ডা. রাজনের মৃত্যু আমাদের জন্য বিরাট ক্ষতি: বিএসএমএমইউ ভিসি

  মঈন বকুল ১৭ মার্চ ২০১৯, ২১:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।
বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। ফাইল ছবি

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বড় মেয়ের জামাই ও বিএসএমএমইউ হাসপাতালের চিকিৎসক রাজন কর্মকারের (৪২) রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

রোববার রাতে যুগান্তরকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডা. রাজন সম্পর্কে তার অভিব্যক্তি তুলে ধরেন।

ডা. রাজনের মৃত্যু গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিরাট ক্ষতি উল্লেখ করে ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বলতে চাই, আমার এই তরুণ শিক্ষক অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল, দক্ষ এবং তার যে ব্যবহার, আচার-আচরণ, আমি তাকে যতটুকু দেখেছি একজন পার্সোনালিটি সম্পন্ন এক্সপার্ট সে। তার মৃত্যু শুধু ডিপার্টমেন্টের জন্য না গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিরাট ক্ষতি।

ময়নাতদন্ত হওয়া উচিত কিনা, আপনি কী মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, অবশ্যই আমি চাই তার ময়নাতদন্ত হোক। তার পরিবার থেকেই তো বলা হয়েছে এটা স্বাভাবিক মৃত্যু না অস্বাভাবিক মৃত্যু। তার ময়নাতদন্তের দাবি তো তার পরিবার থেকেই করা হয়েছে। কাজেই আমার মনে হয় তার ময়নাতদন্ত হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, তার অকাল মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকের জন্যই হোক আর যে কারণেই হোক আমাদের নিরূপণ করা উচিত। তার পরিবার থেকেও চায় ওর সহকর্মীরাও চায় সেজন্য তার অবশ্যই ময়নাতদন্ত হওয়া উচিত।

ডা. রাজনকে স্কয়ারে চিকিৎসা দেয়ার কারণ কী সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তার বাসার কাছে বলেই সেখানে নেয়া হয়েছে। এটা আমরা অন্য দৃষ্টিতে দেখছি না। সবাই তো চায় সবচেয়ে কাছের হাসপাতালে ভর্তি করার। এটা স্বাভাবিক বিষয় বলে আমার মনে হয়।

ডা. রাজনের মৃত্যু অস্বাভাবিক হলে প্রতিষ্ঠান কী ভূমিকা পালন করবে এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. কনক কান্তি বলেন, এটা তো আসলে পুলিশ প্রশাসনের বিষয়। আইনগত প্রক্রিয়ায় বিচার যা হবার তাই হবে। এখানে আইন তো তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

ডা. রাজন কর্মকার ও তার স্ত্রী কৃষ্ণা মজুমদার রুপা। ছবি-ফেসবুক থেকে নেয়া

রোববার ভোরে ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের বাসা থেকে স্কয়ার হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজন কর্মকারকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বড় মেয়ের জামাই ও বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ম্যাক্সিলোফেসিয়াল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

জানা যায়, রাজনের শ্যালিকা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিছুসময় পর রাজনের স্ত্রী কৃষ্ণা মজুমদার রুপা হাসপাতালে আসেন। তবে এ ঘটনায় রাজনের স্বজনদের দাবি এটি হত্যাকাণ্ড।

ডা. রাজনের নিহতের চাচাত ভাই অভি বলেন, রাজন ভাইয়ের সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছিল। এর আগে একাধিকবার তাকে মারধর করা হয়েছিল। এ জন্য আমাদের সন্দেহ তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আমরা তার লাশের ময়নাতদন্ত করাতে চাই।

নিহতের মামা সুজন কর্মকার বলেন, প্রথমে নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজন স্বাভাবিক মৃত্যু ধরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু নন-ডায়াবেটিস (ডায়াবেটিস নেই এমন) একজন লোকের এমন মৃত্যৃ মেনে নেয়া যায় না। আমরা ময়নাতদন্ত চাই।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম বলেন, আমরা ঘটনা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত মন্ত্রীর পরিবার অথবা নিহতের পরিবার থেকে কেউ অভিযোগ করেনি। আমাদের একটি টিম স্কয়ার হাসপাতালে আছে। তাদের সঙ্গে নিহতের পরিবারের কথা হয়েছে। তারা আমাদের টিমের কাছে একটা অভিযোগ জানাবে বলে শুনেছি।

ওসি আরও বলেন, আমরা জেনেছি গত রাতে স্কয়ার হাসপাতালে রাজনকে ভর্তি করা হয়। রাজন ইন্দিরা রোডের ৪৭ নম্বর বাসায় থাকতেন।

এর আগে, বছর খানেক আগে কৃষ্ণার দ্বারা মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত রাজন মাসখানেক ঢাকার পপুলার হাসপাতাল, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিএসএমএমইউ’র আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এদিকে, থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রাজনের স্বজনরা।

ঘটনাপ্রবাহ : ডা. রাজনের মৃত্যু

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×