সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা সুবিধা নেয়ার জন্য অস্ত্র ধরেনি: অধ্যাপক নাসিম

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৮, ২০:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

  জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ। ছবি: যুগান্তর

সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা দেশ থেকে কোনো সুবিধা নেয়ার জন্য অস্ত্র ধরেনি। বরং দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু আমাদের স্বাধীন দেশের যুবকরা আবারও সেই আবদ্ধ বৈষম্যের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন।

বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ‘শিক্ষক শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চ’ এর ব্যানারে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্যতা দিয়েই দেশের সেবা করতে চায়। তাদের সেই সুযোগ দেয়া হোক। কোটার নামে অবিচার বন্ধ করে অতিদ্রুত তা সংস্কার করা হোক।’

এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিত্যাগ করে সাধারণ ছাত্রের ভূমিকা গ্রহণ করে এককাতারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রতিবাদে অভিভাবক সমাবেশে পুলিশি হামলা, দুই অধ্যাপক ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতিকে আটকের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষক শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চ’। বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নতুন কলাভবন প্রাঙ্গণে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

এ সময় বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহম্মাদ দিদারের সঞ্চালনায় সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে লেকচার দেয়া নয়। শিক্ষার্থীদের দেখাশোনা করা, সঠিক পথ নির্দেশনা দেয়া। এই কর্তব্য পালন করতে গিয়েও শিক্ষকরা পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক দেশে এই সংস্কৃতি কাম্য হতে পারে না।’

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘শুরু থেকেই সরকার কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে ‘কোটাবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে কোটাধারীদের উসকে দিচ্ছে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে সরকার দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। জনগণ এর প্রতিবাদ করবে। এই প্রতিবাদ অন্যায়, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ও বাংলাদেশকে রক্ষার প্রতিবাদ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক রায়হান রাইন, জাবি সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মো. আশিকুর রহমান, ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মাহাথির মুহাম্মদ, ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আতাউল হক চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।