যে কারণে হত্যা করা হয় নটর ডেম কলেজছাত্র গোন সালভেজকে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

যে কারণে হত্যা করা হয় নটর ডেম কলেজছাত্র গোন সালভেজকে

রাজধানীর নটর ডেম কলেজের ছাত্র ইয়োগেন হেনসি গোন সালভেজ হত্যার প্রধান আসামি সখিনা বেগম সবিতাকে (২৬) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩।

শনিবার রাতে মুগদা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রাজধানীর সবুজবাগের কদমতলার হীরাঝিল মসজিদ গলির ৭৭/এ নম্বর বাসার নিচ তলার একটি ঘর থেকে ইয়োগেনের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

র‌্যাব জানিয়েছে, সখিনা বেগম সবিতার করা এক মামলায় সাক্ষী ছিল ইয়োগেন সালভেস। সাক্ষী হওয়ার সুবাদে সবিতার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিত সে।

একপর্যায়ে তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। জ্বালাতন থেকে বাঁচার জন্য পরিকল্পিতভাবে ইয়োগেনকে ১২ ফেব্রুয়ারি হত্যা করে সবিতা।

সবিতার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের ছোটকয়ের এলাকায়। সে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করে ঢাকা জজ কোর্টে শিক্ষানবিস আইনজীবী।

একটি কোচিং সেন্টারেও পড়াত সে। এ বাসা ভাড়া করেছিল সবিতা। ইয়োগেনের পিঠে ও পেটে ১৫টিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের কোতোয়ালির পাথরঘাটায়। তবে থাকত ঢাকার নারিন্দা এলাকায় মামাতো বোন শিপ্রার বাসায়।

র‌্যাব জানিয়েছে, নিহত ইয়োগেনের সঙ্গে সবিতার ২০১৩ সালে পরিচয়। ২০১৭ সালে ইয়োগেন নটর ডেম কলেজে পড়ার সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। জাফর উল্লাহ নামে এক আইনজীবীর সঙ্গে পরিচয় ছিল সবিতার।

সবিতার দেয়া তথ্যমতে, জাফরের বিরুদ্ধে হয়রানি ও প্রতারণার মামলা করে সবিতা। ওই মামলার সাক্ষী ছিল ইয়োগেন। সাক্ষী হওয়ায় ইয়োগেন তার কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করত। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সবিতাকে ভয়ভীতি দেখাত সে। পরে জাফরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয় সে। কিন্তু ইয়োগেনের আশঙ্কা ছিল সাক্ষ্য দিলে জাফর তার ক্ষতি করতে পারে।

এজন্য আলাদা একটি বাসা ভাড়া করে দেয়ার জন্য সবিতাকে অনুরোধ করে। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সবুজবাগের কদমতলার হীরাঝিলের ওই বাসা ভাড়া নেয় সবিতা। তবে বাসায় ওঠেনি ইয়োগেন। সবিতার কাছে বাসা ভাড়ার অগ্রিম আট হাজার টাকা দাবি করে। এছাড়া মাদক সেবনের জন্যও টাকা দাবি করত নিয়মিত। এতে বিরক্ত হয়ে ইয়োগেনকে হত্যার পরিকল্পনা করে সবিতা। হত্যার উদ্দেশ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকা থেকে ৪৫০ টাকায় একটি ব্যাগ ও ৬৫০ টাকায় একটি বঁটি কেনে সবিতা। এরপর থেকেই ইয়োগেনকে হত্যা করার সুযোগ খোঁজে।

১২ ফেব্রুয়ারি ইয়োগেনকে নিয়ে সবিতা তার ভাড়া বাসায় যায়। বাসার সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ইয়োগেন ও সবিতার যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে। ইয়োগেন একবার বাইরে গেলে সবিতা জুসের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মেশায়।

ইয়োগেন বাসায় ফিরলে ওই জুস খেতে দেয় সবিতা। এসব দৃশ্য সে ইয়োগেনের মোবাইল ফোনে ভিডিও করে। পরে ইয়োগেনের ফোন থেকেই ইউটিউব চ্যানেলে চারটি ভিডিও আপলোড করে।

ইয়োগেন অচেতন হওয়ার পর হাত-পা, মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে উপর্যুপরি বঁটি দিয়ে কোপাতে থাকে সবিতা। এ সময় ইয়োগেন উঠার চেষ্টা করলে পিঠের ওপর কোপ মারে। খুন নিশ্চিত হওয়ার পর সবিতা খালি পায়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×