‘জবি ছাত্রলীগ সম্পাদক’ আকতারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে যা লিখলেন নেত্রী
jugantor
‘জবি ছাত্রলীগ সম্পাদক’ আকতারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে যা লিখলেন নেত্রী

  জবি প্রতিনিধি  

০১ জুলাই ২০২২, ২৩:২৯:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসাইনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ এনেছেন সংগঠনটির একজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফৌজিয়া জাফরিন প্রিয়ন্তী। শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে এসব অভিযোগ করেন প্রিয়ন্তী।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

প্রিয়ন্তী লেখেন, ‘দীর্ঘ ৭ বছর তার পিছনে হেঁটেছি। আমার মাদারীপুরের তিনজন ক্যান্ডিডেট ছিল কিন্তু তার মধ্যে থেকে তাকে বেছে নিয়েছিলাম নেতা হিসেবে, বাকি দুজন ভাই সেজন্য আমার প্রতি অনেক মনঃক্ষুন্ন ছিলেন। কিন্তু আমি আমার জায়গায় অবিচল ছিলাম; কারণ রাজনীতিতে জায়গা পাল্টানো শিখিনি। রাব্বানী ভাই সাবেক হওয়ার পরে এই লোককে আমার এলাকায় সদর নিয়ে গিয়ে আমাদের মেয়রের সঙ্গে সর্বপ্রথম আমিই পরিচয় করিয়ে দিয়েছি।

আমার রাজনৈতিক যত ভাই ছিল সবার কাছে বলছি আমি ভাইয়ের সঙ্গে রাজনীতি করি, আপনারা একটু দেখবেন ভাইয়ের বিষয়টা, মাদারীপুর থেকে নেতা হলে মাদারীপুরের ছোট ভাইরা ভালো থাকবো। আরও এমন কত কিছু করছি যা সেগুলো লিখে বলা সম্ভব না। আল্লাহ মনের আশা পূরণ করলো কিন্তু তারপর থেকে আকতার ভাইয়ের আসল রূপ বের হতে থাকলো।

লেখক দাদার বাসা থেকে যেদিন ফুল দিয়ে নিচে নামলাম তার সঙ্গে সেদিন সে সব পোস্টেড নেতার সামনে বসে আমাকে আর জিনিয়া আফ্রিনকে উদ্দেশ্য করে বললেন- কোনো হাই কমান্ডের ফোনে সে হল কমিটি দিবে না। দরকার হয় সে সাবেক হয়ে যাবে সে নেতা হয়ে গেছে তার নামের আগে সাবেক লেখা থাকবে তার সমস্যা নেই। আগে তার কর্মী হতে হবে। তাকে নেতা মেনে ধারণ করতে হবে তবেই সেই হলের নেত্রী বানাবে।

আমরা অবাক হয়ে রইলাম হলের কথা কই থেকে আসলো; নেতা হলো ১০ দিন মাত্র তখন। সেদিনের পর থেকে তার বিভিন্ন আবদার রাখতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তার সঙ্গে আমার দীর্ঘ ৭ বছরের রাজনীতিকে সে মুহূর্তেই অস্বীকার করেছেন। এমন কি সে আমার ছোট বোনদের বলে দিয়েছেন আমাকে সালাম দিলে পদ পাবে না তারা। আমার অপরাধ ছিল আমি তার কুপ্রস্তাব মেনে নেইনি।

ভেঙ্গে গেল ৭ বছরের ভাই-বোনের সম্পর্ক। একমাত্র ছাত্রী হলে ছাত্রলীগ থেকে ৩শ'র বেশি মেয়ে হলে সিট পেলেও আমাকে সে হলে উঠতে দেয়নি। আমার জন্য তার অনেক বড় ভাইরা বললেও সে তার কানে তোলেনি কারণ আমাকে তো এখন প্রয়োজন নেই কর্মী হিসেবে, এখন সে নেতা তার প্রয়োজন মেটাতে পারলেই কেবল সে প্রয়োজনবোধ করবেন। বাংলাদেশের এমন কোনো হল আছে কি যেখানে গেস্ট গিয়ে একদিন থাকতে পারে না। কিন্তু এই আমি প্রিয়ন্তী হলে একদিন গিয়েছিলাম দেখতে; হলে থাকার কেমন অনুভূতি। কিন্তু এই আকতার জানতে পেরে প্রোভোস্টকে চাপ দিয়ে সেই রাতেই আমাকে হল থেকে বের হতে বাধ্য করে।

আমার কি অপরাধ ছিল? আজ আপনারা তার কর্মী হিসেবে দাবি করে কমেন্ট করতেছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই এই আমার চাইতে বেশি রাজনীতি আপনারা তার সঙ্গে করেন নাই আর বেশি শ্রমও দেন নাই। সুতরাং আমার সঙ্গে সে যা করছে সেগুলো আপনাদের সঙ্গে হবে না এটার কিন্তু কোনো সিকিউরিটি নেই। আমার মতো বহু দুঃসময়ের ভাইদের সঙ্গেও সে বেইমানি করছে, সে অকৃতজ্ঞ, সে বেইমান।’

এদিকে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ন্তীর ফেসবুক টাইমলাইনে অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আকতার হোসাইন কোনো সাড়া দেননি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে কমিটি স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেনি কেন্দ্রীয় কমিটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।

গত ১ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ওই কমিটিতে ইব্রাহিম ফরাজীকে সভাপতি এবং আকতার হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

‘জবি ছাত্রলীগ সম্পাদক’ আকতারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে যা লিখলেন নেত্রী

 জবি প্রতিনিধি 
০১ জুলাই ২০২২, ১১:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসাইনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ এনেছেন সংগঠনটির একজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফৌজিয়া জাফরিন প্রিয়ন্তী। শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে এসব অভিযোগ করেন প্রিয়ন্তী।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

প্রিয়ন্তী লেখেন, ‘দীর্ঘ ৭ বছর তার পিছনে হেঁটেছি। আমার মাদারীপুরের তিনজন ক্যান্ডিডেট ছিল কিন্তু তার মধ্যে থেকে তাকে বেছে নিয়েছিলাম নেতা হিসেবে, বাকি দুজন ভাই সেজন্য আমার প্রতি অনেক মনঃক্ষুন্ন ছিলেন। কিন্তু আমি আমার জায়গায় অবিচল ছিলাম; কারণ রাজনীতিতে জায়গা পাল্টানো শিখিনি। রাব্বানী ভাই সাবেক হওয়ার পরে এই লোককে আমার এলাকায় সদর নিয়ে গিয়ে আমাদের মেয়রের সঙ্গে সর্বপ্রথম আমিই পরিচয় করিয়ে দিয়েছি।

আমার রাজনৈতিক যত ভাই ছিল সবার কাছে বলছি আমি ভাইয়ের সঙ্গে রাজনীতি করি, আপনারা একটু দেখবেন ভাইয়ের বিষয়টা, মাদারীপুর থেকে নেতা হলে মাদারীপুরের ছোট ভাইরা ভালো থাকবো। আরও এমন কত কিছু করছি যা সেগুলো লিখে বলা সম্ভব না। আল্লাহ মনের আশা পূরণ করলো কিন্তু তারপর থেকে আকতার ভাইয়ের আসল রূপ বের হতে থাকলো।

লেখক দাদার বাসা থেকে যেদিন ফুল দিয়ে নিচে নামলাম তার সঙ্গে সেদিন সে সব পোস্টেড নেতার সামনে বসে আমাকে আর জিনিয়া আফ্রিনকে উদ্দেশ্য করে বললেন- কোনো হাই কমান্ডের ফোনে সে হল কমিটি দিবে না। দরকার হয় সে সাবেক হয়ে যাবে সে নেতা হয়ে গেছে তার নামের আগে সাবেক লেখা থাকবে তার সমস্যা নেই। আগে তার কর্মী হতে হবে। তাকে নেতা মেনে ধারণ করতে হবে তবেই সেই হলের নেত্রী বানাবে।

আমরা অবাক হয়ে রইলাম হলের কথা কই থেকে আসলো; নেতা হলো ১০ দিন মাত্র তখন। সেদিনের পর থেকে তার বিভিন্ন আবদার রাখতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তার সঙ্গে আমার দীর্ঘ ৭ বছরের রাজনীতিকে সে মুহূর্তেই অস্বীকার করেছেন। এমন কি সে আমার ছোট বোনদের বলে দিয়েছেন আমাকে সালাম দিলে পদ পাবে না তারা। আমার অপরাধ ছিল আমি তার কুপ্রস্তাব মেনে নেইনি।

ভেঙ্গে গেল ৭ বছরের ভাই-বোনের সম্পর্ক। একমাত্র ছাত্রী হলে ছাত্রলীগ থেকে ৩শ'র বেশি মেয়ে হলে সিট পেলেও আমাকে সে হলে উঠতে দেয়নি। আমার জন্য তার অনেক বড় ভাইরা বললেও সে তার কানে তোলেনি কারণ আমাকে তো এখন প্রয়োজন নেই কর্মী হিসেবে, এখন সে নেতা তার প্রয়োজন মেটাতে পারলেই কেবল সে প্রয়োজনবোধ করবেন। বাংলাদেশের এমন কোনো হল আছে কি যেখানে গেস্ট গিয়ে একদিন থাকতে পারে না। কিন্তু এই আমি প্রিয়ন্তী হলে একদিন গিয়েছিলাম দেখতে; হলে থাকার কেমন অনুভূতি। কিন্তু এই আকতার জানতে পেরে প্রোভোস্টকে চাপ দিয়ে সেই রাতেই আমাকে হল থেকে বের হতে বাধ্য করে।

আমার কি অপরাধ ছিল? আজ আপনারা তার কর্মী হিসেবে দাবি করে কমেন্ট করতেছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই এই আমার চাইতে বেশি রাজনীতি আপনারা তার সঙ্গে করেন নাই আর বেশি শ্রমও দেন নাই। সুতরাং আমার সঙ্গে সে যা করছে সেগুলো আপনাদের সঙ্গে হবে না এটার কিন্তু কোনো সিকিউরিটি নেই। আমার মতো বহু দুঃসময়ের ভাইদের সঙ্গেও সে বেইমানি করছে, সে অকৃতজ্ঞ, সে বেইমান।’

এদিকে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ন্তীর ফেসবুক টাইমলাইনে অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আকতার হোসাইন কোনো সাড়া দেননি।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে কমিটি স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেনি কেন্দ্রীয় কমিটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।

গত ১ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ওই কমিটিতে ইব্রাহিম ফরাজীকে সভাপতি এবং আকতার হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন