কোটা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি ছাত্রলীগের

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৮, ১৯:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

  জাবি প্রতিনিধি

হামজা রহমান, মাসুদ রানা, ইশতিয়াক হারুন, জাহিদ হাসান ও রনি ভৌমিক

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি হওয়া ৩ ছাত্রের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। 

রোববার বিকালে ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর ধর্ষণের হুমকিদাতাদের শাস্তি ও অভিযুক্তদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে হুমকির শিকার ছাত্রী উল্লেখ করেন, আমি কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার আছি। তাই কোটা সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া একটি চক্র সংঘবদ্ধভাবে আমাকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুধু ধর্ষণের হুমকিই নয়, তারা আমার পরিবার নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছে। 

অভিযোগপত্রে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪১তম ব্যাচের ছাত্র হামজা রহমান অন্তরের নেতৃত্বে বাংলা বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের ইশকাত হারুন আকিব, আইআইটি বিভাগের জাহিদ হাসান ইমন, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মাসুদ রানা এবং রনি ভৌমিক তাকে এরকম হুমকি দেয় বলে উল্লেখ করা হয়।

এরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিরোধী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নিজের সম্ভ্রম ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে উল্লেখ করে অভিযুক্তদের বহিষ্কার ও ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়নের দাবি জানিয়েছেন ওই ছাত্রী।

এর আগে এক ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগে হামজা রহমান অন্তরকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া হল ক্যান্টিনে চাঁদা দাবিসহ ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে এলাকায় নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার জুলকারনাইন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আমরা ইতিমধ্যেই তদন্তের কাজ শুরু করেছি।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। 

এ বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্য মঞ্চের মুখপাত্র ও দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মীদের সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা দফায় দফায় হামলা করলেও সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

যে কারণে তারা আজ বেপরোয়া আচরণ করছে। তারই বহিঃপ্রকাশ হলো-এমন ধর্ষণের হুমকি। এটা অত্যন্ত ন্যাক্কাজনক ব্যাপার। প্রশাসনের উচিত অবশ্যই হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া, বলেন ওই শিক্ষক।

অভিযুক্ত হামজা রহমান অন্তর বলেন, এসব আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার। আমি কাউকে ধর্ষণের হুমকি দেইনি।