রাবিতে শেখ কামালের জন্মদিন পালন
jugantor
রাবিতে শেখ কামালের জন্মদিন পালন

  রাবি প্রতিনিধি  

০৫ আগস্ট ২০২২, ২০:২৪:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আধুনিক খেলাধুলার পথিকৃৎ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শুক্রবার বেলা ১১টায় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল আলোচকের বক্তব্যে রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফায়েক উজ্জামান বলেন, ২৬ বছর বয়সে শেখ কামাল নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে একজন দেশের জন্য কতটুকু করতে পারেন? আমরা তার জীবনভিত্তিক আলোচনায় গেলে বুঝতে পারব, এ সময়ের মধ্যে তার অর্জনগুলো কী?

তিনি বলেন, শেখ কামাল ভালো খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। এ কথাগুলো সবসময় বললেও, আমরা একটা কথা বলতে সবসময় ভুলে যাই যে, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন।

সামরিক বাহিনীতে শেখ কামালের বর্ণাঢ্য জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ৬১ জন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে শেখ কামাল ছিলেন একজন। পরবর্তীকালে প্রথম ব্যাচে তাদের কমিশন দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেখ কামাল সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হয়েছিলেন। ওই ৬১ জনের প্রশিক্ষণ শেষে যখন তাদের পোস্টিং দেওয়া হয়, তখন শেখ কামালের পোস্টিং হয়েছিল প্রধান সেনাপতির এডিসি হিসেবে। তিনি এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে যোগদানকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। সেনাবাহিনীর চাকরি তার জন্য উপযুক্ত নয়- এমনটি মনে করে তিনি ১৯৭২ সালের মাঝামাঝি সেনাবাহিনীর চাকরি ত্যাগ করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ফিরে আসেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শেখ কামাল সেনাবাহিনীতে না থাকলেও শেখ জামাল সেনাবাহিনীতেই ছিলেন এবং সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনই তাকে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর পরিবার সম্পর্কে রটানো গুজবের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি।

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, এই নশ্বর পৃথিবীতে সবকিছু শেষ হয়ে গেলেও মানুষের স্বপ্ন বেঁচে থাকে। আমি মনে করি, স্বপ্ন, সভ্যতা এবং ভবিষ্যৎ হচ্ছে মানুষের মনের গন্তব্য। কিছু মানুষ তাদের সময়কে অতিক্রম করে মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন করে নেন। সেরকমই একজন মানুষ হলেন আমাদের শেখ কামাল। মাত্র ২৬ বছর বয়সী একজন যুবক তার সময়কে অতিক্রম করে নিজেকে একটা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

উপাচার্য আরও বলেন, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং রাজনীতির মিশেল ঘটেছে শেখ কামালের জীবনে। তাই অল্প সময়ে তাকে ব্যাখ্যা করা দুরূহ একটি কাজ। শেখ কামালকে জানতে হলে তাকে নিয়ে পড়াশোনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমি শেখ কামাল সম্পর্কিত তিনটা বই পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি। প্রথমটি হলো, আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখা ‘শেখ কামাল যদি আজ বেঁচে থাকতেন’, দ্বিতীয়টি হলো- সুজাত মনসুরের লেখা ‘একজন শেখ কামাল’ এবং তৃতীয়টি হলো- শরৎ বাবলার লেখা ‘শেখ কামাল: ক্রীড়াঙ্গনের ধূমকেতু’।

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রিড়া বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল- ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক (অব.) অবাইদুর রহমান প্রামাণিক।

এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাবিতে শেখ কামালের জন্মদিন পালন

 রাবি প্রতিনিধি 
০৫ আগস্ট ২০২২, ০৮:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আধুনিক খেলাধুলার পথিকৃৎ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শুক্রবার বেলা ১১টায় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল আলোচকের বক্তব্যে রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফায়েক উজ্জামান বলেন, ২৬ বছর বয়সে শেখ কামাল নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে একজন দেশের জন্য কতটুকু করতে পারেন? আমরা তার জীবনভিত্তিক আলোচনায় গেলে বুঝতে পারব, এ সময়ের মধ্যে তার অর্জনগুলো কী?

তিনি বলেন, শেখ কামাল ভালো খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। এ কথাগুলো সবসময় বললেও, আমরা একটা কথা বলতে সবসময় ভুলে যাই যে, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন।

সামরিক বাহিনীতে শেখ কামালের বর্ণাঢ্য জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ৬১ জন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে শেখ কামাল ছিলেন একজন। পরবর্তীকালে প্রথম ব্যাচে তাদের কমিশন দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেখ কামাল সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হয়েছিলেন। ওই ৬১ জনের প্রশিক্ষণ শেষে যখন তাদের পোস্টিং দেওয়া হয়, তখন শেখ কামালের পোস্টিং হয়েছিল প্রধান সেনাপতির এডিসি হিসেবে। তিনি এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে যোগদানকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। সেনাবাহিনীর চাকরি তার জন্য উপযুক্ত নয়- এমনটি  মনে করে তিনি ১৯৭২ সালের মাঝামাঝি সেনাবাহিনীর চাকরি ত্যাগ করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ফিরে আসেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শেখ কামাল সেনাবাহিনীতে না থাকলেও শেখ জামাল সেনাবাহিনীতেই ছিলেন এবং সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনই তাকে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর পরিবার সম্পর্কে রটানো গুজবের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি।  

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, এই নশ্বর পৃথিবীতে সবকিছু শেষ হয়ে গেলেও মানুষের স্বপ্ন বেঁচে থাকে। আমি মনে করি, স্বপ্ন, সভ্যতা এবং ভবিষ্যৎ হচ্ছে মানুষের মনের গন্তব্য। কিছু মানুষ তাদের সময়কে অতিক্রম করে মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন করে নেন। সেরকমই একজন মানুষ হলেন আমাদের শেখ কামাল। মাত্র ২৬ বছর বয়সী একজন যুবক তার সময়কে অতিক্রম করে নিজেকে একটা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

উপাচার্য আরও বলেন, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং রাজনীতির মিশেল ঘটেছে শেখ কামালের জীবনে। তাই অল্প সময়ে তাকে ব্যাখ্যা করা দুরূহ একটি কাজ। শেখ কামালকে জানতে হলে তাকে নিয়ে পড়াশোনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমি শেখ কামাল সম্পর্কিত তিনটা বই পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি। প্রথমটি হলো, আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখা ‘শেখ কামাল যদি আজ বেঁচে থাকতেন’, দ্বিতীয়টি হলো- সুজাত মনসুরের লেখা ‘একজন শেখ কামাল’ এবং তৃতীয়টি হলো- শরৎ বাবলার লেখা ‘শেখ কামাল: ক্রীড়াঙ্গনের ধূমকেতু’।

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রিড়া বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. সালাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল- ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক (অব.) অবাইদুর রহমান প্রামাণিক।

এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর