Logo
Logo
×
   

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষা ছুটিতে গিয়ে ফেরেননি ইবির ১৫ শিক্ষক

Icon

আবির হোসেন, ইবি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১ পিএম

শিক্ষা ছুটিতে গিয়ে ফেরেননি ইবির ১৫ শিক্ষক

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষা ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরেননি অন্তত ১৫ শিক্ষক। নির্ধারিত সময় শেষে না ফেরায় কয়েকজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অনেকের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে করা হয়েছে কমিটি। তবে অধিকাংশ শিক্ষকদের বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোটা অঙ্কের টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বেশিরভাগেরই পাওনার চূড়ান্ত হিসাব দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এদিকে শিক্ষা ছুটি নিয়ে কর্মস্থলে যোগদান না করাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হিসেবে দেখছেন সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ছুটির নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের দুই বছর পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার ছুটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে মাস্টার্সের জন্য দুই বছর সবেতনে ছুটি এবং মাস্টার্স শেষে পিএইচডি করলে আরও তিন বছর সবেতনে ছুটি পাবেন। পিএইচডির জন্য সবেতনে চার বছরের ছুটি এবং সুপারভাইজারের সুপারিশে আরও এক বছরের সবেতন ছুটি পাবেন। সবমিলিয়ে একজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচ বছরের সবেতন ছুটি পান। এরপর কোনো শিক্ষক চাইলে আরও দুই বছরের জন্য বিনাবেতনে ছুটি নিতে পারবেন। ছুটি শেষে তাকে তিন মাসের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। ছুটির ক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই সার্ভিস বন্ড দিতে হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের শিক্ষক সেল ও একাডেমিক শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা ৪১৫ জন। এর মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ১৭ জন। যাদের মধ্যে একজন বাদে বাকি সবাই সবেতনে ছুটিতে আছেন। এছাড়া সম্প্রতি শিক্ষা ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ শিক্ষক কর্মস্থলে ফেরেনি। তাদের অধিকাংশেরই যোগদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিঠি দিলেও তারা যোগদান করেননি। তাদের বেশিরভাগেরই কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোটা অঙ্কের টাকা পাওনা রয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন শিক্ষকের কাছে পাওনা আছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা। এছাড়া বাকিদের পাওনার চূড়ান্ত হিসাব দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শিক্ষা ছুটি শেষে না ফেরাদের তালিকায় রয়েছেন- ইংরেজির সজীব কুমার ঘোষ, আইনের জহুরুল ইসলাম, ইইইর আশরাফুন্নাহার হেনা, সিএসইর এবিএম শওকত আলী ও মুনতাসির রহমান, আইসিটির বিকাশ চন্দ্র সিংহ, শিপন মিয়া ও তারেকুজ্জামান, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তির মাসিহউল আলম, বায়োটেকের রুবাইয়াত বিন রহমান ও মোনান শেখ, পরিসংখ্যানের শারমিন আক্তার সুমী, ইয়াসিন আলী পাড় ও আলতাফ হোসেন রাসেল এবং রসায়নের ইয়াছির আরাফাত। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান না করায় তাদের মধ্যে তিনজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মিজানূর রহমান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষকদের বেশি অভিজ্ঞ করার জন্য শিক্ষা ছুটি দেওয়া হয়। যাতে তারা কর্মস্থলে ফিরে শিক্ষার্থীদের আরও ভালো সার্ভিস দিতে পারেন; কিন্তু তারা ছুটি নিয়ে বাইরের দেশে গিয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা পেয়ে আর ফেরেন না। সময়মতো কর্মস্থলে না ফিরলে তাদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক যুগান্তরকে বলেন, সর্বশেষ সিন্ডিকেটে তিনজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের দেনা-পাওনা থাকায় বিষয়গুলো দীর্ঘায়িত হয়ে যায়। নতুন প্রশাসন বিষয়গুলো সমাধানে কাজ শুরু করেছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .