Logo
Logo
×
   

ক্যাম্পাস

আন্দোলনকারীদের ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট, জাবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার

Icon

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

আন্দোলনকারীদের ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট, জাবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিরূপ ও অনভিপ্রেত মন্তব্য এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এক ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার শারাফাত শারিক ফেসবুক অ্যাকাউন্টে করা দুটি পোস্ট নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তিনি প্রথম পোস্টে লেখেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ব্যবহার করে, দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে, শত শত নিরীহ মানুষের লাশের ওপর পা মেরে রাজনীতি করা জুলাই জঙ্গিদের পতন সমাগত। সত্য প্রকাশিত হবেই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সত্যবাদীদের সঙ্গে আছেন। জুলাই মুর্দাবাদ, মুক্তিযুদ্ধ জিন্দাবাদ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’

আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে মুক্তিযুদ্ধ কোনো বিতর্কিত বিষয় নয়। যেই গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার জন্য- আমি কে তুমি কে ,রাজাকার রাজাকার স্লোগান দিয়েছে ও অতি আবেগী সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপথগ্রস্ত করেছে, বিএনপির মতো তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধপন্থি দল তা সমর্থন দিয়ে প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছে, তারা সমান দোষে দুষ্ট। বামপন্থিদের একটা বড় অংশ জুলাই প্রতারণায় ছাত্রদল ও তথাকথিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরেজমিনে ভূমিকা রেখেছে। এরাও সেই নিকৃষ্টতম স্লোগান ডিফেন্ড করেছে এবং নির্লজ্জের মতো এখনো করছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘পট পরিবর্তন হলে আপনাদের সবাইকে এক মাপকাঠিতেই দেখা হবে। আপনারা সবাই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী। বিশ্বাসঘাতক। লক্ষ লক্ষ শহীদ, হাজার হাজার ধর্ষিতার প্রশ্নের জবাবে আপনারা কী বলবেন ঠিক করে রাখেন। আল্লাহ বুঝ দান করুক।’

পোস্ট দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে শেরে-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

অফিস আদেশে বলা হয়, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০২৪–২০২৫) ছাত্র শারাফাত শারিক, শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীকে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮’-এর ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

পৃথক আরেক আদেশে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই ’২৪ গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিরূপ ও অনভিপ্রেত মন্তব্য, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণসহ অভিযোগের পূর্বাপর সব তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিমকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং আইসিটি সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. রেজাউল আলম। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার।

এছাড়াও গত বুধবার একই অভিযোগে ভিত্তিতে শারাফাত শারিক রোহানকে পুলিশে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন,  ঘটনাটি আইসিটি আইনের পরিপন্থি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .