রাবির উর্দু বিভাগে ফল ‘বিপর্যয়’, আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা
jugantor
রাবির উর্দু বিভাগে ফল ‘বিপর্যয়’, আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা

  রাবি প্রতিনিধি  

০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯:২২:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের সমাধান না পাওয়ায় আমরণ অনশনে বসেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশনে বসেন তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের প্রকাশিত ফলাফল পুরোটাই অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বিভাগের শিক্ষকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ফল বিপর্যয় করে দিয়েছেন। এর সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাবেন তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মাদুর পেতে ‘সময় নয় ফলাফল চাই’, ‘প্রাপ্য ফলাফল বুঝিয়ে দিতে হবে’, ‘হুমকি-ধমকির বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার হাতে নিয়ে অনশনে বসেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। রৌদ্রের মাঝে অনশনে বসায় ২৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে নুসরাত প্রিয়া এবং মনিজা আক্তার মনি নামের দুজন শিক্ষার্থীকে অসুস্থ হয়ে পরতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৩৫ জন নিয়মিত ও তিনজন অনিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তাদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা গত ১২ এপ্রিল শুরু হয়ে শেষ হয় ২১ এপ্রিল। পরে দীর্ঘ চারমাস পর গত ২৫ আগস্ট ফল প্রকাশিত হয়। এতে ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জনের ফল প্রকাশিত হয়। ৬ জন নিয়মিত ও দুজন অনিয়মিত শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশিত হয়নি এবং ছয়জন শিক্ষার্থী একটি করে কোর্সে ফেল করেছেন।

বাকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধুমাত্র তিনজন শিক্ষার্থী সিজিপিএ-৩ এর উপরে আর সবাই সিজিপিএ-৩ এর নিচে পেয়েছেন। এছাড়া প্রথম সেমিস্টারের সিজিপিএ-৩.৯১ পেয়ে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী নিশাত তাসনিম দ্বিতীয় সেমিস্টারে পেয়েছেন সিজিপিএ-৩.২৮, প্রথম সেমিস্টারে সিজিপিএ-৩.৮৩ পেয়ে দ্বিতীয় হওয়া শিক্ষার্থী ফৌজিয়া তুরানী দ্বিতীয় সেমিস্টারে পেয়েছেন সিজিপিএ-২.৭৩ এবং প্রথম সেমিস্টারে সিজিপিএ-৩.৭৫ পেয়ে তৃতীয় হওয়া শিক্ষার্থী মো. আলম দ্বিতীয় সেমিস্টারে পেয়েছেন সিজিপিএ-২.৬২।

জানতে চাইলে অনশনে বসা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বায়জীদ হোসেন বলেন, আমাদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের প্রকাশিত ফলাফল পুরোটাই অসঙ্গতিপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের ফলাফল খারাপ করে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবাদে দীর্ঘদিন যাবত আমরা আন্দোলন করে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও প্রায় ১৫ বার আলোচনায় বসেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোনো সমাধান পাইনি। আমরা সেটির সমাধানের জন্যই মূলত আজকে অনশনে বসেছি। আমরা আমাদের ফল পুনর্মূল্যায়ন চাই।

সুরাইয়া আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমদের প্রাপ্য ফলাফল ফিরিয়ে না দেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের আমরণ অনশন চালিয়ে যাব। যদি এখানের সবার মধ্যে একজনও বেঁচে থাকে, সেই একজনই এখান থেকে তার প্রাপ্য ফল নিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যা বলছে সেটাই আমিও জানি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য আমাদের ডেকেছেন। আমরা আলোচনা করে এ বিষয়টির সমাধান করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শুনেছি। বিষয়টি আমি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যকে জানিয়েছি। এ বিষয়টি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম স্যার দেখছেন। তিনি বিভাগের সভাপতি ও শিক্ষকদের ডেকেছেন। সোমবার তিনি এ বিষয়ে আলোচনায় বসবেন।

সার্বিক বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য সোমবার বিকালে আমি বিভাগের সভাপতিসহ সব শিক্ষককে ডেকে এনেছিলাম। শিক্ষার্থীদের আস্থার জায়গাটি ফিরিয়ে এনে তাদের নিয়ে শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার জন্য শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভাগের শিক্ষকরা এটি করতে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে দিতে বাধ্য হবে। তার আগেই শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করব তারা শ্রেণিকক্ষে যাক। আমরা বিষয়টি সমাধানে প্রস্তুতি নিয়েছি।

এর আগে ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে সভাপতির কক্ষে তালা দেওয়ার পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য উর্দু বিভাগ বন্ধ ঘোষণাসহ নানাভাবে আন্দোলন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

রাবির উর্দু বিভাগে ফল ‘বিপর্যয়’, আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা

 রাবি প্রতিনিধি 
০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের সমাধান না পাওয়ায় আমরণ অনশনে বসেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশনে বসেন তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের প্রকাশিত ফলাফল পুরোটাই অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বিভাগের শিক্ষকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ফল বিপর্যয় করে দিয়েছেন। এর সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাবেন তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মাদুর পেতে ‘সময় নয় ফলাফল চাই’, ‘প্রাপ্য ফলাফল বুঝিয়ে দিতে হবে’, ‘হুমকি-ধমকির বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার হাতে নিয়ে অনশনে বসেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। রৌদ্রের মাঝে অনশনে বসায় ২৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে নুসরাত প্রিয়া এবং মনিজা আক্তার মনি নামের দুজন শিক্ষার্থীকে অসুস্থ হয়ে পরতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৩৫ জন নিয়মিত ও তিনজন অনিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তাদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা গত ১২ এপ্রিল শুরু হয়ে শেষ হয় ২১ এপ্রিল। পরে দীর্ঘ চারমাস পর গত ২৫ আগস্ট ফল প্রকাশিত হয়। এতে ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জনের ফল প্রকাশিত হয়। ৬ জন নিয়মিত ও দুজন অনিয়মিত শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশিত হয়নি এবং ছয়জন শিক্ষার্থী একটি করে কোর্সে ফেল করেছেন।
 
বাকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধুমাত্র তিনজন শিক্ষার্থী সিজিপিএ-৩ এর উপরে আর সবাই সিজিপিএ-৩ এর নিচে পেয়েছেন। এছাড়া প্রথম সেমিস্টারের সিজিপিএ-৩.৯১ পেয়ে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী নিশাত তাসনিম দ্বিতীয় সেমিস্টারে পেয়েছেন সিজিপিএ-৩.২৮, প্রথম সেমিস্টারে সিজিপিএ-৩.৮৩ পেয়ে দ্বিতীয় হওয়া শিক্ষার্থী ফৌজিয়া তুরানী দ্বিতীয় সেমিস্টারে পেয়েছেন সিজিপিএ-২.৭৩ এবং প্রথম সেমিস্টারে সিজিপিএ-৩.৭৫ পেয়ে তৃতীয় হওয়া শিক্ষার্থী মো. আলম দ্বিতীয় সেমিস্টারে পেয়েছেন সিজিপিএ-২.৬২।

জানতে চাইলে অনশনে বসা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বায়জীদ হোসেন বলেন, আমাদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের প্রকাশিত ফলাফল পুরোটাই অসঙ্গতিপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের ফলাফল খারাপ করে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবাদে দীর্ঘদিন যাবত আমরা আন্দোলন করে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও প্রায় ১৫ বার আলোচনায় বসেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোনো সমাধান পাইনি। আমরা সেটির সমাধানের জন্যই মূলত আজকে  অনশনে বসেছি। আমরা আমাদের ফল পুনর্মূল্যায়ন চাই।

সুরাইয়া আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমদের প্রাপ্য ফলাফল ফিরিয়ে না দেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের আমরণ অনশন চালিয়ে যাব। যদি এখানের সবার মধ্যে একজনও বেঁচে থাকে, সেই একজনই এখান থেকে তার প্রাপ্য ফল নিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যা বলছে সেটাই আমিও জানি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য আমাদের ডেকেছেন। আমরা আলোচনা করে এ বিষয়টির সমাধান করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শুনেছি। বিষয়টি আমি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যকে জানিয়েছি। এ বিষয়টি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম স্যার দেখছেন। তিনি বিভাগের সভাপতি ও শিক্ষকদের ডেকেছেন। সোমবার তিনি এ বিষয়ে আলোচনায় বসবেন।

সার্বিক বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য সোমবার বিকালে আমি বিভাগের সভাপতিসহ সব শিক্ষককে ডেকে এনেছিলাম। শিক্ষার্থীদের আস্থার জায়গাটি ফিরিয়ে এনে তাদের নিয়ে শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার জন্য শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভাগের শিক্ষকরা এটি করতে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে দিতে বাধ্য হবে। তার আগেই শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করব তারা শ্রেণিকক্ষে যাক। আমরা বিষয়টি সমাধানে প্রস্তুতি নিয়েছি।

এর আগে ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে সভাপতির কক্ষে তালা দেওয়ার পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য উর্দু বিভাগ বন্ধ ঘোষণাসহ নানাভাবে আন্দোলন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর