শিক্ষার্থী ভর্তি নেবে হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট
jugantor
শিক্ষার্থী ভর্তি নেবে হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট

  বাকৃবি প্রতিনিধি   

০৫ আগস্ট ২০২২, ১৮:০২:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

৪ বছর পর শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ২৮ জুলাই মোট ৪ জন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে এ ইনস্টিটিউটটি।

যার মধ্যে কৃষি, মাৎস্যবিজ্ঞান, পশুপালন এবং কৃষি অর্থনীতি অনুষদ থেকে একজন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ২৩ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশাবাদী হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ২২ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) চত্বরে ইনস্টিটিউটটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দীর্ঘ ৪ বছরে শুধু পরিচালক পরিবর্তন হয়েছে। ইনস্টিটিউটের অবকাঠামোগত কাজ এখনো আটকে আছে কেবল নাম ফলকেই, তৈরি হয়নি কোনো ভবন।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. সুবাস চন্দ্র দাস বলেন, আমি কিছু দিন আগেই পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। এখানে অনেক কাজ করার আছে। ইতোমধ্যে ৪ জন কর্মচারী নিযুক্ত আছে যার মধ্যে ২ জন স্থায়ী ও বাকি ২ জন অস্থায়ী। তবে ইনস্টিটিউটটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজন আরও লোকবল। শিক্ষক নিয়োগের যে বিজ্ঞপ্তিটি আটকে ছিল সেটি বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসানের সহায়তায় সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। আমার সঙ্গে সহযোগী পরিচালক হিসেবে আছেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. উত্তম কুমার সরকার। আমরা চেষ্টা করছি ইনস্টিটিউটটিকে সচল করার।

একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী বছরের ২৩ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করা হবে বলে আশাবাদী। এই ইনস্টিটিউট থেকে প্রথমে শুধু স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এজন্য সিলেবাস তৈরির কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। এছাড়া এই ইনস্টিটিউটের একটি অধ্যাদেশ তৈরির কাজ চলমান আছে। দুটি কমিটি এখানে কাজ করছে। পরবর্তীতে একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের মিটিংয়ে এ বিষয়গুলো তোলা হবে। সেখানে বিষয়গুলো পাশ হলে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইনস্টিটিউটটির প্রথম প্রস্তাবনায় বাজেট ছিল ৫০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে নতুন প্রস্তাবনায় বাজেট এক হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এখনো পাশ হয়নি কোনো বাজেট।

তবে ড. সুবাস বলেন, এই ইনস্টিটিউটটির উপকেন্দ্র হিসেবে যে ৪টি জায়গা (কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, বগুড়া) নিবার্চন করে দিয়েছে ইউজিসি। সেসব জায়গার উপযুক্ততা যাচাই করা হবে। উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য ইউজিসিতে ৪ কোটি ৭১ লক্ষ টাকার একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই প্রস্তাবনাটি পাশ হবে।

অভিযোগ রয়েছে, ইনস্টিটিউটটির শিক্ষক নিয়োগে মেধা তালিকায় ১১তম স্থান অর্জনকারীকে নিয়োগ না দিয়ে ২২তম স্থান অর্জনকারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথমসারির মেধা তালিকায় থাকা ৭ শতাংশ শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক ড. সুবাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলাদা বোর্ড আছে। তারা নিয়োগের জন্যে সার্কুলার দেয়। তারপর প্রার্থীরা আবেদন করেন। নিয়োগ বোর্ড বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেয়। এক্ষেত্রে শুধু তার একাডেমিক ফলাফলকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অনেকগুলো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে নিয়োগ একদম স্বচ্ছ হয়েছে বলে দাবি করেন পরিচালক ড. সুবাস।

তিনি বলেন, কিছু দিন পরে নিয়োগ প্রাপ্তদের কাজের অগ্রগতি দেখে সবাই বুঝতে পারবে যে নিয়োগ স্বচ্ছ হয়েছে। যারা মেধাবী, যারা হাওড় ও চরের কাজ করতে পারবেন তাদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী ভর্তি নেবে হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট

 বাকৃবি প্রতিনিধি  
০৫ আগস্ট ২০২২, ০৬:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

৪ বছর পর শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ২৮ জুলাই মোট ৪ জন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে এ ইনস্টিটিউটটি। 

যার মধ্যে কৃষি, মাৎস্যবিজ্ঞান, পশুপালন এবং কৃষি অর্থনীতি অনুষদ থেকে একজন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ২৩ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশাবাদী হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ২২ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) চত্বরে ইনস্টিটিউটটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দীর্ঘ ৪ বছরে শুধু পরিচালক পরিবর্তন হয়েছে। ইনস্টিটিউটের অবকাঠামোগত কাজ এখনো আটকে আছে কেবল নাম ফলকেই, তৈরি হয়নি কোনো ভবন। 

ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. সুবাস চন্দ্র দাস বলেন, আমি কিছু দিন আগেই পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। এখানে অনেক কাজ করার আছে। ইতোমধ্যে ৪ জন কর্মচারী নিযুক্ত আছে যার মধ্যে ২ জন স্থায়ী ও বাকি ২ জন অস্থায়ী। তবে ইনস্টিটিউটটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজন আরও লোকবল। শিক্ষক নিয়োগের যে বিজ্ঞপ্তিটি আটকে ছিল সেটি বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসানের সহায়তায় সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। আমার সঙ্গে সহযোগী পরিচালক হিসেবে আছেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. উত্তম কুমার সরকার। আমরা চেষ্টা করছি ইনস্টিটিউটটিকে সচল করার।

একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী বছরের ২৩ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করা হবে বলে আশাবাদী। এই ইনস্টিটিউট থেকে প্রথমে শুধু স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এজন্য সিলেবাস তৈরির কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। এছাড়া এই ইনস্টিটিউটের একটি অধ্যাদেশ তৈরির কাজ চলমান আছে। দুটি কমিটি এখানে কাজ করছে। পরবর্তীতে একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের মিটিংয়ে এ বিষয়গুলো তোলা হবে। সেখানে বিষয়গুলো পাশ হলে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করব। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইনস্টিটিউটটির প্রথম প্রস্তাবনায় বাজেট ছিল ৫০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে নতুন প্রস্তাবনায় বাজেট এক হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এখনো পাশ হয়নি কোনো বাজেট। 

তবে ড. সুবাস বলেন, এই ইনস্টিটিউটটির উপকেন্দ্র হিসেবে যে ৪টি জায়গা (কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, বগুড়া) নিবার্চন করে দিয়েছে ইউজিসি। সেসব জায়গার উপযুক্ততা যাচাই করা হবে। উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য ইউজিসিতে ৪ কোটি ৭১ লক্ষ টাকার একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই প্রস্তাবনাটি পাশ হবে। 

অভিযোগ রয়েছে, ইনস্টিটিউটটির শিক্ষক নিয়োগে মেধা তালিকায় ১১তম স্থান অর্জনকারীকে নিয়োগ না দিয়ে ২২তম স্থান অর্জনকারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথমসারির মেধা তালিকায় থাকা ৭ শতাংশ শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। 

অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক ড. সুবাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলাদা বোর্ড আছে। তারা নিয়োগের জন্যে সার্কুলার দেয়। তারপর প্রার্থীরা আবেদন করেন। নিয়োগ বোর্ড বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেয়। এক্ষেত্রে শুধু তার একাডেমিক ফলাফলকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অনেকগুলো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে নিয়োগ একদম স্বচ্ছ হয়েছে বলে দাবি করেন পরিচালক ড. সুবাস। 

তিনি বলেন, কিছু দিন পরে নিয়োগ প্রাপ্তদের কাজের অগ্রগতি দেখে সবাই বুঝতে পারবে যে নিয়োগ স্বচ্ছ হয়েছে। যারা মেধাবী, যারা হাওড় ও চরের কাজ করতে পারবেন তাদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর