গ্যাস সংকটে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ
উত্তরা (পূর্ব থানা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর উত্তরাতে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক বাসা-বাড়িতে চুলায় গ্যাস না থাকায় রান্না করা যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন অনেকেই। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। বেশি বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন সেক্টর ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। টানা কয়েক দিন ধরেই গ্যাস তীব্র সংকটে ভুগছেন গ্রাহকরা।
উত্তরা ৬নং সেক্টরের বাসিন্দা হালিমা বেগম (৪০) বলেন, সাধারণত ভোরে গ্যাস থাকলে সারা দিনের রান্না সেরে নেওয়া যায়; কিন্তু গত তিন দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একেবারেই গ্যাস নেই। ফলে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।
একই অবস্থা দেখা গেছে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরগুলোতে। উত্তরা ৪নং সেক্টরের বাসিন্দা আমেনা খাতুন জানান, গ্যাস না থাকায় সকালে শুধু বিস্কুট দিয়ে নাস্তা হয়েছে। দোকানে ব্রেডও পাওয়া যায়নি। রুটি-পরোটার হোটেলগুলোতে লম্বা লাইন।
একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক রাইসা আমিন জানান, গ্যাস না থাকায় স্কুলের ডে-কেয়ারে শিশুদের জন্য গত দুই দিন রান্না বন্ধ রয়েছে। শিশুদের হোটেল থেকেই খাবার কিনে দিতে হচ্ছে। এদিকে এলপি গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সংকটে বাড়ির বয়স্ক ও শিশু সদস্যদের খাবার ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। এ সুযোগে ইনডাকশন চুলা ও রাইস কুকারের দামও বেড়েছে। অনেককে বাড়তি দামে এসব কিনতে হচ্ছে।
উত্তরা ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নাম্বার সেক্টরের বাসিন্দারা বলেন, গত এক মাস ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। আর গত তিন দিন একেবারেই গ্যাস নেই। হোটেলেও দীর্ঘ লাইনের কারণে খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। একটা গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। যে সিলিন্ডারের দাম ছিল ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এখন দাম বেড়ে গেছে- তাও আমরা দোকানে গ্যাস পাচ্ছি না।
উত্তরাসহ এর আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। অনেক বাসায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বলছে না। কোথাও ভোর বা গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস মিললেও তা দিয়ে স্বাভাবিক রান্না সম্ভব হচ্ছে না।
পাইপলাইনে গ্যাসের সংকট বাড়ায় এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নির্ধারিত দামে অনেক জায়গায় এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন জোন-৯-এর ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি শীতের প্রভাবও আংশিকভাবে এ পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে।
