সিট ছাড়েননি অবৈধরা, বৈধ ছাত্রদের হলে তুলতে পারছে না প্রশাসন  
jugantor
সিট ছাড়েননি অবৈধরা, বৈধ ছাত্রদের হলে তুলতে পারছে না প্রশাসন  

  রাবি প্রতিনিধি  

০১ জুলাই ২০২২, ২২:৪৪:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল গেটে বৈধ ছাত্রদের অবস্থান। ছবি-যুগান্তর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে নোটিশ দেওয়ার পরও অবৈধভাবে থাকা শিক্ষার্থীরা সিট ছাড়েননি। শুক্রবার অভিযান চালিয়ে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আসন থেকে নামিয়ে সেখানে বৈধ শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল হল প্রশাসন। কিন্তু শুক্রবার রাত ৮টায় প্রাধ্যক্ষরা মিটিং করলেও অভিযান চালাতে পারেননি।

এদিকে শুক্রবার দুপুরের পর থেকে বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিছানাপত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নেন। কিন্তু অবৈধ শিক্ষার্থীরা সিট না ছাড়ায় তারা হলে উঠতে পারেননি। রাত ৮টা পর্যন্ত হলের সামনে অবস্থান করতে দেখা গেছে তাদের।

হল সূত্রে জানা গেছে, হলে সিট বরাদ্দ পাওয়া আবাসিক অন্তত ৪৪ শিক্ষার্থী হলে উঠার জন্য হলগেটে অবস্থান করছেন। যারা হলে না থেকেও হলের ভাড়া দেন। অন্যদিকে অনাবাসিক ও অবৈধ শিক্ষার্থীরা ৭২টি সিট দখল করে আছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ শিক্ষার্থীদের নামিয়ে বৈধ শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় হল প্রশাসন।

অভিযোগ রয়েছে, এমন উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অন্য প্রাধ্যক্ষদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। হল থেকে অবৈধদের নামিয়ে দেওয়া হলে তার পরিবার সদস্যদের বিপদাপন্ন করা হবে বলেও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। তবে ছাত্রদের কল্যাণে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়নে অটল থাকবেন বলে জানিয়েছে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ।

এর আগে গত ২৩ জুন হল শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত নোটিশে- হলে অবস্থান করা অনাবাসিক, বহিরাগত ও অন্য হলের শিক্ষার্থীদের ২৯ জুনের মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো শিক্ষার্থী তার সমস্যার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ২৮ জুনের মধ্যে অভিভাবকসহ হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া কোনো বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীকে হলে উঠতে বাধা দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তবে হলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেউ যোগাযোগ করেননি। তবে অনাবাসিক কোনো শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত সিট থেকে নেমেও যাননি।

এর আগে ১৬ জুন একজন অবৈধ শিক্ষার্থীর বিছানাপত্র হল প্রশাসন জব্দ করায় হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শামীম ওসমান হলের ফটকে তালা দেন। এই নেতাও অনাবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। এরপর থেকেই হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং কঠোর অবস্থানে যায়। অবৈধ শিক্ষার্থীদের উচ্ছেদে হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রাধ্যক্ষ পরিষদ একাধিক সভা করেছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে হলের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন শেষ করে হল ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের আসনও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দখল করে ফেলেছেন। প্রতিটি শিক্ষার্থীর থেকে দুই থেকে চার হাজার টাকা করে নিয়ে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী উঠান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ফলে প্রাধ্যক্ষ বৈধভাবে সিট দিলেও শিক্ষার্থীরা নিজ বরাদ্দকৃত সিটে উঠতে পারেন না। দখল করা সিটগুলো ছাত্রলীগ ছেড়ে দিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে কোনো সমস্যা হবে না।

হল প্রাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন যুগান্তরকে জানান, ‘বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে হল বন্ধের পর সোহরাওয়ার্দী হলে ৯৪টি আসন খালি হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ভাইভা নিয়ে একাডেমিক ফলাফল ও বর্ষ বিবেচনায় ৬৬ জন শিক্ষার্থীকে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৬৬ জনের মধ্যে ২২ জনকে তাদের আসনে তুলতে পারি। এখন পর্যন্ত ৭২টি আসন অবৈধ শিক্ষার্থীরা দখল করে আছে।'

তিনি আরও জানান, শুক্রবার অবৈধদের নামিয়ে বৈধ শিক্ষার্থীদের হলে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এজন্যই সব প্রাধ্যক্ষ আমার হলে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে মিটিং করছি।

প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ফেরদৌসি মহল বলেন, প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবৈধ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ওই নোটিশ দেওয়া হয়। প্রাধ্যক্ষরা একসঙ্গে মিলে সোহরাওয়ার্দী হলের অবৈধ শিক্ষার্থীদের নামিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে একে একে সব হলে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সিট ছাড়েননি অবৈধরা, বৈধ ছাত্রদের হলে তুলতে পারছে না প্রশাসন  

 রাবি প্রতিনিধি 
০১ জুলাই ২০২২, ১০:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল গেটে বৈধ ছাত্রদের অবস্থান। ছবি-যুগান্তর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল গেটে বৈধ ছাত্রদের অবস্থান। ছবি-যুগান্তর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে নোটিশ দেওয়ার পরও অবৈধভাবে থাকা শিক্ষার্থীরা সিট ছাড়েননি। শুক্রবার অভিযান চালিয়ে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আসন থেকে নামিয়ে সেখানে বৈধ শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল হল প্রশাসন। কিন্তু শুক্রবার রাত ৮টায় প্রাধ্যক্ষরা মিটিং করলেও অভিযান চালাতে পারেননি।

এদিকে শুক্রবার দুপুরের পর থেকে বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিছানাপত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নেন। কিন্তু অবৈধ শিক্ষার্থীরা সিট না ছাড়ায় তারা হলে উঠতে পারেননি। রাত ৮টা পর্যন্ত হলের সামনে অবস্থান করতে দেখা গেছে তাদের। 

হল সূত্রে জানা গেছে, হলে সিট বরাদ্দ পাওয়া আবাসিক অন্তত ৪৪ শিক্ষার্থী হলে উঠার জন্য হলগেটে অবস্থান করছেন। যারা হলে না থেকেও হলের ভাড়া দেন। অন্যদিকে অনাবাসিক ও অবৈধ শিক্ষার্থীরা ৭২টি সিট দখল করে আছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ শিক্ষার্থীদের নামিয়ে বৈধ শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় হল প্রশাসন। 

অভিযোগ রয়েছে, এমন উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অন্য প্রাধ্যক্ষদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। হল থেকে অবৈধদের নামিয়ে দেওয়া হলে তার পরিবার সদস্যদের বিপদাপন্ন করা হবে বলেও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। তবে ছাত্রদের কল্যাণে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়নে অটল থাকবেন বলে জানিয়েছে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ।

এর আগে গত ২৩ জুন হল শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত নোটিশে- হলে অবস্থান করা অনাবাসিক, বহিরাগত ও অন্য হলের শিক্ষার্থীদের ২৯ জুনের মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো শিক্ষার্থী তার সমস্যার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ২৮ জুনের মধ্যে অভিভাবকসহ হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া কোনো বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীকে হলে উঠতে বাধা দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। 

তবে হলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেউ যোগাযোগ করেননি। তবে অনাবাসিক কোনো শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত সিট থেকে নেমেও যাননি। 

এর আগে ১৬ জুন একজন অবৈধ শিক্ষার্থীর বিছানাপত্র হল প্রশাসন জব্দ করায় হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শামীম ওসমান হলের ফটকে তালা দেন। এই নেতাও অনাবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। এরপর থেকেই হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং কঠোর অবস্থানে যায়। অবৈধ শিক্ষার্থীদের উচ্ছেদে হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রাধ্যক্ষ পরিষদ একাধিক সভা করেছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে হলের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন শেষ করে হল ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের আসনও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দখল করে ফেলেছেন। প্রতিটি শিক্ষার্থীর থেকে দুই থেকে চার হাজার টাকা করে নিয়ে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী উঠান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ফলে প্রাধ্যক্ষ বৈধভাবে সিট দিলেও শিক্ষার্থীরা নিজ বরাদ্দকৃত সিটে উঠতে পারেন না। দখল করা সিটগুলো ছাত্রলীগ ছেড়ে দিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে কোনো সমস্যা হবে না। 

হল প্রাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন যুগান্তরকে জানান, ‘বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে হল বন্ধের পর সোহরাওয়ার্দী হলে ৯৪টি আসন খালি হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ভাইভা নিয়ে একাডেমিক ফলাফল ও বর্ষ বিবেচনায় ৬৬ জন শিক্ষার্থীকে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৬৬ জনের মধ্যে ২২ জনকে তাদের আসনে তুলতে পারি। এখন পর্যন্ত ৭২টি আসন অবৈধ শিক্ষার্থীরা দখল করে আছে।'

তিনি আরও জানান, শুক্রবার অবৈধদের নামিয়ে বৈধ শিক্ষার্থীদের হলে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এজন্যই সব প্রাধ্যক্ষ আমার হলে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে মিটিং করছি।

প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ফেরদৌসি মহল বলেন, প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবৈধ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ওই নোটিশ দেওয়া হয়। প্রাধ্যক্ষরা একসঙ্গে মিলে সোহরাওয়ার্দী হলের অবৈধ শিক্ষার্থীদের নামিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে একে একে সব হলে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন