Logo
Logo
×
   

ক্যাম্পাস

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এখন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক

Icon

জাককানইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এখন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক

তোফায়েল আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে পদ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

ছাত্রলীগের আইন অনুষদ কমিটির সহ-সভাপতি পদে থাকা তোফায়েল আহমেদ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন ছাত্রদল কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৬৮ সদস্যের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে চারুকলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ হাসানকে (মামুন সরকার) সদস্য সচিব করা হয়।

কমিটি ঘোষণার পর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তোফায়েল আহমেদের নাম প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি আইন অনুষদ ছাত্রলীগের কমিটিতে ৭ নম্বর সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ঘোষিত কমিটিতে ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।

আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মো. মহিন উদ্দিন অভিযোগ করেন, তোফায়েল আহমেদ তার বিরুদ্ধে মামলা করার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেছেন এবং মামলা না দেওয়ার শর্তে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, মহিন উদ্দিন আমার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য বা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, সেই সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাব ছিল সর্বত্র। ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের বাস্তবতার কারণে কৌশলগতভাবে তৎকালীন ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ছাত্রত্ব হারানোর আশঙ্কায় অনেক সময় পরিস্থিতির সঙ্গে সমঝোতা করে চলতে হয়েছে। কখনো কখনো জোরপূর্বকও তাদের কর্মসূচিতে নেওয়া হতো, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও জানেন।

তিনি আরও দাবি করেন, আমি ২০২২ সাল থেকে, এমনকি ২০২৪ সালের আগেও প্রকাশ্যে ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। এ সংক্রান্ত সব ধরনের প্রমাণপত্র আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, কমিটি গঠনের আগে বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। তোফায়েল আহমেদ জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেছেন। এসব বিবেচনায় তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। এরপরও যদি তার ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো সক্রিয় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .