জাবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরে ফের উত্তেজনা

  জাবি প্রতিনিধি ০৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

জাবি
ফাইল ছবি- যুগান্তর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতা নীলাদ্রী শেখর মজুমদারকে মারধর করেছেন সংগঠনটির জুনিয়র কর্মীরা। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা বিরাজমান করছে।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে শুক্রবার দিবাগত রাত পর্যন্ত বটতলা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজমান করে।

পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাখা ছাত্রীগের শীর্ষ নেতাদের ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

মারধরের শিকার নীলাদ্রী শেখর মজুমদার শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৪২ ব্যাচের ও শহীদ সালাম বরকত হলের আবাসিক ছাত্র।

নীলাদ্রী শেখর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের রাজনীতি করে। অপরদিকে তাকে মারধর করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের কয়েক জুনিয়র ছাত্রলীগকর্মী।

মারধরে শিকার ও প্রত্যক্ষদর্শী বরাত দিয়ে মারধরে ৪৪ ব্যাচের কাজল হাসান (ইংরেজি), আশিক (চারুকলা) ও সজিবের নাম জানা গেছে।

মারধরের সময় তাদের সঙ্গে ওই হলের আরও অন্তত ১০-১২ জন জুনিয়রকর্মী সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও জানান তারা। এরা সবাই শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের রাজনীতি করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ ঘটনা পর শহীদ সালাম বরকত হলের ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী বঙ্গবন্ধু হলের মারধরে দোষীদের মারতে বটতলায় এগিয়ে আসে।

অপরদিকে বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগ নেতারা তাদের প্রতিহত করার জন্য দেশীয় আস্ত্র নিয়ে প্রস্তুতি নেয়। এতে বটতালা এলাকা ও বঙ্গবন্ধু হলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় বটতালার সব খাবারের দোকান।

মারধরের শিকার নিলাদ্রী শেখর মজুমদার বলেন, আমি ও আমার দুজন বন্ধু বটতলায় খাবার কিনতে যাই। হঠাৎ পেছন থেকে অন্তত ১৫ জন জুনিয়র এসে আমাকে মারধর শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা নিলাদ্রীকে এলোপাতাড়িভাবে বেধড়ক মারপিট করেছে। মারধরের ফলে নিলাদ্রী হতে ও পায়ে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে। রাত ১দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার ও পরীক্ষার জন্য সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ও মারধরের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দোষীদের বিরুদ্ধ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, পূর্ব শত্রু তার জের ধরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে শাখা ছাত্রলীগের হল কমিটি না হওয়া, চলমান ভর্তি পরীক্ষায় ব্যঘাত ঘটানো, শিক্ষক রাজনীতিতে ইস্যু তৈরি, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের একাধিক ফৌজদারী অপরাধের বিচার না হওয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ছে বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে আল বেরুনী হল ও মীর মশাররফ হোসেন হলের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে অর্ধশত আহত হয়। তার দুদিন আগে রোববার রাতে বটতালায় বঙ্গবন্ধু হল ও মওলানা ভাসানী হল ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×