শিশু অপহরণের দায়ে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ মে ২০১৯, ২০:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

শিশু অপহরণের দায়ে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন
ছবি-যুগান্তর

রাজধানীর বনানী থেকে টিএনজেড গ্রুপের মালিকের আট বছরের শিশু ছেলে আবিরকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৮ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার সাত নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. খাদেম উল কায়েস এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এছাড়া মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত দুজন অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও দেয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. মশিউর রহমান মন্টু ও মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাতুব্বর। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. ইকবাল হোসেন শুভ, সজীব আহমেদ ওরফে কামাল উদ্দিন, মো. আলীম হোসেন চন্দন ওরফে চঞ্চল, কাউসার মৃধা ও রেজা মৃধা।

আসামিদের মধ্যে দুই সহোদর কাউসার মৃধা ও রেজা মৃধা ছাড়া বাকি আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে করাগারে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া পলাতক ওই দুই সহোদরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জহির উদ্দিন মো. বাবর ও শাহ মো. অলিউল্যাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আদালত সূত্র জানায়, টিএনজেড গ্রুপের মালিক শাহাদাত হোসেনের ছেলে আবির উত্তরার একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। শিশু আবিরকে অপহরণের আগে অপহরণকারীরা পরিকল্পনা ও তথ্য সংগ্রহ করে। এ জন্য তারা পল্লবীতে একটি বাসা ভাড়া করে। টিএনজেড গ্রুপের গাড়িচালক রেজাউল (যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত) শিশুটির তথ্য অপর অপহরণকারীদের নিয়মিত সরবরাহ করত।

পরিকল্পনা অনুসারে ২০১৫ সালের ২ মে শিশু আবির মাদ্রাসা থেকে গাড়িতে করে ফেরার পথে বনানী উড়ালসড়কের নিচে অপহরণকারীরা তিনটি গাড়ি নিয়ে ওই গাড়ির গতিরোধ করে। নিজেদের একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে অপহরণকারীরা শিশুটি, ওই গাড়ির চালক ও শিশুটির তত্ত্বাবধানকারীকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয়।

এরপর শিশুটিকে তারা পল্লবীর ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। আর ওই রাতেই শিশুটিকে বহনকারী গাড়িটি ৩০০ ফুট (পূর্বাচল) সড়কে এবং গাড়ির চালক ও তত্ত্বাবধানকারীকে বিমানবন্দর এলাকায় ফেলে আসে। অপহরণকারীরা শাহাদাত হোসেনকে তার ছেলে কান্নার শব্দ ফোনে শোনায় এবং মুক্তিপণ হিসাবে ১০ কোটি টাকা দাবি করে। চার দিন দরকষাকষির পর দুই কোটি টাকা মুক্তিপণ দিতে রাজি হন শাহাদাত হোসেন। ওই বছরের ৬ মে তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা অপহরণকারীদের ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করেন শিশুটির বাবা।

এছাড়া ওই দিন সন্ধ্যায় হোটেল র‌্যাডিসনের সামনে ২৭ লাখ নগদ টাকা নিয়ে শিশুটির বাবা অপহরণকারীদের দেন। এরপর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা অপহরণকারীরা শিশু আবিরকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেয়। শাহাদাত হোসেন তার সন্তানকে ফিরে পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানায় এবং র‌্যাব অপহরণকারীদের ধরতে তৎপরতা শুরু করে।

প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ওই তিনটি ব্যাংক হিসাব থেকে অপহরণকারীদের টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ করে দেয় র‌্যাব। পরে ২০১৫ সালের ১৭ মে আসামি রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন মো. বাবর, মিজানুর রহমান ও শাহ মো. অলিউল্যাকে আটক করা হয়। এরপর মিজানুরকে নিয়ে ওই তিনটি হিসাব থেকে টাকা তোলা হয়। অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ১৮ মে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর একই থানার ইন্সপেক্টর মো. কবির হোসেন হাওলাদার আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ৪৬ জনের মধ্যে ৩০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×