‘দুই ডজন’ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন ইবি ছাত্র ফারুক
jugantor
‘দুই ডজন’ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন ইবি ছাত্র ফারুক

  ইবি প্রতিনিধি  

২০ জুন ২০২১, ২০:৩২:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দুই ডজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা, যৌন হয়রানি ও নানা হুমকির অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।

১১ মে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী এ ঘটনায় তথ্য প্রমাণসহ ‘সাইবার বুলিংয়ের প্রতিকার, হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি দাবি’ করে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ দায়েরের পাঁচ সপ্তাহ পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

দ্রুতবিচারসহ ছয় দফা দাবিতে রোববার অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে একই অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অনতিবিলম্বে শাস্তি না হলে ইউজিসি ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর অভিযোগ করবেন বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ করার পর প্রতিবেদকের কাছে একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়রসহ একই সেশনের প্রায় দুই ডজন ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় অনলাইনে-অফলাইনে উত্ত্যক্ত করেছেন বলে জানা গেছে। এতদিন তারা ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখলেও এখন তা প্রকাশ ও অভিযুক্তের বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এছাড়া অভিযুক্তের শাস্তি চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। তবে দীর্ঘদিন পরেও এ তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এনিয়ে অভিযোগকারীরাও রয়েছেন আতঙ্কে।

রোববার বেলা ১১টায় প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের ছাত্রী শ্যামলী তানজিন অনু বলেন, ফারুক একের পর এক ব্যাচমেট, সিনিয়র ও জুনিয়রদের বিরক্ত করেই চলেছে। শুধু বিরক্তই নয়, সে শিক্ষার্থীদের সাইবার বুলিং, যৌন হয়রানিসহ হুমকি ধমকি দিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস আগে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেয়েও প্রশাসন নীরব। আমাদের আজ দাঁড়ানোর প্রধান উদ্দেশ্য ফারুকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এক ফারুকের বিচার না হলে অন্য ফারুকরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা, অতি দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণ, উপযুক্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের টালবাহানা বন্ধকরণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সাইবার বুলিং রোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের আহবান, ক্যাম্পাসে যৌন নির্যাতন সেলের কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন।

অভিযুক্ত ফারুক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমি মজা নেওয়ার জন্য এসব করতাম। আমার ভুল হয়েছে, এতকিছু হয়ে যাবে আমি বুঝতে পারিনি। আমি ক্ষমা চাচ্ছি।

এদিকে ঘটনার ১ মাস আট দিন পর শনিবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা দ্রুত বসে সিদ্ধান্ত নেব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত কমিটি হয়েছে আশা করি তারা দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

‘দুই ডজন’ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন ইবি ছাত্র ফারুক

 ইবি প্রতিনিধি 
২০ জুন ২০২১, ০৮:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দুই ডজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা, যৌন হয়রানি ও নানা হুমকির অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।

১১ মে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী এ ঘটনায় তথ্য প্রমাণসহ ‘সাইবার বুলিংয়ের প্রতিকার, হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি দাবি’ করে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ দায়েরের পাঁচ সপ্তাহ পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

দ্রুতবিচারসহ ছয় দফা দাবিতে রোববার অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে একই অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অনতিবিলম্বে শাস্তি না হলে ইউজিসি ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর অভিযোগ করবেন বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ করার পর প্রতিবেদকের কাছে একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়রসহ একই সেশনের প্রায় দুই ডজন ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় অনলাইনে-অফলাইনে উত্ত্যক্ত করেছেন বলে জানা গেছে। এতদিন তারা ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখলেও এখন তা প্রকাশ ও অভিযুক্তের বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এছাড়া অভিযুক্তের শাস্তি চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। তবে দীর্ঘদিন পরেও এ তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এনিয়ে অভিযোগকারীরাও রয়েছেন আতঙ্কে।

রোববার বেলা ১১টায় প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের ছাত্রী শ্যামলী তানজিন অনু বলেন, ফারুক একের পর এক ব্যাচমেট, সিনিয়র ও জুনিয়রদের বিরক্ত করেই চলেছে। শুধু বিরক্তই নয়, সে শিক্ষার্থীদের সাইবার বুলিং, যৌন হয়রানিসহ হুমকি ধমকি দিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস আগে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেয়েও প্রশাসন নীরব। আমাদের আজ দাঁড়ানোর প্রধান উদ্দেশ্য ফারুকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এক ফারুকের বিচার না হলে অন্য ফারুকরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা, অতি দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণ, উপযুক্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের টালবাহানা বন্ধকরণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সাইবার বুলিং রোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের আহবান, ক্যাম্পাসে যৌন নির্যাতন সেলের কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন।

অভিযুক্ত ফারুক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমি মজা নেওয়ার জন্য এসব করতাম। আমার ভুল হয়েছে, এতকিছু হয়ে যাবে আমি বুঝতে পারিনি। আমি ক্ষমা চাচ্ছি।

এদিকে ঘটনার ১ মাস আট দিন পর শনিবার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা দ্রুত বসে সিদ্ধান্ত নেব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত কমিটি হয়েছে আশা করি তারা দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন