সাংবাদিকদের ওপর হামলায় বিসিজেএফ ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির নিন্দা

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৮, ২২:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

  ঢাবি প্রতিনিধি

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্বপালনকালে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, ধানমণ্ডি ও জিগাতলা এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্টস’ ফেডারেশন (বিসিজেএফ) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।  

পাশাপাশি তথ্যের অবাধ নিশ্চয়তা এবং সত্য উন্মোচনে সব পক্ষকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান তারা।  সোমবার পৃথক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্টস’ ফেডারেশনের প্রতিবাদ: দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে কর্মরত সাংবাদিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বিসিজেএফ’র আহ্বায়ক আসিফ ত্বাসীন ও সদস্যসচিব মাহমুদুল হাসান নয়ন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, ধানমণ্ডি ও জিগাতলা এলাকায় সংবাদ ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে গত তিন দিনে ক্ষমতাসীন দল ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীদের হামলায় অন্তত ৩০ জন সংবাদকর্মী আহত ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।  

সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়েছে, মেমোরি কার্ড কেড়ে নেয়া হয়েছে, ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছে। বাধা এসেছে টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারে। পরিচয়পত্র দেখে সাংবাদিক নিশ্চিত হয়েও ঘটেছে হামলার ঘটনা। 

সাংবাদিকদের ওপর এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্বর হামলা এবং পেশাগত দায়িত্বপালনে বাধা প্রদানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে গুজব তৈরির ক্ষেত্র বন্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানাই।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকেও গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির ঘটনা ঘটেছে, যা একটি যৌক্তিক, শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা বলে মনে করি। 

এর মাধ্যমে একটি কুচক্রীমহল গণমাধ্যমকর্মীদের আন্দোলনকারীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। এছাড়া সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস করারও একটি হীন প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের গুজব তৈরির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নিন্দা, এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আসিফ ত্বাসীন ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নয়ন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।  আমরা মনে করি, এতে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।  

এ ধরনের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করছে না। সাংবাদিকতার উপযুক্ত পরিবেশ, তথ্যের অবাধ নিশ্চয়তা এবং সত্য উন্মোচনে আমরা সব পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করছি। 

বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসব ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। পাশাপাশি গুজব না ছড়িয়ে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।