বইমেলায় ভালবাসার রং

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক

ভালবাসা দিবসে একুশের গ্রন্থমেলায় মানুষের ঢল নামে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীদের মেলাঙ্গণে প্রবেশ করতে হয়। সব বয়সের বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে বইমেলা প্রাণের মেলায় পরিণত হয়।

অধিকাংশ স্টলেই ক্রেতার ভিড় ছিল সারাক্ষণ। আশানুরূপ বই বিক্রিতে প্রকাশকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলো থেকে প্রকাশক ও বিক্রেতারা জানান, এবারের মেলায় আজই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। বিক্রিতে শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস ও শিশুকিশোর গ্রন্থ। কবিতার বইয়ের বিক্রি আজ ভাল ছিল। তরুণ পাঠকরা আজ বইকেনায় ব্যস্ত ছিল মেলায়।

অন্য প্রকাশের স্বত্তাধিকারী মাজহারুল ইসলাম বলেন,এবারের মেলার পরিবেশ অতীতের যে কোনো মেলার চেয়ে ভাল। প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোর মাঝখানের স্থানগুলো বড় আকারের হওয়ায় দর্শনার্থীরা খুব সহজেই স্টলে স্টলে ঘুরে ঘুরে বই পছন্দ করতে পারছেন।

তিনি জানান, তাদের স্টলে আজ এবারের মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। এই মেলায় তিনটি দিবসে বিক্রি বেশি হয়, একুশের দিনে, পয়লা ফাল্গুন ও ভালবাসা দিবসে।

অন্বেষা’র স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন জানান,মেলায় আজ বিক্রি ভাল। বিপুলসংখ্যক দর্শক। অনেকে বই কিনছেন। উপন্যাস ও ছোটদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, এখন থেকে প্রতিদিনই দশনার্থী বাড়বে ও বিক্রিও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
 
বুধবার মেলায় ১৯২টি নতুন বই এসেছে। এবারের মেলায় আজই সর্বোচ্চ সংখ্যক বই এলো। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে, ড. মোহাম্মদ আমীনের ‘বাংলাদেশের জেলা, উপজেলা ও নদ-নদীর ইতিহাস’ প্রকাশ করেছে শোভা প্রকাশ, পারিজাত প্রকাশনীতে মোনায়েম সরকারের ‘বাংলাদেশ ২৫ মার্চের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চায়’, মাহি প্রকাশনে শামসুজ্জামান খান সম্পাদিত ‘ কিশোর গল্প সংকলন’, মুনতাসীর মামুনের ‘উনিশ শতকে পূর্ববঙ্গের সংবাদ সাময়িকের সঙ্গে রোমাঞ্চ’ এসেছে অনন্যা প্রকাশনীতে, সুকুমার বড়–য়ার ‘চাঁদে প্রথম মানুষ’ রাত্রি প্রকাশনী, এডভোকেট তানজিনা আখাতারের ‘নারী এগিয়ে যাচ্ছে’ পারিজাত প্রকাশনীতে, বাংলা একাডেমি এনেছে ‘ফোকলোর কিকসা’, কথা প্রকাশনে জামাল রেজার উপন্যাস ‘ তুমি আমি’।
 
বুধবার মেলার মূলমঞ্চে ছিল ‘শিশু সংগঠনের নিষ্ক্রিয়তা ও শিশুর সাংস্কৃতিক বিকাশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে সভাপতির ভাষণে শিল্পী হাশেম খান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে অসংখ্য শিশু সংগঠন গড়ে উঠেছে। আবার সংগঠনগুলোর মধ্যে ভাঙ্গনও হয়েছে। খেলাঘর দুইভাগ হয়েছে। আমি মনে করি দুইভাগ হওয়া দোষের কিছু নয়। বরং কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। কাজও বেশি হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিশুবান্ধব। তারা একটি শিশু মন্ত্রণালয় গঠন করেছেন। সারাদেশে শিশু একাডেমির কার্যক্রমও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল। আলোচনায় অংশ নেন সুব্রত বড়ুয়া, কবি দিলারা হাফিজ ও সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।