সরকারকে ফের আলটিমেটাম আন্দোলনকারীদের

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  ঢাবি প্রতিনিধি

মানববন্ধনে শিক্ষার্থী ও পরিবারের সদস্যরা। ছবি-সংগৃহীত

কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচার এবং পাঁচ দফা দাবির আলোকে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন প্রকাশে সরকারকে ফের আলটিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। 

৩১ আগষ্টের মধ্যে এই তিন দফা দাবি মানা না হলে ফের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এসময় তারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সমাবেশে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আসে। আন্দোলনরীদের পক্ষে এ ঘোষণা দেন পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা। 

সমাবেশে আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা, জালাল হোসেন প্রমুখ অংশ নেন। 

এছাড়াও কর্মসূচিতে আটককৃত কোটা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, রাতুল সরকারের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, সারা দেশে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ওপর পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বর্বর ন্যাক্কারজনক হামলা এবং প্রহসনমূলক মামলায় অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

তিনি বলেন, ৩১ আগস্টের মধ্যে আমাদের ৩ দফা দাবি মেনে নেওয়া না হলে দাবি আদায়ে ছাত্র সমাজ সারাদেশে আবার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। 

বিন ইয়ামিন মোল্লা সমাবেশের বক্তব্যে বলেন, সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিন। মেনে না নিলে এই আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

সমাবেশ পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক নিয়ে লেখার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপর অন্যায়ভাবে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেয়ার সামিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘৃণা প্রকাশ করছি। 

এসময় তারা শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায়ভাবে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১১টার আগেই রাজু ভাস্কর্যে মৌলবাদ বিরোধী সমাবেশের আহ্বান করে ছাত্রলীগ। তারা সেখানে অবস্থান নেয়। 

পরে আন্দোলনকারীরা অপরাজেয় বাংলায় গেলে সেখানেও ছাত্রলীগের অবস্থানের কারণে সমাবেশ করতে পারেনি। এরপর বেলা সাড়ে ১২টায় জাদুঘরের সামনে সমাবেশ করেন তারা। 

সেখানে প্রায় ১৫মিনিটি অবস্থান করেন তারা। এসময় ছাত্রলীগ মৌলবাদ বিরোধী মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে গেলে তারা তড়িঘড়ি করে সমাবেশ শেষ করে দেন।