স্থানীয়দের হামলায় ইবির ৫ শিক্ষার্থী আহত, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
jugantor
স্থানীয়দের হামলায় ইবির ৫ শিক্ষার্থী আহত, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

  ইবি প্রতিনিধি  

০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৪০:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

স্থানীয়দের হামলায় ইবির ৫ শিক্ষার্থী আহত, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

স্থানীয়দের হামলায় মেসে অবস্থান করা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে এহামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী আনন্দনগর এলাকায় ‘রবিউল’ মেসে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে এ ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দায়িত্ব অবহেলার দায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ভিসির বাস ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এবং তাকে স্থায়ী বরখাস্তের দাবি জানান।

সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন ও সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা ও আশ্বস্ত করলে রাত সোয়া ২টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেয়।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শাখা কর্মকর্তা ও ওই এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলামের সাথে মেসের শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে সাড়ে ৮টার দিকে ১০-১২ জন স্থানীয়দের সাথে নিয়ে মেসের দরজা ভেঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেন। এতে একজন গুরুতর জখমসহ চার শিক্ষার্থী আহত হন।

আহতরা হলেন- আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী কামাল উদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সুলতান মাহমুদ সুজন, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের রিদয় আহমেদ, সমাজ কল্যাণ বিভাগের মাজহারুল ইসলাম নাইম এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের জুয়েল রানা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মারধরের পর তাদেরকে মেসে আটকে রাখেন হামলাকারীরা। পরে অন্য সহপাঠীরা গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে আবাসিক হল ও আশেপাশে মেসে থাকা প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার প্রতিবাদ করলে স্থানীয় রেন্টু ও রাজু ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে একত্রিত হতে বলে। এতে এলাকার শতাধিক লোক দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় সিনিয়র শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ভূক্তভোগীরা জানান, সোমবার রাতে মেসে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন হয়। এসময় মেসে উচ্চ শব্দ হয় বলে অভিযোগ করতে আসেন পাশের বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। অভিযোগের এক পর্যায়ে তিনি- তোদের এলাকা ছাড়া করব, তোদের দেখে নিবো’সহ নানাভাবে হুমকি দেন। এর প্রতিবাদ করলে কথাকাটি হয়। পরে সেই কর্মকর্তা গিয়ে স্থানীয় লোকজন নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টরিয়াল বডির সাথে যোগাযোগ করা হলেও আমরা কোন সহযোগিতা পাইনি।

এ বিষয়ে ইবির সহকরী রেজিস্ট্রার ও অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এসে তাদের উপরে হামলা করেছে এই দায়ভার আমি নিব কি করে? যে কেউ আমার নাম বলতে পারে। প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন।’

এ বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর ওখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

স্থানীয়দের হামলায় ইবির ৫ শিক্ষার্থী আহত, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

 ইবি প্রতিনিধি 
০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৪০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
স্থানীয়দের হামলায় ইবির ৫ শিক্ষার্থী আহত, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
ইবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি- যুগান্তর

স্থানীয়দের হামলায় মেসে অবস্থান করা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। 

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী আনন্দনগর এলাকায় ‘রবিউল’ মেসে এ ঘটনা ঘটে। 

আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে এ ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দায়িত্ব অবহেলার দায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ভিসির বাস ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। 

এসময় শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এবং তাকে স্থায়ী বরখাস্তের দাবি জানান। 

সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন ও সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা ও আশ্বস্ত করলে রাত সোয়া ২টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেয়।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শাখা কর্মকর্তা ও ওই এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলামের সাথে মেসের শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে সাড়ে ৮টার দিকে ১০-১২ জন স্থানীয়দের সাথে নিয়ে মেসের দরজা ভেঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেন। এতে একজন গুরুতর জখমসহ চার শিক্ষার্থী আহত হন।

আহতরা হলেন- আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী কামাল উদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সুলতান মাহমুদ সুজন, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের রিদয় আহমেদ, সমাজ কল্যাণ বিভাগের মাজহারুল ইসলাম নাইম এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের জুয়েল রানা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মারধরের পর তাদেরকে মেসে আটকে রাখেন হামলাকারীরা। পরে অন্য সহপাঠীরা গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে আবাসিক হল ও আশেপাশে মেসে থাকা প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার প্রতিবাদ করলে স্থানীয় রেন্টু ও রাজু ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে একত্রিত হতে বলে। এতে এলাকার শতাধিক লোক দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় সিনিয়র শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ভূক্তভোগীরা জানান, সোমবার রাতে মেসে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন হয়। এসময় মেসে উচ্চ শব্দ হয় বলে অভিযোগ করতে আসেন পাশের বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। অভিযোগের এক পর্যায়ে তিনি- তোদের এলাকা ছাড়া করব, তোদের দেখে নিবো’সহ নানাভাবে হুমকি দেন। এর প্রতিবাদ করলে কথাকাটি হয়। পরে সেই কর্মকর্তা গিয়ে স্থানীয় লোকজন নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টরিয়াল বডির সাথে যোগাযোগ করা হলেও আমরা কোন সহযোগিতা পাইনি।

এ বিষয়ে ইবির সহকরী রেজিস্ট্রার ও অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এসে তাদের উপরে হামলা করেছে এই দায়ভার আমি নিব কি করে? যে কেউ আমার নাম বলতে পারে। প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন।’

এ বিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর ওখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন