শেকৃবিতে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ
jugantor
শেকৃবিতে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

  শেকৃবি প্রতিনিধি  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:১৭:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

শেকৃবি

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে(শেকৃবি) কর্মরত কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওই শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসারের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।

জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এমএ মান্নানের বিভাগীয় কক্ষে ৩০-৪০ জন কর্মকর্তা শোডাউন দিয়ে প্রবেশ করেন। কর্মকর্তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে, মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং টেবিলে রাখা ফাইনাল পরীক্ষার মূল্যায়নপত্র এলোমেলো করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবার শিক্ষক এম এ মান্নান বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে তার শিশু সন্তানের চিকিৎসা নিতে গেলে মেডিকেল অফিসারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। সেই ঘটনার জের ধরে পরেরদিন কর্মকর্তারা শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক।

শেখ কামাল অনুষদ ভবনে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী কিছু শিক্ষার্থীও ঘটনার সত্যতা দাবি করে বলেন, সেদিন ৩০-৪০ জন কর্মকর্তা শোডাউন দিয়ে অনুষদে প্রবেশ করে এবং মান্নান স্যারের চেম্বার যায়। পরে চেম্বার থেকে অনেক জোরে জোরে শব্দ আসছিল বলেও জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে সহকারী অধ্যাপক মান্নান বলেন, আমি আমার ছোট বাচ্চাকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলাম। পথে আমার বিভাগের রাহাত নামে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা হয়। যেহেতু মেডিকেল সেন্টার খোলা ছিল আমি আর রাহাত মেডিকেল অফিসে যাই। কিন্তু রুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কর্তব্যরত ডাক্তার আমাকে তুমি সম্বোধন করে ছুটির দিনে এসেছি বলে খারাপ ব্যবহার করেন। ঘটনার এক পর্যায়ে আমার ছাত্র রাহাতের সঙ্গে ডাক্তারের বেশ কথা কাটাকাটি হয় এবং ডাক্তার আমার বাচ্চার জন্যে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। বিষয়টি ওখানেই শেষ হয়ে যায়।

তিনি আরও দাবি করেন, কিন্তু পরদিন সোমবার আমার পরীক্ষা শেষে ডিপার্টমেন্ট আসার পর ৩০-৪০ জন কর্মকর্তা এসে মারমুখী হয়। পরীক্ষা নেওয়ার ফাইনাল খাতাসহ আমার রুমের আসবাবপত্র উলটপালট করে এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় আমি প্রক্টরকে কল দিতে চাইলে তারা আমার মোবাইল কেড়ে নেয় এবং যাওয়ার সময় সেটি ছুড়ে মারে।

ওই ঘটনায় প্রশাসনিক বিচার পাওয়ার জন্যে ইতোমধ্যেই আমার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি।

এ ব্যাপারে মেডিকেল সেন্টারের অফিসার ডা. খন্দকার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, মান্নান স্যার এবং আমার মধ্যে ঘটনা ছিল অপ্রত্যাশিত। এর কারণ ও ব্যাখা দিতে আমি অপারগ। শনিবার আমার কার্যদিবস না থাকলেও উপাচার্য স্যারের অনুরোধে আমি উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি। এমন একটা দিনেই ২৪ সেপ্টেম্বর মান্নান সাহেব আমাদের মেডিকেল সেন্টারে আসেন এবং তার বাচ্চার চিকিৎসার কথা বলেন। আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি শনিবার(ছুটির দিন) এসেছেন, সমস্যা নেই আপনার সমস্যার কথা বলেন। এটাই ছিল আমার পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কথা। এ কথা বলায় মান্নান সাহেব এবং রাহাত নামের তার এক শিক্ষার্থী আমাকে স্টুপিড বলে সম্বোধন করে এবং দু'জনেই জোরে জোরে কথা বলা শুরু করেন। তখন আমি তাদের আর কিছু বলার সুযোগ পাইনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরে সোমবার রেজিস্ট্রার আমাকে অভিযোগপত্র দিতে বললে আমি ওইদিন বিকালে একটি অভিযোগপত্র রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেই।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম এ কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি তাকে কেন অভিযোগপত্র জমা দিতে বলব? তার অভিযোগপত্র আমি পেয়েছি। কিন্তু এমন কিছু জমা দেওয়ার জন্য আমি তাকে বলিনি।

সোমবার কর্মকর্তারা শিক্ষকের রুমে গিয়ে হেনস্তা করার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. খন্দকার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, কর্মকর্তারা ৫-১০ জন আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাদের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর জন্য নিষেধ করি। পরে কি হয়েছে জানি না।

এদিকে, ড. এমএ মান্নানের বিভাগীয় কক্ষে গিয়ে হেনস্থার অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইলিয়াসুর রহমান বলেন, আমি এ ঘটনা সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। আমার জানা মতে ওইদিন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যাপারে কাউন্সিল অ্যাফেয়ার্স শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. অলিউল আলম টুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হারুনুর রশীদ বলেন, এরকম একটি বিষয় কখনোই প্রত্যাশিত না। তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে কথা বলা কঠিন। উপাচার্য স্যার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আর তদন্ত হলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শেকৃবিতে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

 শেকৃবি প্রতিনিধি 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শেকৃবি
প্রতীকী ছবি

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে(শেকৃবি) কর্মরত কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ওই শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসারের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। 

জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এমএ মান্নানের বিভাগীয় কক্ষে ৩০-৪০ জন কর্মকর্তা শোডাউন দিয়ে প্রবেশ করেন। কর্মকর্তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে, মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং টেবিলে রাখা ফাইনাল পরীক্ষার মূল্যায়নপত্র এলোমেলো করেন বলে অভিযোগ ওঠে। 

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবার শিক্ষক এম এ মান্নান বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে তার শিশু সন্তানের চিকিৎসা নিতে গেলে মেডিকেল অফিসারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। সেই ঘটনার জের ধরে পরেরদিন কর্মকর্তারা শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন  বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক। 

শেখ কামাল অনুষদ ভবনে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী কিছু শিক্ষার্থীও ঘটনার সত্যতা দাবি করে বলেন, সেদিন ৩০-৪০ জন কর্মকর্তা শোডাউন দিয়ে অনুষদে প্রবেশ করে এবং মান্নান স্যারের চেম্বার যায়।  পরে চেম্বার থেকে অনেক জোরে জোরে শব্দ আসছিল বলেও জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে সহকারী অধ্যাপক মান্নান বলেন, আমি আমার ছোট বাচ্চাকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলাম। পথে আমার বিভাগের রাহাত নামে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা হয়। যেহেতু মেডিকেল সেন্টার খোলা ছিল আমি আর রাহাত মেডিকেল অফিসে যাই। কিন্তু রুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কর্তব্যরত ডাক্তার আমাকে তুমি সম্বোধন করে ছুটির দিনে এসেছি বলে খারাপ ব্যবহার করেন। ঘটনার এক পর্যায়ে আমার ছাত্র রাহাতের সঙ্গে ডাক্তারের বেশ কথা কাটাকাটি হয় এবং ডাক্তার আমার বাচ্চার জন্যে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। বিষয়টি ওখানেই শেষ হয়ে যায়।

তিনি আরও দাবি করেন, কিন্তু পরদিন সোমবার আমার পরীক্ষা শেষে ডিপার্টমেন্ট আসার পর ৩০-৪০ জন কর্মকর্তা এসে মারমুখী হয়। পরীক্ষা নেওয়ার ফাইনাল খাতাসহ আমার রুমের আসবাবপত্র উলটপালট করে এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় আমি প্রক্টরকে কল দিতে চাইলে তারা আমার মোবাইল কেড়ে নেয় এবং যাওয়ার সময় সেটি ছুড়ে মারে। 

ওই ঘটনায় প্রশাসনিক বিচার পাওয়ার জন্যে ইতোমধ্যেই আমার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি।

এ ব্যাপারে মেডিকেল সেন্টারের অফিসার ডা. খন্দকার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, মান্নান স্যার এবং আমার মধ্যে ঘটনা ছিল অপ্রত্যাশিত। এর কারণ ও ব্যাখা দিতে আমি অপারগ।  শনিবার আমার কার্যদিবস না থাকলেও উপাচার্য স্যারের অনুরোধে আমি উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি।  এমন একটা দিনেই ২৪ সেপ্টেম্বর মান্নান সাহেব আমাদের মেডিকেল সেন্টারে আসেন এবং তার বাচ্চার চিকিৎসার কথা বলেন।  আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি শনিবার(ছুটির দিন) এসেছেন, সমস্যা নেই আপনার সমস্যার কথা বলেন। এটাই ছিল আমার পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কথা।  এ কথা বলায় মান্নান সাহেব এবং রাহাত নামের তার এক শিক্ষার্থী আমাকে স্টুপিড বলে সম্বোধন করে এবং দু'জনেই জোরে জোরে কথা বলা শুরু করেন। তখন আমি তাদের আর কিছু বলার সুযোগ পাইনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরে সোমবার রেজিস্ট্রার আমাকে অভিযোগপত্র দিতে বললে আমি ওইদিন বিকালে একটি অভিযোগপত্র রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেই।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম এ কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি তাকে কেন অভিযোগপত্র জমা দিতে বলব? তার অভিযোগপত্র আমি পেয়েছি। কিন্তু এমন কিছু জমা দেওয়ার জন্য আমি তাকে বলিনি। 

সোমবার কর্মকর্তারা শিক্ষকের রুমে গিয়ে হেনস্তা করার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. খন্দকার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, কর্মকর্তারা ৫-১০ জন আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাদের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর জন্য নিষেধ করি। পরে কি হয়েছে জানি না।

এদিকে, ড. এমএ মান্নানের বিভাগীয় কক্ষে গিয়ে হেনস্থার অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইলিয়াসুর রহমান বলেন, আমি এ ঘটনা সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। আমার জানা মতে ওইদিন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ ব্যাপারে কাউন্সিল অ্যাফেয়ার্স শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. অলিউল আলম টুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হারুনুর রশীদ বলেন, এরকম একটি বিষয় কখনোই প্রত্যাশিত না। তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে কথা বলা কঠিন। উপাচার্য স্যার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আর তদন্ত হলে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন