রাজশাহী ব্যুরো

যানজট ও আসন বিভ্রাটে ২০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা বঞ্চিত

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী

যানজট ও আসন বিভ্রাটে পড়ে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২০০ পরীক্ষার্থীর বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন এবারের মতো বিলীন হয়ে গেছে। সময়মতো কেন্দ্রে হাজির হতে না পারায় পরীক্ষা দেয়া হয়নি তাদের।

পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন যানজটের কবলে পড়ে সময়মতো কেন্দ্রে হাজির হতে পারেননি। আর প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী আসন বিভ্রাটে পড়ে পরীক্ষায় বসতে পারেননি।

এই ৫০ পরীক্ষার্থীর আসন ছিল রাজশাহী কোর্ট কলেজে। কিন্তু একটি অখ্যাত ওয়েবসাইটে তাদের আসন দেখানো হয় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে।

ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ.ই.ম নেছার উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে সারা দেশের পরীক্ষার্থীদের আসন বিন্যাস তুলে ধরা হয়েছে।

কিন্তু কোর্ট কলেজ কেন্দ্রের প্রায় ৫০ জন পরীক্ষার্থী বলেছেন, ওই আসন বিন্যাসের সাথে তাদের আসন মেলেনি।

কোর্ট কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী হাবিবা খাতুন ও মো. আসাদুজ্জামান জানান, ওয়েবসাইটের আসন বিন্যাস দেখে তারা অন্তত ৫০ জন পরীক্ষার্থী রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রে সময়মতোই পৌঁছান। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের আসন কোর্ট কলেজে। সেখান থেকে দ্রুত তারা কোর্ট কলেজে যান। কিন্তু ততক্ষণে সকাল ১০টা বেজে গেছে। এ জন্য তাদের কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব কোর্ট কলেজের অধ্যক্ষ একেএম কামরুজ্জামান বলেন, দেরি করে আসায় ম্যাজিস্ট্রেট তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেননি। আমি সরকারি কর্ম কমিশনে ফোন করে অনুমতি চেয়েছি। কিন্তু অনুমতি দেয়া হয়নি। তাই কিছু সংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি।

কেন্দ্র সচিব জানান, এই কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন এক হাজার ৮৪২ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ৩২৩ জন।

এদিকে রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রেও সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৫০ পরীক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের ভেতরেই ঢুকতে দেয়নি। এই পরীক্ষার্থীরা পড়েছিলেন যানজটের কবলে। কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়ায় পরীক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন। তবুও পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ মেলেনি তাদের।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী কলেজের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়ার দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনেক পরীক্ষার্থী স্লোগান দিচ্ছেন। কেউ কেউ গেট খুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছেন পুলিশকে। আবার কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন হতাশায়।

কিন্তু কর্তৃপক্ষের এক কথা, সরকারি কর্ম কমিশনের বেধে দেয়া নিয়মের বাইরে গিয়ে তাদের পরীক্ষায় বসতে দেয়া হবে না।

বগুড়া থেকে রাজশাহী কলেজে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থী শিলা খাতুন জানান, নাটোর-বগুড়া সড়কের রণবাঘা নামক স্থানে একটি ট্রাক উল্টে সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সড়কের দুই পাশে দেখা দেয় ভয়াবহ যানজট। এই যানজটে আটকে পড়ে বগুড়া থেকে রাজশাহী আসা বাসগুলো। আটকে পড়েন পরীক্ষার্থীরাও।

পরে সড়ক থেকে ট্রাক সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে আসতে কয়েক মিনিট দেরি হয়ে যায়। তাই রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রের অন্তত ১৫০ জন বিসিএস পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

শিলা খাতুন নামে এক পরীক্ষার্থী জানান, তিনি যে বাসে এসেছেন সে বাসেই অন্তত ৩০ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।

আরেক পরীক্ষার্থী জুবায়ের হাসান জানান, শুক্রবার ভোরে তিনি বগুড়া থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার বাসেও অন্তত ৩৫ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। কয়েক মিনিট দেরি হওয়ায় তারাও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তাদের অনেকেরই ছিল এবার পরীক্ষা দেয়ার শেষ সুযোগ।

কান্নায় ভেঙে পড়ে বগুড়ার পরীক্ষার্থী আফসানা আফরিন বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তান আমি। উৎকোচ দিয়ে চাকরি নেয়ার সামর্থ্য নেই। তাই অনেক কষ্ট করে ভালোভাবে পড়াশোনা করেছিলাম। প্রস্তুতি নিয়েছিলাম বিসিএস পরীক্ষার। ভেবেছিলাম, বিসিএস ক্যাডার হয়ে দুঃখ ঘুচাবো বাবা-মায়ের। কিন্তু যানজটে আটকে গেলো আমার সেই রঙিন স্বপ্ন।

জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হবিবুর রহমান বলেন, পরীক্ষা দিতে হলে সকাল ১০টার মধ্যে অন্তত কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতর ঢুকতে হবে। এটা নিয়ম। কিছু পরীক্ষার্থী এই সময়ের মধ্যে আসতে না পারায় তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

তিনি জানান, কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ হাজার ৭৫০ জন। এর মধ্যে প্রায় ২০০ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×