গরুর মাংসের দাম বাড়ার নেপথ্যে কারা?

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ মে ২০১৯, ২২:১০ | অনলাইন সংস্করণ

গরুর মাংস।
গরুর মাংস। ছবি সংগৃহীত

রোজায় কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। তবে সবজির দাম যে হারে বেড়েছে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। এক কেজি গরুর মাংসের উৎপাদন ব্যয় ৩৫০ টাকা, বিক্রি ৫৫০ টাকা। তবে কেন দাম রাখা হচ্ছে ৫৫০ টাকা।

গুরুর মাংসের দাম নিয়ে জটিলতা হওয়ায় রোজায় দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। রোজায় রাজধানীতে প্রতিকেজি দেশি গরুর গোশতের সর্বোচ্চ দাম ৫২৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

তবে প্রথম রোজা থেকে ২৬ রমজান পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এ মূল্য। যদিও আগে থেকেই সাড়ে পাঁচশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর গোশত।

সোমবার দুপুরে নগর ভবনে মাংস ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই আলোচনা সভায় এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

এর আগের বছর রোজায় দেশি মাংসের দাম ছিল সাড়ে চারশ টাকা। সেই হিসেবে গতবারের চেয়ে কেজিতে ৭৫ টাকা দাম বেড়েছে এ বছর।

এর চেয়ে বেশি দাম রাখা হলে শাস্তি দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন।

গরুর মাংসের দাম বাড়ার পেছনে সবসময় তিনটি বিষয়ের ওপর দায় চাপানো হয়েছে। সীমান্তে কড়াকড়ি, পথে পথে চাঁদাবাজি আর সরবরাহে ঘাটতি।

মাত্র কয়েক মাস আগেও গরুর মাংসের দাম ছিল ৪৮০ টাকা; তবে এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৫০ টাকা।

এই তিনটি অজুহাত দেখিয়ে গত ছয় বছরে গরুর মাংসের দাম বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।

মাংস বিক্রেতারা বলছেন, সরকারের নজরদারি ও পদক্ষেপের অভাবে গরুর মাংসের দাম বাড়ছে। তবে খামারিরা বলছেন অন্য কথা।

তাদের দাবি, কেজিপ্রতি মাংস উৎপাদনে খরচ হয় ৩৫০ টাকা। তাই দাম ৪০০ টাকা হওয়া উচিত।

কারওয়ানবাজারের গরুর মাংস কিনতে আসা রেহেনা জানান, গরুর মাংসের দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। যে মাংস একসময় কিনে খেতাম ২৫০ টাকা দিয়ে, এখন তা ৫৫০ টাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু মাংস না বাজারে সব পণ্যের দাম চড়া। রমজান মাসে এ রকম হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের চলা দায়। সরকারের এ বিষয়ে জরুরি ব্যস্থা নেয়া উচিত।

কারওয়ানবাজারের মাংস বিক্রেতা রফিক জানান, আমরা মাংসের দাম বাড়াই না। রমজান মাস শুরুর আগে মাংসের দাম নির্ধারণ করে থাকে সিটি কর্পোরেশন।

তা হলে এখন প্রশ্ন হলো- মাংসের দাম কেন বাড়ছে। এ বিষয়ে ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান বলেন, এক কেজি গরুর মাংস উৎপাদন ব্যয় ৩৫০ টাকা। তাই বাজারে দাম ৪০০ থেকে ৪২০ টাকার বেশি হওয়া ঠিক নয়।

যেভাবে বেড়েছে মাংসের দাম

রোজা শুরু হওয়ার আগেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে এই দাম নির্ধারণ করেন। তাদের এই দামি নির্ধারণকে কাজে লাগান ঢাকাসহ সারা দেশের মাংস বিক্রেতারা। বৈঠকের পর তারা মাংসের দাম বাড়িয়ে দেন।

২০১৩ সালের রোজার আগে এক কেজি গরুর মাংস ছিল ২৫০ টাকা। পরে মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে সিটি কর্পোরেশন এ বছর দাম বাড়িয়ে করে ২৭৫ টাকা।

২০১৪ সালের রমজানে ২৮০ টাকা, ২০১৫ সালে ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা। সীমান্ত দিয়ে গরু আসছে না বলে একই বছরে বাড়িয়ে করা হয় ৩৭০ টাকায়। পরে ২০১৭ সালের রমজান মাসে গরুর মাংসের দাম নির্ধারণ করা হয় ৪২০ টাকা।

একই অজুহাতে ২০১৭ আবারও বাড়িয়ে করা হয় ৪৪০ টাকা, সবশেষ ২০১৮ সালের রমজানে দাম ৫০০ টাকা করা হয়। তবে এ বছর রোজার আগেই গরুর মাংসের বর্তমান দাম ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×