শাবিতে হামলাকারীদের ‘দানব’ বললেন জাফর ইকবাল
jugantor
শাবিতে হামলাকারীদের ‘দানব’ বললেন জাফর ইকবাল

  সিলেট ব্যাুরো  

২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:৫৭:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা করেছে, তাকে দানব বলে আখ্যায়িত করেছেন অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা করেছে, তাই তারা ক্ষুব্ধ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। যে হামলা করেছে তাকে আমি মানুষ বলতে চাই না, সে দানব। তার জন্য শিক্ষার্থীদের মরার কোনো দরকার নেই।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানো শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল।

আন্দোলন দমানোর জন্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তগুলোকে অমানবিক, নিষ্ঠুর ও দানবীয় বলেও অবহিত করেন তিনি। ড. জাফর ইকবাল বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার কথামতো অনশন ভেঙেছে। আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এখন তাদের হাসপাতালে নিতে হবে, যেন তারা সুন্দরভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে। আমি ধরে নিয়েছিলাম এখানে একটি মেডিকেল টিম থাকবে তারা নিয়মিত তাদের চিকিৎসা দেবে। এখানে মেডিকেল টিম না থাকাতে আমি কষ্ট পেয়েছি। আন্দোলনে তাদের যারা অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে, সেসব মানুষকে পুলিশ হাজতে রেখেছে, এটি নিন্দনীয়। এ ব্যাপারগুলো অবশ্যই যেন বন্ধ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে কারও নাম ছাড়া, যখন প্রয়োজন হবে, তখন নাম ঢুকানো হবে। আমি আশা করছি, এ জিনিসগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এখানে আসার আগে সরকারের উচ্চমহল থেকে আমার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমি এখানে এসেছি। আমাকে যারা যে কথা দিয়ে এখানে পাঠিয়েছেন, তা যেন তারা রক্ষা করে। আমার আর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কাজেই আমাকে যে কথা দিয়েছেন, তা যদি রক্ষা করা না হয়, তা হলে ছাত্রদের সঙ্গে নয়, আমার ও এ দেশের প্রগতিশীল মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে ধরে নেব। খাবার বন্ধ করার মতো নিষ্ঠুরতা স্বাধীনতার ৫০ বছরে করা হবে অকল্পনীয়।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল আরও বলেন, যদি কথা না রাখা হয়, তা হলে অবশ্যই আমার ভূমিকা থাকবে। আমার কাছে তারা এসেছেন আমি যাইনি। সুতরাং আমি অনশনের হাত থেকে রক্ষা করে কথা রেখেছি আপনারাও কথা রাখবেন আশা করছি।

এদিকে অনশন থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, আমরা জাফর ইকবাল স্যারের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রেখে অনশন থেকে সরে এসেছি। উনি আমাদের কথা দিয়েছেন আমাদের দাবিগুলো মেনে নেবেন। আমাদের বিশ্বাস আছে। কিন্তু উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব এবং পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে আমরা তা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

এদিকে গত ১৯ জানুয়ারি বুধবার থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। কয়েক দফায় সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করা হয় কিন্তু উপাচার্য পদত্যাগের আগ পর্যন্ত অনশন চলবে বলে তাদের জানিয়ে দেয়। এরপর বুধবার ভোর ৪টায় জাফর ইকবাল দম্পতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার জন্য অনুরোধ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে অনশন ভাঙেন।

শাবিতে হামলাকারীদের ‘দানব’ বললেন জাফর ইকবাল

 সিলেট ব্যাুরো 
২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৩:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা করেছে, তাকে দানব বলে আখ্যায়িত করেছেন অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা করেছে, তাই তারা ক্ষুব্ধ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। যে হামলা করেছে তাকে আমি মানুষ বলতে চাই না, সে দানব। তার জন্য শিক্ষার্থীদের মরার কোনো দরকার নেই। 

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানো শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল। 

আন্দোলন দমানোর জন্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তগুলোকে অমানবিক, নিষ্ঠুর ও দানবীয় বলেও অবহিত করেন তিনি। ড. জাফর ইকবাল বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার কথামতো অনশন ভেঙেছে। আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এখন তাদের হাসপাতালে নিতে হবে, যেন তারা সুন্দরভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে। আমি ধরে নিয়েছিলাম এখানে একটি মেডিকেল টিম থাকবে তারা নিয়মিত তাদের চিকিৎসা দেবে। এখানে মেডিকেল টিম না থাকাতে আমি কষ্ট পেয়েছি। আন্দোলনে তাদের যারা অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে, সেসব মানুষকে পুলিশ হাজতে রেখেছে, এটি নিন্দনীয়। এ ব্যাপারগুলো অবশ্যই যেন বন্ধ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে কারও নাম ছাড়া, যখন প্রয়োজন হবে, তখন নাম ঢুকানো হবে। আমি আশা করছি, এ জিনিসগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা হবে। 
 
তিনি আরও বলেন, এখানে আসার আগে সরকারের উচ্চমহল থেকে আমার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমি এখানে এসেছি। আমাকে যারা যে কথা দিয়ে এখানে পাঠিয়েছেন, তা যেন তারা রক্ষা করে। আমার আর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কাজেই আমাকে যে কথা দিয়েছেন, তা যদি রক্ষা করা না হয়, তা হলে ছাত্রদের সঙ্গে নয়, আমার ও এ দেশের প্রগতিশীল মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে ধরে নেব। খাবার বন্ধ করার মতো নিষ্ঠুরতা স্বাধীনতার ৫০ বছরে করা হবে অকল্পনীয়।
 
অধ্যাপক জাফর ইকবাল আরও বলেন, যদি কথা না রাখা হয়, তা হলে অবশ্যই আমার ভূমিকা থাকবে। আমার কাছে তারা এসেছেন আমি যাইনি। সুতরাং আমি অনশনের হাত থেকে রক্ষা করে কথা রেখেছি আপনারাও কথা রাখবেন আশা করছি। 
 
এদিকে অনশন থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, আমরা জাফর ইকবাল স্যারের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রেখে অনশন থেকে সরে এসেছি। উনি আমাদের কথা দিয়েছেন আমাদের দাবিগুলো মেনে নেবেন। আমাদের বিশ্বাস আছে। কিন্তু উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব এবং পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে আমরা তা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।  
 
এদিকে গত ১৯ জানুয়ারি বুধবার থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। কয়েক দফায় সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করা হয় কিন্তু উপাচার্য পদত্যাগের আগ পর্যন্ত অনশন চলবে বলে তাদের জানিয়ে দেয়। এরপর বুধবার ভোর ৪টায় জাফর ইকবাল দম্পতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার জন্য অনুরোধ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে অনশন ভাঙেন।  

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন