প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থাপনায় ‘গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশন’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোর মাধ্যমে ইসলামি সামাজিক অর্থায়নকে কার্যকর ও টেকসই উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ‘গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশন’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। যাকাত, সাদাকা, ওয়াকফ ও ক্বারয হাসানার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করাই সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট আলেম, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়নকর্মী, কর্পোরেট নেতা, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ড ও অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যরা। তারা হলেন শেখ মো. শফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ রাশিদ আল মাজিদ খান সিদ্দিকী মামুন, মুর্তজা জামান, মুহাম্মদ জুনায়েদুল মুনির, আরিফ বিন ইদ্রিস, কামরুজ্জামান, মো. জুলফিকার আলী সিদ্দিকী, আসিফ সাদ বিন শামস, সৈয়দ সাদিক রেজা, রেজা আহমেদ ও আরিফুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের ভিশন, মিশন ও কার্যক্রমের কাঠামো উপস্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশে জাকাত আন্দোলনকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় স্বচ্ছ, কাঠামোবদ্ধ ও প্রভাবশালী জাকাত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্যানেলে বক্তব্য দেন ড. ওমর ফারুক, ড. আবুল কালাম আজাদ ও শাহ মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে জাকাতের সম্ভাব্য বার্ষিক পরিমাণ প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা হলেও এর খুব সামান্য অংশ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আসে। পরিকল্পিত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাকাত দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকায়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মত দেন।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য দূরীকরণে একটি টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ পথ তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট (www.givinggrace.org.bd) উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকায়ন, মানবিক সহায়তা ও আয়বর্ধক কার্যক্রমসহ সংস্থাটির প্রধান কর্মসূচিগুলো তুলে ধরা হয়। জাকাতভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া তথ্যভিত্তিক ও শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে বলেও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩,০৫৯টি পরিবারসহ মোট ১১,৪২৬ জন মানুষ উপকৃত হয়েছে। এর মধ্যে ১,৪২৬টি চক্ষু অস্ত্রোপচারে সহায়তা, চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ২৫,১১৯ জন রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অংশীদার হাসপাতালের মাধ্যমে ৭২ জন গুরুতর রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাসিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১১২টি পরিবার এবং শিক্ষা কার্যক্রমে ৪১১ জন শিক্ষার্থী সহায়তা পাচ্ছে।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জাকাত শুধু দান নয়; এটি সমাজে ন্যায় ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে এই আমানতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের শরিয়াহ তত্ত্বাবধান বোর্ড সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মানজুর ই এলাহি জানান, ফাউন্ডেশনের সব কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা শরিয়াহসম্মত কি না, তা স্বাধীনভাবে তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে। বোর্ডের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. জুবায়ের মোহাম্মদ এহসানুল হক এবং ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম। কর্পোরেট জাকাত বিষয়ে বক্তব্য দেন আইএফএ কনসালটেন্সির পরিচালক ড. মুফতি ইউসুফ সুলতান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয় এবং ইসলামি আর্থিক নীতিমালার ভিত্তিতে টেকসই সামাজিক প্রভাব তৈরির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বর্তমানে গিভিং গ্রেস ফাউন্ডেশন লালমনিরহাট, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, বরিশাল ও পটুয়াখালী—এই পাঁচ জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে বিশ্বাসভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে দেশব্যাপী সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
