‘কোটা নিয়ে সরকার কৌশলী ভূমিকা নিতে চাইছে’

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৩ মে ২০১৮, ১১:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা এতদিনেও বাস্তবায়িত না হওয়ায় সেটি সরকারের কোনো কৌশল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা।

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা এতদিনেও বাস্তবায়িত না হওয়ায় সেটি সরকারের কোনো কৌশল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, সরকারে যারা থাকেন, তারাই তো কৌশলী হন। হয়তো বলে ফেলেছেন, এখন হয়তো উনি (প্রধানমন্ত্রী) ভাবছেন যদি এটি বাস্তবায়ন হয়, তা হলে দুটি পক্ষ হয়তো মুখোমুখি হয়ে যাবে। সেটি আমার বিশ্লেষণ।

অধ্যাপক শামীমা আরও বলেন, ভাবছেন একদিকে হয়তো মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান বা আত্মীয়স্বজন যারা আছেন, তারা দাঁড়িয়ে যাবেন। অন্যদিকে সাধারণ ছাত্রছাত্রী যারা আছেন, তারা মুখোমুখি হয়ে যাবেন। হয়তো এটি তাদের মাথায় আছে।

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন আছে, তাই হয়তো এ ব্যাপারটি তারা ঘাঁটাতে চাইছেন না।

নির্বাচনের বছরে কোটার বিষয়টি নিয়ে সরকার একটি কৌশলী ভূমিকা নিতে চাইছে বলে তিনি মনে করেন।

তবে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় তা বাস্তবায়ন করা উচিত বলে মত দেন এ শিক্ষক।

উল্লেখ্য, কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছু দিন ধরেই আন্দোলন করছিলেন শিক্ষার্থীরা। কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করছিলেন তারা।

গত ৮ এপ্রিল বিকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে আন্দোলন জমে উঠলে পর দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনকারীরা। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ৭ মে পর্যন্ত সময় নেন ওবায়দুল কাদের। কিন্তু এর পরের দিনও আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।

কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটাব্যবস্থা বাতিলের কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা নিয়ে যখন এত কিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনো কোটারই দরকার নেই। যারা প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাদের আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেব।’

কিন্তু এর পর প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য অনুযায়ী কোটা নিয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ফের সোচ্চার হন শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় গত ২৭ এপ্রিল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানকের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে- এ আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বৈঠকে ৭ মে পর্যন্ত কোটাবিরোধী আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ৭ মের মধ্যে কোটার প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় ফের আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter