গ্যাস সিলিন্ডার নয়, ভবনের দোতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত

  আব্দুল্লাহ আল মামুন ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

চকবাজারে আগুন
চকবাজারে আগুন। ছবি: যুগান্তর

চকবাজারের চুড়িহাট্টায় গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার থেকে নয়, ওয়াহেদ ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় মজুদ করা রাসায়নিক কাঁচামাল থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

সেখানে মজুদ করা রাসায়নিক কাঁচামালে কোনো কারণে আগুন ধরে যায়, যা ভয়ংকর আকারে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় একটি হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে প্রাথমিকভাবে এমন ধারণা পাওয়া গেছে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সংশ্লিষ্টরাও এমনটি মনে করছে।

শনিবার ওই কমিটি এ ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা শুরু করেছে। যদিও ওয়াহেদ ম্যানশনে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনও সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল কেউ নাম প্রকাশ করে কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে যুগান্তরের কাছে আসা ভিডিও ফুটেজে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, আগুনের সূত্রপাত যে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে নয়, তা আমরা নিশ্চিত হয়েছি। ভবনের দোতলা থেকে আগুন নিচে এসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এটি স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। স্বাভাবিক কোনো কেমিক্যাল বিস্ফোরণে এত বড় দুর্যোগ সৃষ্টি হতে পারে না।

এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা নাশকতা আছে কিনা, তদন্ত কমিটি সেই বিষয়টি মাথায় নিয়ে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে।

এদিকে সরেজমিন শনিবার বেলা ২টায় চকবাজার থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানার ওসি মো. শামীম অর রশিদ তালুকদারের কক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য, চকবাজার জোনের পুলিশের এডিসি মো. কামাল হোসেন, ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশীষসহ পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ওসির কক্ষে বসে কম্পিউটারে ভিডিও ফুটেজ দেখছেন।

বিভিন্ন দিক থেকে তারা ভিডিওটি দেখার চেষ্টা করেন। সেখানে তারা ফুটেজ দেখে নানা ধরনের বিশ্লেষণও করেছিলেন।

কমিটির প্রধান প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য যুগান্তরকে বলেন, আমরা বিভিন্ন ব্যক্তির জবানবন্দি নিচ্ছি।

একটি ঘটনা ঘটার পর তদন্তের আগে যে প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে হয়, তা-ই করছি। এরই মধ্যে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংগ্রহ করেছি। সেগুলো বিশ্লেষণ চলছে।

ভবনটির দোতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা একটি ভিডিও ফুটেজ পেয়েছি। সেটি বিশ্লেষণ চলছে। এখনই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

ডিএমপির চকবাজার জোনের এডিসি মো. কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ভিডিও ফুটেজে যে চিত্র আমরা দেখেছি, সেখানে ওপর থেকে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন নিচে পড়ছে। আমরা বিষয়টি বিভিন্ন দিক থেকে বিশ্লেষণ করছি। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা- তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হোটেলের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় আমরা হোটেলে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণে সব কিছু পুড়ে যায়। এ সময় আমরা কাজ বন্ধ করে সেখান থেকে চলে আসি।

তিনি আরও বলেন, হোটেলে একটি সিসি টিভির ফুটেজ পুলিশের কাছে দিয়েছি। সেখানে কীভাবে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে, তা অনেকটা পরিষ্কার হয়েছে।

ফুটেজে যা রয়েছে : ঢাকার চকবাজারে চুড়িহাট্টায় বুধবার রাতে আগুনের ঘটনার শুরুর যে দুটি ভিডিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংগ্রহ করেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে- প্রতিদিনকার মতো ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকেও খাবার প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রেস্তোরাঁর কর্মীরা।

ঘড়ির কাঁটায় ঠিক যখন ১০টা বেজে ৩২ মিনিট, সেই সময় অকস্মাৎ বিস্ফোরণে আগুনের লেলিহান শিখা বিদ্যুৎ বেগে ছুটে আসতে থাকে। চারপাশে ইট, কৌটা ও বোতল বৃষ্টির ফোটার মতো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

মানুষ আগুন থেকে বাঁচতে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জ্বলে ওঠে রাস্তার যানজটে আটকে থাকা গাড়ি ও রিকশা। এখানেই শেষ নয়, ভয়াবহ আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আশপাশেও।

এর মধ্যেই যারা সুযোগ পেয়েছেন, তারা প্রাণপণে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছেন। কেউ সফল হয়েছেন আবার কেউ ঘটনাস্থলে ছোটাছুটির সময় পড়ে যান।

সিসিটিভির ফুটেজে আরও দেখা যায়, রাজমহল হোটেলের কর্মীরা তখন রুটি তৈরিতে ব্যস্ত। বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দে তারাও দূরে ছিটকে পড়েন।

এ সময় ওপর থেকে আগুনের গোলা পড়তে দেখা যায়। ওই সময়েই অগণিত পারফিউম, লোশন ও অলিভ অয়েলের বোতল ছিটকে পড়তে দেখা যায়।

ঘটনাপ্রবাহ : চকবাজার আগুনে মৃত্যুর মিছিল

আরও
আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×