ঢামেকে বদলি হয়েও বহাল রেজাউল, যোগদান করতে পারছেন না মোজাম্মেল
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার (এও) বদলি কার্যকর না হওয়া এবং নতুন কর্মকর্তাকে যোগদান করতে না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বদলি হওয়া কর্মকর্তা এখনও দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে নতুন কর্মকর্তা যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সরেজমিনে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লক ঘুরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
সূত্র জানায়, গত ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) ডা. রেজাউল আহমেদের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই আদেশের পর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ঢামেকে যোগদান করতে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও তার যোগদানের কাগজ গ্রহণ করেনি। ফলে বদলি হওয়া কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম আগের মতোই প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা ও চিকিৎসক দাবি করেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলিকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের ভেতরে দুই পক্ষের অবস্থান তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের টেন্ডার-সংক্রান্ত বিষয় এবং একটি ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী রেজাউল ইসলামকে বহাল রাখার চেষ্টা করছেন। এ লক্ষ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নেতারা পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেছেন বলে তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে, নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের দ্রুত যোগদান নিশ্চিত করতে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের আবাসিক সার্জন, রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান ও চিকিৎসকেরা পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক অভিযোগ করে বলেন, একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে বদলি হওয়া কর্মকর্তাকে এখনও আটকে রাখা হয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামের সমর্থক কর্মচারী এবং মোজাম্মেল হকের সমর্থক চিকিৎসকদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী বলেন, সরকারি চাকরিতে বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়া প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, বদলি হওয়া কর্মকর্তার কাছে হাসপাতালের টেন্ডার-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকায় তাকে ঘিরে একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বদলিকৃত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো ছাড়পত্র পাইনি। তাই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে পারিনি।
তাকে বহাল রাখতে একটি পক্ষ তৎপর এবং এ বিষয়ে পরিচালকের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে—এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।
অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেলে নতুন বদলি হয়ে আসা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, এখন পর্যন্ত যোগদান করতে পারিনি। পরিচালক আমার জয়েনিং পেপার গ্রহণ করছেন না। পরিচালকের সঙ্গে দেখা করলে তিনি জানান, রেজাউল ইসলামকে ঢামেকে রাখার বিষয়ে তিনি ডিজি অফিসে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। এখন ডিজি অফিসের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি তাকে বার্তাও পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

