ছাত্র সংসদের দরজা বন্ধই থাকছে!
jugantor
ছাত্র সংসদের দরজা বন্ধই থাকছে!

  সাইফুল ইসলাম  

২৭ জানুয়ারি ২০২২, ২১:৫৬:৫৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পর দেশের প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি উঠে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে রাজি হয়। সেই লক্ষ্যে নানা কর্মসূচিও হাতে নেয়। ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে অচল থাকা ছাত্র সংসদগুলো সচলের ইঙ্গিতে আশার সঞ্চার হয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবে সব আয়োজন ও আশা ভেস্তে গেল করোনায়।

২০২০ সালে দেশে করোনার প্রার্দুভাব হওয়ায় প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে তোড়জোড় ছিল তা থমকে যায়। তবে হাল ছাড়েনি শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার পর আবারো দাবি তোলে তারা। তবে নানা অজুহাতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি ছাত্র সংসদগুলো সচল করার।

এদিকে চলতি বছরের শুরুতেই দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ায় আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। করোনা পরিস্থিতি অবনতি হলে এই বন্ধের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। এভাবে দিনের পর দিন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলার কেউই থাকছে না। ফলে বন্ধই থাকছে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দরজা।

ছাত্র নেতারা বলছেন, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। তবে প্রশাসন এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে না। বিভিন্ন অজুহাতে ও আশ্বাসেই কালক্ষেপণ করেছে। এছাড়া করোনার দোহাই দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় এ দাবি আর জোরালো হচ্ছে না। ফলে এক প্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বলছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিলে কাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকে। শিক্ষকরা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়াতে পারবে না। সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি থাকলে শিক্ষার্থীদের অধিকারের কথা বলা যায়, দাবি আদায় করা যায়। কিন্তু সব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই নিজেদের স্বার্থে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে রাজি নয়। তারা ভালো করেই জানে ছাত্র প্রতিনিধি থাকলে তাদের অবস্থান নড়েবড়ে থাকবে। তাই তারা বিভিন্ন অজুহাতে ও কৌশলে এ নির্বাচন থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডাকসু নির্বাচন দিলেও ৩১ বছর ধরে অচল রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। এছাড়া প্রায় ৩০ বছর ধরে বন্ধ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। তবে দীর্ঘদিন ছাত্র সংসদগুলো অচল থাকলেও প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদ বাবদ ফি আদায় ঠিকই করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২১ মার্চ অচল থাকা চাকসু সচল করার উদ্যোগ নেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। এ লক্ষ্যে চাকসু নির্বাচনের নীতিমালা পর্যালোচনার জন্য ওই দিনই বিজ্ঞান অনুষদের ডিন শফিউল আলমকে প্রধান করে গঠন করেন ৫ সদস্যের নির্বাচন পর্যালোচনা কমিটি। কমিটির কাজ চলমান থাকাবস্থায় ওই বছরের ১৩ জুন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরীর উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হয়। ফলে থমকে যায় চাকসু নির্বাচনের সব আয়োজন। এরপর উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে আসেন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। রুটিন দায়িত্বে থাকায় তিনিও চাকসু নির্বাচনের কাজ এগিয়ে নিতে ছিলেন অপারগ। পরবর্তীতে তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব নিলেও নানা অজুহাতে চাকসু নির্বাচন দেননি। অন্যদিকে নীতিমালা কমিটিও আর প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্য বিশিষ্ট রাকসু নির্বাচন সংলাপ কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীর সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় রাকসু সংলাপ। এরপর দীর্ঘ ৬ মাস বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষে ওই বছরের ৪ জুলাই আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও সংলাপ করে রাকসু সংলাপ কমিটি।

এদিকে ২০২০ সালের শুরুতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। জকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে কোনো ধারা বা উপধারা না থাকায় আইনে সেই ধারা বা উপধারা সংযোজন ও জকসুর গঠনতন্ত্র প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় জবি কর্তৃপক্ষ। সেইলক্ষ্যে আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার জন্য আইন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাসকে আহ্বায়ক করে জকসু গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং আইন সংশোধন সংক্রান্ত চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ ও জকসুর গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর সেই কমিটি নির্ধারিত সময়ে অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের কাছে রিপোর্ট জমা দেন।

এরপর ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার এক লাইভ অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে জকসু নির্বাচন দেওয়া হবে। এখন শিক্ষার্থীরা নেই। তারা ক্যাম্পাসে এলেই আমরা জকসু নির্বাচনের আয়োজন করবো। উপাচার্যের এমন ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে জকসু সচলের আশা জাগলেও পরবর্তীতে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে ২০১৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি তুলে শিক্ষার্থীরা। দ্রুত জাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা নানা কর্মসূচিও পালন করে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ওই বছরের ২৭ জুন নির্বাচন প্রস্তুতিমূলক কমিটি গঠন করে। ২৮ জনু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন শুরুর আধ ঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীরা সিনেট কক্ষ ঘেরা করলে ওই বছরের নভেম্বরের মধ্যে জাকসু নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরীকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় প্রশাসন।

নির্বাচন প্রস্তুতিমূলক কমিটিকে জাকসুর পুরনো গঠনতন্ত্র সংশোধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ওই বছরের ২৫ জুলাই কমিটির প্রথম সভায় কমিটির সদস্যরা পুরোনো গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য দুই দিন সময় নেয়। এরপর ২৭ জুলাই সংশোধিত খসড়া গঠনতন্ত্র প্রস্তাব এবং ২৯ জুলাই থেকে প্রস্তাবিত এ গঠনতন্ত্র আরও সংশোধনের জন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করে কমিটি। ২০ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র নেতাদের সঙ্গে এ বৈঠক করে কমিটি।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালে ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রার শুরুর পরের বছরই প্রথম জাকসু নির্বাচন হয়। এরপর সাতবার জাকসু নির্বাচন দেখে শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ১৯৯২ সালের জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৯৩ সালে ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে ছাত্ররা হামলা চালালে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ভেঙে দেয় জাবি প্রশাসন।

এ ঘটনার দুই দশক পর ২০১২ সালে ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন পান। ২০১৩ সালের নভেম্বরে তিনি জাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেন। এরপর ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি জাকসু নির্বাচনের তারিখও ঘোষণা করা হয়। সেই সময় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক একেএম শাহনাওয়াজকে প্রধান করে নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়। ওই বছরের ১৯ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র বিতরণ করেন।

এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ দিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রাখছে শিক্ষার্থীদের।

রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, ডাকসুর নির্বাচনের আগে থেকেই আমরা রাকসু নির্বাচনের আন্দোলন করে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের যতগুলো ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন রয়েছে, সবাইকে নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত প্রশাসনের কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছি। তারা নানা উদ্যোগও নিয়েছিল। বর্তমান উপাচার্যের কাছেও আমরা এ দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ধরনের উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

বিশ্ববিদ্যালয় একটি মুক্তজ্ঞান চর্চার জায়গা, এখানে সব আয়োজন শিক্ষার্থীদের নিয়ে হলেও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কেউ নেই। সিনেটে কোনো ছাত্র প্রতিনিধি নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা সবাইকে নিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব। আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব।

জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাকিবুল হক রনি বলেন, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছলচাতুরী করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কমকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচন হয় কিন্তু ছাত্র প্রতিনিধির নির্বাচন হয় না। বারবার জাকসু নির্বাচন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানে সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি থাকলে তাদের দুর্নীতি বাধাগ্রস্ত হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিচ্ছে না। করোনার কারণে সবকিছু থমকে রয়েছে। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা আবারো ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে যাব।

জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রয়োজন। ছাত্রদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে শিক্ষার্থীদে অধিকার আদায় করা যায়। এখন করোনার কারণে আমরা কেউ বিষয়টি নিয়ে তেমন কথা বলছি না। ক্যাম্পাস খোলার পর দ্রুত যেন ছাত্র সংসদের নির্বাচনের আয়োজন করে আমরা সেই দাবি জানাব।

চবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের গৌরচাঁদ ঠাকুর বলেন, ডাকসু নির্বাচনের আগে থেকেই আমরা চাকসু নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছি। এ লক্ষ্যে আমরা চাকসুর পক্ষে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিও পালন করি। ডাকসু নির্বাচনে অনেক অনিয়ম হওয়ায় আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন করি। সেই সময় আমাদের আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা চালায়। প্রশাসনকে এ বিষয়ে বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এছাড়া বারবার প্রশাসনের কাছে চাকসু নির্বাচনের দাবি জানালে অজানা কারণে তারা নির্বাচন দিতে অনীহা প্রকাশ করে। এখন করোনার কারণে আমরা আন্দোলন করতে পারছি না। তবে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করলে আমরা চাকসুর দাবি তুলি। তারা একে অন্যের ওপর দায় চাপায়; কিন্তু আমাদের অধিকারের কথা ভাবে না। চাকসুর দাবিতে আমরা আবারো আন্দোলন করব।

ছাত্র সংসদের দরজা বন্ধই থাকছে!

 সাইফুল ইসলাম 
২৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পর দেশের প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি উঠে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে রাজি হয়। সেই লক্ষ্যে নানা কর্মসূচিও হাতে নেয়। ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে অচল থাকা ছাত্র সংসদগুলো সচলের ইঙ্গিতে আশার সঞ্চার হয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবে সব আয়োজন ও আশা ভেস্তে গেল করোনায়।

২০২০ সালে দেশে করোনার প্রার্দুভাব হওয়ায় প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে তোড়জোড় ছিল তা থমকে যায়। তবে হাল ছাড়েনি শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার পর আবারো দাবি তোলে তারা। তবে নানা অজুহাতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি ছাত্র সংসদগুলো সচল করার। 

এদিকে চলতি বছরের শুরুতেই দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ায় আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। করোনা পরিস্থিতি অবনতি হলে এই বন্ধের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। এভাবে দিনের পর দিন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলার কেউই থাকছে না। ফলে বন্ধই থাকছে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দরজা। 

ছাত্র নেতারা বলছেন, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। তবে প্রশাসন এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে না। বিভিন্ন অজুহাতে ও আশ্বাসেই কালক্ষেপণ করেছে। এছাড়া করোনার দোহাই দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় এ দাবি আর জোরালো হচ্ছে না। ফলে এক প্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন। 

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বলছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিলে কাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকে। শিক্ষকরা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়াতে পারবে না। সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি থাকলে শিক্ষার্থীদের অধিকারের কথা বলা যায়, দাবি আদায় করা যায়। কিন্তু সব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই নিজেদের স্বার্থে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে রাজি নয়। তারা ভালো করেই জানে ছাত্র প্রতিনিধি থাকলে তাদের অবস্থান নড়েবড়ে থাকবে। তাই তারা বিভিন্ন অজুহাতে ও কৌশলে এ নির্বাচন থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখছে। 

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডাকসু নির্বাচন দিলেও ৩১ বছর ধরে অচল রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। এছাড়া প্রায় ৩০ বছর ধরে বন্ধ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। তবে দীর্ঘদিন ছাত্র সংসদগুলো অচল থাকলেও প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদ বাবদ ফি আদায় ঠিকই করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২১ মার্চ অচল থাকা চাকসু সচল করার উদ্যোগ নেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। এ লক্ষ্যে চাকসু নির্বাচনের নীতিমালা পর্যালোচনার জন্য ওই দিনই বিজ্ঞান অনুষদের ডিন শফিউল আলমকে প্রধান করে গঠন করেন ৫ সদস্যের নির্বাচন পর্যালোচনা কমিটি। কমিটির কাজ চলমান থাকাবস্থায় ওই বছরের ১৩ জুন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরীর উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হয়। ফলে থমকে যায় চাকসু নির্বাচনের সব আয়োজন। এরপর উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে আসেন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। রুটিন দায়িত্বে থাকায় তিনিও চাকসু নির্বাচনের কাজ এগিয়ে নিতে ছিলেন অপারগ। পরবর্তীতে তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব নিলেও নানা অজুহাতে চাকসু নির্বাচন দেননি। অন্যদিকে নীতিমালা কমিটিও আর প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্য বিশিষ্ট রাকসু নির্বাচন সংলাপ কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীর সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় রাকসু সংলাপ। এরপর দীর্ঘ ৬ মাস বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষে ওই বছরের ৪ জুলাই আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও সংলাপ করে রাকসু সংলাপ কমিটি। 

এদিকে ২০২০ সালের শুরুতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। জকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে কোনো ধারা বা উপধারা না থাকায় আইনে সেই ধারা বা উপধারা সংযোজন ও জকসুর গঠনতন্ত্র প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় জবি কর্তৃপক্ষ। সেইলক্ষ্যে আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার জন্য আইন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাসকে আহ্বায়ক করে জকসু গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং আইন সংশোধন সংক্রান্ত চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ ও জকসুর গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর সেই কমিটি নির্ধারিত সময়ে অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের কাছে রিপোর্ট জমা দেন।

এরপর ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার এক লাইভ অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে জকসু নির্বাচন দেওয়া হবে। এখন শিক্ষার্থীরা নেই। তারা ক্যাম্পাসে এলেই আমরা জকসু নির্বাচনের আয়োজন করবো। উপাচার্যের এমন ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে জকসু সচলের আশা জাগলেও পরবর্তীতে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে ২০১৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি তুলে শিক্ষার্থীরা। দ্রুত জাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা নানা কর্মসূচিও পালন করে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ওই বছরের ২৭ জুন নির্বাচন প্রস্তুতিমূলক কমিটি গঠন করে। ২৮ জনু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন শুরুর আধ ঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীরা সিনেট কক্ষ ঘেরা করলে ওই বছরের নভেম্বরের মধ্যে জাকসু নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরীকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় প্রশাসন। 

নির্বাচন প্রস্তুতিমূলক কমিটিকে জাকসুর পুরনো গঠনতন্ত্র সংশোধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ওই বছরের ২৫ জুলাই কমিটির প্রথম সভায় কমিটির সদস্যরা পুরোনো গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য দুই দিন সময় নেয়। এরপর ২৭ জুলাই সংশোধিত খসড়া গঠনতন্ত্র প্রস্তাব এবং ২৯ জুলাই থেকে প্রস্তাবিত এ গঠনতন্ত্র আরও সংশোধনের জন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করে কমিটি। ২০ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র নেতাদের সঙ্গে এ বৈঠক করে কমিটি।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালে ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রার শুরুর পরের বছরই প্রথম জাকসু নির্বাচন হয়। এরপর সাতবার জাকসু নির্বাচন দেখে শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ১৯৯২ সালের জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৯৩ সালে ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে ছাত্ররা হামলা চালালে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ভেঙে দেয় জাবি প্রশাসন।

এ ঘটনার দুই দশক পর ২০১২ সালে ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন পান। ২০১৩ সালের নভেম্বরে তিনি জাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেন। এরপর ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি জাকসু নির্বাচনের তারিখও ঘোষণা করা হয়। সেই সময় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক একেএম শাহনাওয়াজকে প্রধান করে নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়। ওই বছরের ১৯ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র বিতরণ করেন। 

এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ দিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রাখছে শিক্ষার্থীদের। 

রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, ডাকসুর নির্বাচনের আগে থেকেই আমরা রাকসু নির্বাচনের আন্দোলন করে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের যতগুলো ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন রয়েছে, সবাইকে নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত প্রশাসনের কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছি। তারা নানা উদ্যোগও নিয়েছিল। বর্তমান উপাচার্যের কাছেও আমরা এ দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ধরনের উদ্যোগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

বিশ্ববিদ্যালয় একটি মুক্তজ্ঞান চর্চার জায়গা, এখানে সব আয়োজন শিক্ষার্থীদের নিয়ে হলেও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কেউ নেই। সিনেটে কোনো ছাত্র প্রতিনিধি নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা সবাইকে নিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব। আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব। 

জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাকিবুল হক রনি বলেন, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছলচাতুরী করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কমকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচন হয় কিন্তু ছাত্র প্রতিনিধির নির্বাচন হয় না। বারবার জাকসু নির্বাচন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানে সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি থাকলে তাদের দুর্নীতি বাধাগ্রস্ত হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিচ্ছে না। করোনার কারণে সবকিছু থমকে রয়েছে। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা আবারো ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে যাব।

জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রয়োজন। ছাত্রদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে শিক্ষার্থীদে অধিকার আদায় করা যায়। এখন করোনার কারণে আমরা কেউ বিষয়টি নিয়ে তেমন কথা বলছি না। ক্যাম্পাস খোলার পর দ্রুত যেন ছাত্র সংসদের নির্বাচনের আয়োজন করে আমরা সেই দাবি জানাব।  

চবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের গৌরচাঁদ ঠাকুর বলেন, ডাকসু নির্বাচনের আগে থেকেই আমরা চাকসু নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছি। এ লক্ষ্যে আমরা চাকসুর পক্ষে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিও পালন করি। ডাকসু নির্বাচনে অনেক অনিয়ম হওয়ায় আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন করি। সেই সময় আমাদের আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা চালায়। প্রশাসনকে এ বিষয়ে বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 

এছাড়া বারবার প্রশাসনের কাছে চাকসু নির্বাচনের দাবি জানালে অজানা কারণে তারা নির্বাচন দিতে অনীহা প্রকাশ করে। এখন করোনার কারণে আমরা আন্দোলন করতে পারছি না। তবে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করলে আমরা চাকসুর দাবি তুলি। তারা একে অন্যের ওপর দায় চাপায়; কিন্তু আমাদের অধিকারের কথা ভাবে না। চাকসুর দাবিতে আমরা আবারো আন্দোলন করব। 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন