দিয়াবাড়িতে মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ডাকাতি, গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু
মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক (সুমন), তুরাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানী উত্তরার দিয়াবাড়িতে গৃহকর্ত্রীর মুখে স্কচটেপ ও হাত-পা বেঁধে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রেজিনা মমতাজ (৬৩) নামের ওই গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে ডিএমপি তুরাগ থানাধীন উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের ১৫নং বাড়িতে এ ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় বাড়ির দারোয়ানসহ ৪র্থ তলার এক ভাড়াটিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে যায়, বাড়ির মালিক শাহ আলম প্রতিদিনের মতো তারাবির নামাজ আদায় করতে পার্শ্ববর্তী মসজিদে গেলে সেই সুযোগে মুখে মাস্ক পরিহিত ডাকাত দলের দুই সদস্য বাড়িতে ঢুকে ভবনটির ৩য় তলার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তার স্ত্রীকে বেঁধে মালামাল লুট করে চলে যায়। নামাজ শেষে বাসায় ফিরে ফ্ল্যাটের সবকিছু এলোমেলো ও স্ত্রীকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ পেঁচানো অবস্থায় পেয়ে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার স্ত্রী রোজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে রাইসুল ইসলাম যুগান্তরকে জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে অপরিচিত দুজনকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ওই সময় ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া বাড়ির দারোয়ানকে লন্ড্রিতে পাঠায়। সে দারোয়ানকে নিচের গেট খোলা রেখে যেতে বলেছিল। গেট বন্ধ থাকলে ভেতর থেকে খুলে দেয়া ছাড়া কেউ ঢুকতে পারত না।
তিনি জানান, আমার বাবা সোনালী ব্যাংকের একজন জিএম ছিলেন। সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে তিনি প্লটটি কিনে বাড়ি করেছিলেন। বাড়ির নির্মাণ কাজ এখনো চলছে। ভবনের তিনতলায় আমার বাবা-মা আর চারতলার ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া ছিলেন। আমি আমার মায়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এদিকে ঘটনার পরপরই ওই বাড়িতে তুরাগ থানা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থা নিতে দেখা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
