শিফটের ‘শিকলে বন্দি’ ভর্তিচ্ছুর স্বপ্ন
jugantor
শিফটের ‘শিকলে বন্দি’ ভর্তিচ্ছুর স্বপ্ন

  রাহুল এম ইউসুফ, জাবি  

০২ আগস্ট ২০২২, ২১:২৪:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কিত শিফট পদ্ধতিতেই এবারো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা। প্রতি ইউনিটে ভিন্ন প্রশ্নে পাঁচ কিংবা তারও অধিক শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোনো শিফটে প্রশ্ন কঠিন আবার কোনো শিফটের প্রশ্ন সহজ হচ্ছে বলে অভিযোগ খোদ শিক্ষকদের। আর শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তো বেশ পুরোনো।

প্রতি বছর জাবির ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একই ইউনিটের কোনো এক শিফট থেকে অধিক শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় এসেছে আবার অনেক শিফট থেকে হাতেগোনা কয়েকজন মেধা তালিকায় আসে। ফলে শিক্ষার্থীদের ভর্তির চাকা বন্দি থাকে শিফটের ফাঁদে। এতে যেমন এদিকে হচ্ছে না মেধার সঠিক মূল্যায়ন অন্যদিকেও বাড়ছে বৈষম্য। কয়েক বছর থেকে এমন পরিস্থিতি ও বিতর্ক চলতে থাকলেও নিজস্ব স্বকীয়তায় ভর্তি পরীক্ষা নিতে বদ্ধপরিকর জাবি প্রশাসন।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ এবং আইন ও বিচার অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ৩৮৬ সিটের বিপরীতে ছেলে ও মেয়েদের আলাদা মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট পাঁচটি শিফটে অনুষ্ঠিত হওয়া ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের মতো এবারো বাজিমাত দেখিয়েছে ৫ম শিফটের পরীক্ষার্থীরা। ৫ম শিফট থেকে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে সর্বোচ্চ ১৭৫ জন, যা মোট আসনের ৪৪.৩ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রথম শিফটে সর্বনিম্ন মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে মাত্র ৩৪ জন, যা মোট আসনের মাত্র ৮.৮ শতাংশ। এছাড়া দ্বিতীয় শিফট থেকে ৫৯ জন, তৃতীয় শিফট থেকে ৫১ ও চতুর্থ শিফট থেকে ৬৭ জন মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে মেধা তালিকার শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে ছেলে ১১ জন ও মেয়ে ১৩ জন স্থান করেছে ৫ম শিফট থেকে। গত বছর ‘বি’ ইউনিটে ৫ম শিফট থেকেই মেধা তালিকায় এসেছিল ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী।

ভর্তি পরীক্ষার পরিদর্শক কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক যুগান্তরকে বলেন, ‘বি’ ইউনিটের প্রথম শিফটগুলোতে প্রশ্ন অত্যাধিক কঠিন হয়েছিল। শেষের শিফটের প্রশ্ন ছিল তুলনামূলক সহজ। এতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয় না বরং এতে বৈষম্য বাড়ে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

মঙ্গলবার সকালে সকালে ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়। পরীক্ষায় পাসের হার ৩৪ শতাংশ এবং পরীক্ষায় উপস্থিতির সংখ্যা ছিল ৮১ শতাংশ। বি ইউনিটের ৩৮৬টি আসনের দশগুণ পরীক্ষার্থীর মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

শিফট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে দুই ভর্তিচ্ছুর অবস্থান কর্মসূচি
এদিকে জাবির ভর্তি পরীক্ষায় শিফট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শোভন রায় ও তানভীর নেওয়াজ নামে দুই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘একক প্রশ্নপত্রে মূল্যায়ন চাই’ প্ল্যাকার্ড হাতে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। অবস্থানকারীদের মধ্যে শোভন রায়ের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘সি’ ইউনিটের চতুর্থ শিফট এবং ‘বি’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটে পরীক্ষায় অংশ নেন। এছাড়া তানভীর নেওয়াজের বাড়ি ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটে পরীক্ষায় অংশ নেন।

শোভন রায় বলেন, জাবির ভর্তি পরীক্ষার শিফট পদ্ধতি এক ধরনের বৈষম্য। এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর মেধার সঠিক যাচাই হয় না। কোনো শিফটের পরীক্ষা সবচেয়ে সহজ হয়, আবার কোনো শিফটে পরীক্ষা কঠিন হয়। ফলে জাবির চলমান শিফট পদ্ধতি বাতিল করা উচিত।

তানভীর নেওয়াজ বলেন, শিফট পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় বৈষম্যের শিকার হয়েছি। কারণ কোনো শিফটে প্রশ্ন সহজ হয়; আবার কোনো শিফটে কঠিন হয়। এতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব না। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শোভন রায় তার দাবিতে অবস্থান চলমান রেখেছিল।

এসব বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে শিফট পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা উদ্বোধনকালে তিনি বলেছিলেন, ভর্তি পরীক্ষায় শিফট পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল না করতে পারলেও কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছি। আগামী বছর শিফট কমিয়ে আনার বিষয়ে চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিফটের ‘শিকলে বন্দি’ ভর্তিচ্ছুর স্বপ্ন

 রাহুল এম ইউসুফ, জাবি 
০২ আগস্ট ২০২২, ০৯:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কিত শিফট পদ্ধতিতেই এবারো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা। প্রতি ইউনিটে ভিন্ন প্রশ্নে পাঁচ কিংবা তারও অধিক শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোনো শিফটে প্রশ্ন কঠিন আবার কোনো শিফটের প্রশ্ন সহজ হচ্ছে বলে অভিযোগ খোদ শিক্ষকদের। আর শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তো বেশ পুরোনো। 

প্রতি বছর জাবির ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একই ইউনিটের কোনো এক শিফট থেকে অধিক শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় এসেছে আবার অনেক শিফট থেকে হাতেগোনা কয়েকজন মেধা তালিকায় আসে। ফলে শিক্ষার্থীদের ভর্তির চাকা বন্দি থাকে শিফটের ফাঁদে। এতে যেমন এদিকে হচ্ছে না মেধার সঠিক মূল্যায়ন অন্যদিকেও বাড়ছে বৈষম্য। কয়েক বছর থেকে এমন পরিস্থিতি ও বিতর্ক চলতে থাকলেও নিজস্ব স্বকীয়তায় ভর্তি পরীক্ষা নিতে বদ্ধপরিকর জাবি প্রশাসন। 

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ এবং আইন ও বিচার অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ৩৮৬ সিটের বিপরীতে ছেলে ও মেয়েদের আলাদা মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট পাঁচটি শিফটে অনুষ্ঠিত হওয়া ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের মতো এবারো বাজিমাত দেখিয়েছে ৫ম শিফটের পরীক্ষার্থীরা। ৫ম শিফট থেকে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে সর্বোচ্চ ১৭৫ জন, যা মোট আসনের ৪৪.৩ শতাংশ। 

অন্যদিকে প্রথম শিফটে সর্বনিম্ন মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে মাত্র ৩৪ জন, যা মোট আসনের মাত্র ৮.৮ শতাংশ। এছাড়া দ্বিতীয় শিফট থেকে ৫৯ জন, তৃতীয় শিফট থেকে ৫১ ও চতুর্থ শিফট থেকে ৬৭ জন মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে মেধা তালিকার শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে ছেলে ১১ জন ও মেয়ে ১৩ জন স্থান করেছে ৫ম শিফট থেকে। গত বছর ‘বি’ ইউনিটে ৫ম শিফট থেকেই মেধা তালিকায় এসেছিল ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী।

ভর্তি পরীক্ষার পরিদর্শক কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক যুগান্তরকে বলেন, ‘বি’ ইউনিটের প্রথম শিফটগুলোতে প্রশ্ন অত্যাধিক কঠিন হয়েছিল। শেষের শিফটের প্রশ্ন ছিল তুলনামূলক সহজ। এতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয় না বরং এতে বৈষম্য বাড়ে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

মঙ্গলবার সকালে সকালে ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়। পরীক্ষায় পাসের হার ৩৪ শতাংশ এবং পরীক্ষায় উপস্থিতির সংখ্যা ছিল ৮১ শতাংশ। বি ইউনিটের ৩৮৬টি আসনের দশগুণ পরীক্ষার্থীর মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। 

শিফট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে দুই ভর্তিচ্ছুর অবস্থান কর্মসূচি
এদিকে জাবির ভর্তি পরীক্ষায় শিফট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শোভন রায় ও তানভীর নেওয়াজ নামে দুই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘একক প্রশ্নপত্রে মূল্যায়ন চাই’ প্ল্যাকার্ড হাতে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। অবস্থানকারীদের মধ্যে শোভন রায়ের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘সি’ ইউনিটের চতুর্থ শিফট এবং ‘বি’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটে পরীক্ষায় অংশ নেন। এছাড়া তানভীর নেওয়াজের বাড়ি ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটে পরীক্ষায় অংশ নেন।

শোভন রায় বলেন, জাবির ভর্তি পরীক্ষার শিফট পদ্ধতি এক ধরনের বৈষম্য। এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর মেধার সঠিক যাচাই হয় না। কোনো শিফটের পরীক্ষা সবচেয়ে সহজ হয়, আবার কোনো শিফটে পরীক্ষা কঠিন হয়। ফলে জাবির চলমান শিফট পদ্ধতি বাতিল করা উচিত। 

তানভীর নেওয়াজ বলেন, শিফট পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় বৈষম্যের শিকার হয়েছি। কারণ কোনো শিফটে প্রশ্ন সহজ হয়; আবার কোনো শিফটে কঠিন হয়। এতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব না। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শোভন রায় তার দাবিতে অবস্থান চলমান রেখেছিল।

এসব বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

তবে শিফট পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা উদ্বোধনকালে তিনি বলেছিলেন, ভর্তি পরীক্ষায় শিফট পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল না করতে পারলেও কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছি। আগামী বছর শিফট কমিয়ে আনার বিষয়ে চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন