Logo
Logo
×
   

শিক্ষাঙ্গন

চবিতে শিক্ষার্থীকে হুমকির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

Icon

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

চবিতে শিক্ষার্থীকে হুমকির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

ফাইল ছবি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে হুমকি ও শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত আল মামুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও খেলাধুলাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কাছে এ ঘটনার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রায়হান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৯ জুন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে সৃষ্ট পালটা-পালটি সংঘর্ষের জেরে ৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আল মামুন ও তার সহযোগীরা রায়হানকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে ডেকে সুয়েজ গেট পেরিয়ে ব্রিকফিল্ড এলাকায় নিয়ে যান।

সেখানে তার মোবাইল ফোন নিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং ছাত্রত্ব বাতিল, বহিষ্কার ও ‘মাটিতে পুঁতে ফেলার’ হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক একটি ভিডিও বক্তব্য ধারণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভবিষ্যতে তার ওপর কোনো ধরনের হামলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে রায়হান বলেন, আমি আমার এক বন্ধুকে নিয়ে সেন্ট্রাল ফিল্ডে ছিলাম। এমন সময় মামুন ও তার সঙ্গে থাকা পাঁচ-ছয়জন আমাকে দেখে ডাক দেন এবং একপাশে নিয়ে যান। আগের খেলার বিরোধ নিয়ে আমাকে জেরা করে জোরপূর্বক প্রথমে সুয়েজ গেট, পরে ব্রিকফিল্ড এলাকায় নিয়ে যান।

সেখানে চবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও সূর্যসেন হল সংসদের ভিপি ফাহিমকে নিয়ে আগের ঝামেলার বিষয়ে জানতে চান। এরপর বলেন, তোরা কেন মারামারি করলি, তোদের কে লিড দিয়েছে? একপর্যায়ে তারা আমাকে মারধর করে, ফোন ছিনিয়ে নেয়, ছাত্রত্ব বাতিল ও আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে জোরপূর্বক আমার ভিডিও বক্তব্য ধারণ করে।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আল মামুন বলেন, গত ৩০ জুন আমাকে স্টেশনে কয়েকজন মিলে মারধর করে। সেখানে রায়হানও ছিল। আমিসহ কয়েকজন আজ তাকে ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করি। তবে তাকে মারধর বা হুমকি-ধমকি দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা। এ ছাড়া জোরপূর্বক ভিডিও করার অভিযোগও মিথ্যা। তাকে শুধু ওই বিষয়ে জিজ্ঞেস করার পর চলে যেতে বলি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, রায়হান নামের এক শিক্ষার্থী আমাকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছে। একটি অভিযোগপত্রও দিয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৯ জুন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় মাঠে বসাকে কেন্দ্র করে চবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখারুল ইসলাম জিসান এবং ছাত্রদল নেতা আল মামুনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ৩০ জুন রাতে জিরো পয়েন্টে উভয়পক্ষের মধ্যে ফের বাগ্বিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ হয়।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .