ধর্মঘটে অচল শাবি, ছাত্রলীগের দ্বিমুখী নীতি

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ১৯:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

  শাবি প্রতিনিধি

বৃষ্টি উপেক্ষা করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীদের অবস্থান। ছবি: যুগান্তর

ঢাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ডাকা ছাত্র ধর্মঘটে বেশিরভাগ বিভাগেই কোনো ক্লাস পরীক্ষা হয়নি।

অন্যদিকে বিপরীতে অবস্থান করার ঘণ্টাখানেক পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে দ্বিমুখী নীতির পরিচয় দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ। সেই সঙ্গে সন্দেহভাজন নয়জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয় তারা।

রোববার শাবি ক্যাম্পাসে এসব ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, রোববার সকাল ৭টা থেকেই তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় জোটের নেতাকর্মীরা। এসময় তাদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়।

প্রথম থেকেই প্রধান ফটকের পার্শ্ববর্তী যাত্রী ছাউনিতে অবস্থান নেয় শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। জোটের নেতাকর্মীরা বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকলে পাশ থেকে স্লোগানকে ব্যঙ্গ ও নানারকম স্লেজিং করতে থাকে শাখা ছাত্রলীগের জুনিয়র নেতাকর্মীরা।

এসময় পাশে বেশ কঙেকজন সিনিয়র নেতাকর্মী থাকলেও তারা বাধা না দিয়ে উল্টো উপভোগ করতে থাকেন। জুনিয়র নেতাকর্মীরা সাংস্কৃতিক কর্মীদের উস্কানি দিয়ে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন।

ঘন্টাখানেক পর শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান আসলে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। স্লেজিং বাদ দিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে স্লোগান দিতে থাকে নেতাকর্মীরা।

এসময় ইমরান খানকেও আন্দোলনের সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছি। যদিও সকালে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেয়ার আগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিনকে দেখা যায় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীদেরকে শাসাতে। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হলে সহ্য করা হবে না।

এছাড়া সকালে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আন্দোলনকারীদের প্রধান ফটক খুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলেও শিক্ষার্থীরা ফটক খুলে দেয়নি। যার ফলে সকালের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল করতে পারেনি।

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে অন্তত ৯জন সন্দেহভাজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এদের সবাই বহিরাগত ও থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম।

দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের পর বেলা ১টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রধান ফটক থেকে রওনা হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে জোটের আহ্বায়ক জুয়েল রানা পরবর্তী কর্মসূচি জানিয়ে দেয়া হবে বলে দিনের মতো কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন।