে বর্তমান প্রশাসনের আমলে তা হবে না, কারণ আগামী ৬ মে বর্তমান ভিসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ইজিপি টেন্ডার সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতিবেদন করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করেন। 

সরকারি নির্দেশনা না মেনে প্রকৌশল ও হিসাব শাখা খোলা রাখার বিষয়ে প্রতিবেদনের বক্তব্যকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকৌশল ও হিসাব শাখা বন্ধ রয়েছে। প্রতিবেদনে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কো-কনভেনর ড. সৈয়দ আলী রেজার মতামতের বিপরীতে কর্তৃপক্ষ বলেছেন, বাস্তবতা হলো রাবি প্রশাসন তড়িঘড়ি করে কিছু করছে না। 

সরকারি অনুমোদনের পর প্রকল্পের কাজে কালক্ষেপন করলেই বরং উদ্দেশ্য থাকে। কালক্ষেপণের পক্ষপাতি ব্যক্তিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাবেক প্রশাসনের আমলে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার উন্নয়ন ও ঢাকার গেস্ট হাউস নির্মাণ ও জমি ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। 

প্রতিবেদনে দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো কোনো ব্যক্তির সঙ্গে উপাচার্যের সখ্যতার যে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। ওই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। মহামারির মধ্যেও অ্যাডহক ও বিতর্কিত নিয়োগগুলোকে সিন্ডিকেট ডেকে বৈধ ও স্থায়ীকরণের যে কথা প্রতিবেদনে এসেছে তাও মিথ্যা। 

প্রতিবেদনটিতে ভুল, মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য দিয়ে উপাচার্যকে হেয় ও তার সম্মানহানি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সঠিক তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন