‘থানা ছিল আমার জন্য সেকেন্ড জাহান্নাম’

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৮, ২১:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ঢাবির শহীদ মিনারে ফারুককে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মরিয়ম। ছবি-যুগান্তর

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কোটা সংস্কারের পক্ষে কর্মসূচিতে গিয়ে হামলাকারীদের হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন মরিয়ম মান্নান নামে বেসরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী।

এ সময় শাহবাগ থানায় আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেন পুলিশের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের মিছিল শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি।

মরিয়ম দাবি করে বলেন, তাকে সেদিন অটোরিকশায় তুলে শাহবাগ থানায় নেওয়া পর্যন্ত যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, সেদিন শহীদ মিনারের সামনে কিছু লোক ফারুক ভাইকে প্রচুর মারতেছে। তখন এ দৃশ্য দেখে আমি ফারুক ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে যাই। 

মরিয়ম বলেন, আমি ফারুক ভাইকে একটি রিকশায় তুলতে চাইলে ওই ছেলেরা ফারুক ভাইকে মেরে একটি মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়।  এরপর তারা আমাকেও একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেয়। 

তিনি বলেন, সিএনজির প্রত্যেকটা মুহূর্ত ছিল আমার কাছে জাহান্নাম। আমার সঙ্গে যেটা হয়েছে, তা আপনাদের সামনে বলতে আমার খুব খারাপ লাগছে।

কারা তাকে সিএনজিতে নিয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে মরিয়ম জানান, তাদের তিনি চেনেন না। তবে ফারুককে যারা মারধর করেছিলেন, তারাই তাকে থানায় নিয়ে যান।

মরিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ উদ্দিন বাবু তা ‘মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দেন।

মরিয়ম বলেন, আমি ভাবছি, হয়ত থানায় গেলে আমি সেইফ থাকব। কিন্তু না, থানা ছিল আমার জন্য সেকেন্ড জাহান্নাম।

শাহবাগ থানায় তাকে নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছিল অভিযোগ করে তিনি বলেন, পুলিশ মাদকসেবী প্রমাণের চেষ্টা চালিয়েছিল। এমনকি আমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত করতে দেয়নি। 


বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে মরিয়ম

মরিয়ম বলেন, আমি যখন বারবার কান্না করে বলতেছি, আমার বাসায় একটা ফোন দিতে দেন, আমি বাসায় যাব। দিচ্ছে না, বলে কী- ‘নেতা হবা? নেতা হতে হলে জেল খাটতে হয়’।

তিনি বলেন, তারা আমাকে স্বীকার করাচ্ছে, কেন্দ্রীয় কমিটির (পরিষদ) অনেক গোপন খবর আমি জানি। তাদেরকে তা দিতে হবে।

রাতভর রাখার পরের দিন দুপুরে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান মরিয়ম।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বৃহস্পতিবার বিকালে ওই ছাত্রীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, থানায় নিয়ে মরিয়মকে কোনো ধরনের নির্যাতন কিংবা ভয়-ভীতি দেখানো হয়নি। তার অভিযোগ ভিত্তিহীন।


ফারুককে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন মরিয়ম

মরিয়মকে কেন-কীভাবে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি তাৎক্ষণিকভাবে এর উত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি জেনে তাকে বলতে হবে।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ গত ২ জুলাই শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালনে গিয়ে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর হামলার শিকার হয়।