আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব

আরব বসন্তের প্রগ্রেসিভ, ল্যাটিনের আদি ব্যানজুনটোর রাত

  হক ফারুক আহমেদ ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব
আর্মি স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবে শুক্রবার অ্যারাবিয়ান সুরের প্রগ্রেসিভ গানে মাতিয়ে রাখে বাহারাইনের গানের দল মাজাজ। ছবি: যুগান্তর

আরব বসন্ত নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। কিন্তু তা পুরো আরব, পারস্য, মধ্যপ্রাচ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে। যার প্রভাব শুধু রাজনৈতিক নয় শিল্প-সংস্কৃতিতেও প্রবল। সঙ্গীতের ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক।

আরব বসন্ত মুসলিম দুনিয়ার তরুণদের নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। তারা প্রতিবাদের পাশাপাশি শিখেছে নুতন করে কিভাবে গ্রহণ করতে হয়। ইয়েমেন, সিরিয়া, মিসর, ইরান থেকে বাহরাইনের মতো দ্বীপ দেশটিও বাকি থাকল না।

সঙ্গীতে একুস্টিক কমিউনিটি বা ফেসবুকের বৈপ্লবিক ভাষ্যদানকারীদের দলের সৃষ্টি হল। সঙ্গীতে নিজেদের প্রাচীন রীতির সঙ্গে যুক্ত হল পাশ্চাত্যের ধারা।

২০১১ সালের আরব বসন্তের পরবর্তী সময়ের বাহরাইনের তেমনি ব্যান্ডের দল মাজাজ ছড়িয়ে দিল মুগ্ধতা। আবিশ্বাস্য হলেও সত্য তারা অ্যারাবিয়ান সুরের সঙ্গে সফলভাবে প্রগ্রেসিভ রকের সংমিশ্রণ ঘটাল।

গিটার, ড্রামসে ভাঙা তাল, বেস গিটারে স্ন্যাপ, ট্যাপিং, ভায়োলিনের বেদুঈনী সুর সব মিলিয়ে অসাধারণ বললেও কম বলা হয়। তাদের পরিবেশনার পাশাপাশি এদিন আরও ছিল গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডজয়ী বিখ্যাত ব্যান্ড লস টেক্সমেনিয়াকসের। ল্যাটিন আমেরিকা ব্যানজুনটো ঢঙে তারা গান করে মাতিয়ে রাখেন।

শুক্রবার আর্মি স্টেডিয়ামে ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবের দ্বিতীয় পুরো অংশেই ছিল ভিন্নতার ছড়াছড়ি। রাজশাহীর তরুণদের গানের দল স্বরব্যাঞ্জো। ফোক ফিউশনধর্মী দলটি এই প্রথম গান গাইলেন ফোক ফেস্টের মঞ্চে।

তারা একে একে গেয়ে শোনান ‘জানিতে চাই দয়াল তোমার আসল নামটা কি’, ‘দেখ ভালো জনে রইল ভাঙা ঘরে, মন্দ লোকে সিংহাসনে চড়ে’, ‘শালবৃক্ষের মতন সিনা টান মেরেছে’, ‘কাইন্দনা কাইন্দনা কন্যা না কান্দিয়ো আর সেই বাইগুন তুইল্যা দিমু তোমার গলার হার’, ‘ইন্দুবালা গো’ প্রভৃতি গান।

এ দলের সদস্যরা হলেন ভোকাল : বগা তালেব, রপক আহমেদ, আসিফ হাসান নিলয়, রাতুল সরকার; বাঁশি ও হারমোনিকা শহিদুল আলম জীবন, বগা তালেব; গিটার : বানা রত্ন, নিলয় ব্যাস : রুপক আহমেদ, তানভির-আল-আযাদ ভায়োলিন : অধরা শ্রেয়সী অথৈ পারকাশান ও কাহন : সঞ্জয় মল্লিক।

দ্বিতীয় পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসে বাহরাইনের তরুণদের দল মাজাজ। মূলত বাদ্যযন্ত্র নির্ভর দলটি গিটার, বেজ গিটার, ড্রামস, ভায়োলিনযোগে এরাবিয়ান সঙ্গীতের সঙ্গে প্রগ্রেসিভ রকের পরিবেশন করে।

তাদের নিজস্ব ধারার সঙ্গে ওপেথ বা ক্যাটাটোনিয়ার ডার্ক, ব্ল্যাকমোর নাইটসে’র মেলানকোলি ভাব সবই যেন ছড়িয়ে আছে তাদের সঙ্গীতে।

মাজাজের পরিবেশনা থামতেই মঞ্চে আসে ভারতের রঘু দীক্ষিত প্রজেক্ট। বর্তমানে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় লোকশিল্পী রঘুপতি দ্বারকানাথ পরিবেশন করেন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসঙ্গীত।

রঙিন লুঙ্গি ও ফতুয়া পরে রঘুপতির গানে খুঁজে পাওয়া যায় কান্নাড়া কবিতার ছন্দ।

তারা প্রথমেই পরিবেশন করেন 'দো দো'। এরপর তারা একে একে পরিবেশন করে ' কোয়ে কান্নাডা পোড়ে' ' লোকাডা কারজি'সহ বেশ কিছু গান। রঘুপতির সঙ্গে পরিবেশনায় ছিলেন নেরেশ নাথান, জো জ্যাকব ও নাভিন থমাস।

এরপর মঞ্চে আসে গ্রামি পুরস্কার বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের দল লস টেক্সমেনিয়াকস। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও উত্তর মেক্সিকোর স্পেনিস অভিবাসীদের লোকজ গান তেহানো থেতে অনুপ্রাণিত হয়ে ম্যাক্স বাকা ১৯৯৭ সালে গঠন করেন এই ব্যান্ডটি।

সাধারণত গিটার সদৃশ বাজো স্কেসটো এবং একরডিয়ান বাদ্যযন্ত্রযোগে গান করেন। লস টেক্সমেনিয়াকস তেমনই একটি ব্যান্ড। স্প্যানিস অভিবাসীদের লোকজ গান তেহানো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা সঙ্গীত পরিবেশন করে।

২০১০ সালে সেরা তেহানো অ্যালবাম হিসেবে দলটি গ্রামি পুরস্কার জয় করে। দলটির গানে ব্ল–জ, লোকজ, কান্ট্রি, জ্যাজ ও রক মিউজিকের প্রভাব মেলে। স্প্যানিশ ও ইংরেজি ভাষায় কিছু গান পরিবেশন করে তারা।গানে একোর্ডিয়ানের ব্যবহার প্রাধান্য পেয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম সেরা বাহো সেক্সতো বাদক ম্যাক্স বাহার নেতৃত্বে দলটিতে ছিলেন অ্যাকোর্ডিয়ানে জশ বাকা, ড্রামে লরেনযো মার্টিনেয, নোয়েল হার্নান্দেজ, উইল জে. লস ও ফ্লাকো ইয়েমিনেয।

দ্বিতীয় দিনের শেষ পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন দেশের ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ বেগম। তিনি প্রথমেই গেয়ে শোনান- আমি তাইতো মাটির গান গাই/জারি সারি ভাটিয়ালি গাই।'

এরপর একে একে গেয়ে শোনান - আমারে পোড়াইতো তোমার এতো আয়োজন, 'আমার বন্ধু রইল বৈদেশেতে দারুণ শীতে', 'বন্ধু তুই লোকাল বাস'সহ বেশ কিছু গান।

এভাবেই তিনি নিজের জনপ্রিয় গানগুলোর পাশাপাশি অপ্রচলিত গানও পরিবেশন করেন। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের আয়োজন শেষ হয়।

আজ শনিবার তৃতীয় ও সমাপনী দিনে অংশ নেবেন পাকিস্তানের শাফকাত আমানত আলী, স্পেনের লাস মিগাজ এবং বাংলাদেশের বাউল কবির শাহ, অর্ণব ও নকশিকাঁথা। সান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ও সান কমিউনিকেশনের আয়োজনে মেরিল নিবেদিত ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবের চতুর্থ আসরে সহযোগিতা করছে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, গ্রামীণফোন ও রাঁধুনী।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×