সন্তান হওয়ার পর নারী-পুরুষের আয়ের চিত্র বদলে যায়
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সন্তান হওয়ার পর নারী-পুরুষের আয়ের চিত্র বদলে যায়। বাংলাদেশে নারীরা এখনো অবৈতনিক গৃহস্থালি ও পরিচর্যা কাজে পুরুষদের তুলনায় বহুগুণ বেশি সময় ব্যয় করেন, যা তাদের শিক্ষা, আয়মুখী কাজ এবং সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করে।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে।
নারীর অবৈতনিক গৃহস্থালি ও পরিচর্যা কাজের স্বীকৃতি এবং দায়িত্বের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে “Time for Change: Engaging Youth to Transform Unpaid Care Norms” শীর্ষক এক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ প্রায় ৩৬ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের অংশগ্রহণ ৮০ শতাংশের বেশি। বক্তাদের মতে, এই বৈষম্য দূর না হলে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. অতনু রাব্বানী বলেন, বিয়ে বা প্রথম সন্তান হওয়ার আগ পর্যন্ত শ্রমবাজারে নারী ও পুরুষের আয়ের তেমন পার্থক্য থাকে না। কিন্তু সন্তান হওয়ার পর এই চিত্র বদলে যায়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ডেনমার্কে প্রথম সন্তান হওয়ার পাঁচ বছর পর স্বামী-স্ত্রীর আয়ের পার্থক্য দাঁড়ায় ২৯ শতাংশ। এমনকি সুইডেনেও এই পার্থক্যের হার প্রায় ২০%। বাংলাদেশে এই সমস্যা আরও প্রকট বলে তিনি মনে করেন।
অধ্যাপক রাব্বানি বলেন, আজ থেকে ২০ বছর পর কেমন দেশ দেখতে চাই তার চেয়ে বড় বিষয় হলো কেমন বাচ্চা দেখতে চাই। আমরা যে টাইপের বাচ্চা দেখতে চাই সেই টাইপের বাচ্চা বড় করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং 'টাইম ইনটেনসিভ' বা সময়-সাপেক্ষ একটি কাজ। যখন একটি পরিবারে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে কে সন্তানের পেছনে বেশি সময় দেবে, তখন জৈবিক ও সামাজিক কারণে নারীদেরই শ্রমবাজার থেকে বড় সময়ের জন্য সরে আসতে হয়।
অধ্যাপক রাব্বানি আরো বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ কর্মীদেরও ইচ্ছা না থাকলেও দিনে ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়। ফলে পরিবারের ভেতরে কাজের সুষম বণ্টন বা 'স্পেশালাইজেশন' ব্যাহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত নারীরাই শ্রমবাজার থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।
তিনি বলেন, কেবল সচেতনতা বৃদ্ধি বা মানসিকতার পরিবর্তন দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য অর্থনৈতিক পদ্ধতিগত ও কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের আইআরবিডি কোঅর্ডিনেটর তাওফিকুল ইসলাম খান বলেন, নীতি প্রণয়নের আগে জানতে হবে মানুষ কী চায়। যেসব দেশে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ৭০ শতাংশের ওপরে, সেসব দেশ উন্নয়নে এগিয়ে। আর আমাদের মাত্র ৩৫ শতাংশ। আমাদের এ হার বাড়াতে হবে, ৫০ শতাংশ মানুষকে সম্পৃক্ত না করলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি আর্থসামাজিক উন্নয়নে নারীদের অবদান বা সমাজে নারীদের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেতে মিডিয়ার ভূমিকা তুলে ধরেন। ‘ছেলেরা বাইরে কাজ করবে আর মেয়েরা ঘরে-এ ধারণা আমাদের সমাজে মনস্তাত্ত্বিকভাবে গেঁথে আছে। সেই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে,’ বলেন মাহি।

কর্মসূচিতে ছিল সৃজনশীল মাইম পরিবেশনা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, উন্মুক্ত সংলাপ, আলোকচিত্র ও শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, তরুণ, গবেষক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিল্পী অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, তরুণদের-বিশেষ করে তরুণ পুরুষদের-সক্রিয় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গৃহস্থালি ও পরিচর্যা কাজকে যৌথ সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের আইআরবিডি কোঅর্ডিনেটর তাওফিকুল ইসলাম খান বলেন, নীতি প্রণয়নের আগে জানতে হবে মানুষ কী চায়। যেসব দেশে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ৭০ শতাংশের ওপরে, সেসব দেশ উন্নয়নে এগিয়ে। আর আমাদের মাত্র ৩৫ শতাংশ। আমাদের এ হার বাড়াতে হবে, ৫০ শতাংশ মানুষকে সম্পৃক্ত না করলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি আর্থসামাজিক উন্নয়নে নারীদের অবদান বা সমাজে নারীদের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেতে মিডিয়ার ভূমিকা তুলে ধরেন। ‘ছেলেরা বাইরে কাজ করবে আর মেয়েরা ঘরে-এ ধারণা আমাদের সমাজে মনস্তাত্ত্বিকভাবে গেঁথে আছে। সেই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে,’ বলেন মাহি।
কর্মসূচিতে ছিল সৃজনশীল মাইম পরিবেশনা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, উন্মুক্ত সংলাপ, আলোকচিত্র ও শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, তরুণ, গবেষক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিল্পী অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, তরুণদের-বিশেষ করে তরুণ পুরুষদের-সক্রিয় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গৃহস্থালি ও পরিচর্যা কাজকে যৌথ সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
