ঈদের আগের দিনে হঠাৎ ক্রেতা-শূন্য আড়ং

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ জুন ২০১৯, ০২:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

ঈদের আগের দিনে হঠাৎ ক্রেতা-শূন্য হয়ে পড়েছে আড়ং
আড়ংয়ের দুটি আউটলেট, ছবি মঙ্গলবার

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। রাজধানীর সব শপিং মলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই চলছিল বেচাকেনার ধুম। ক্রেতাদের নিয়ে নিয়ে তুমুল ব্যস্ত বিভিন্ন দোকানের বিক্রেতারা। এক চুমুক পানি পান করার যেন সময় নেই তাদের।

কিন্তু এরই মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড আড়ংয়ের বিভিন্ন শাখায় দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।

হঠাৎ করেই ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে আড়ংয়ের শোরুমগুলো।

গতকাল মঙ্গলবার (৪ জুন) রাজধানীতে আড়ংয়ের কয়েকটি শাখা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গত দুদিন ধরে ব্র্যান্ডটি নিয়ে বিতর্ক চলছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়। আড়ংইয়ের পণ্য বর্জনের ঘোষণাও দিতে দেখা গেছে অনেককে।

সেই সমালোচনারর জেরেই ঈদের একদিন আগে দেশের এই নামিদামি ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে ক্রেতা কম যাচ্ছেন বলে মনে করছেন সচেতনরা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির সাইন্সল্যাব এলাকায় আড়ংয়ের শাখায় গেলে দেখা যায়, পুরো তিন তলায় ৫ থেকে ৬ জন ক্রেতা। তবে পাশেই অন্য দোকানগুলোতে বেশ ভিড়।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের আড়ং শাখায় গিয়েও একই চিত্রের দেখা মিলে।

সেখানেও ক্রেতাদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি।

বসুন্ধরা শপিং সেন্টারের আড়ং শাখায় কয়েকজন ক্রেতাকে আড়ংয়ের পণ্য কিনতে দেখা গেছে।

তবে সেখানে উপস্থিত এক ক্রেতা বলেন, নিউজে দেখেছি কম দামি পাঞ্জাবির গায়ে বেশি দামের ট্যাগ দিয়েছে আড়ং। এ ঘটনায় আমরা এখন আর তেমন বিশ্বাস রাখতে পারছি না। তাই চয়েজ পাল্টাতে হলো এবাবের ঈদে।

অপর এক ক্রেতা জানান,‘আমি আড়ং থেকেই কাপড় কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই ঘটনার পরে আর কিনব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেখতে এসেছিলাম মানুষ কেমন প্রতিবাদ করছে।’

সাইন্সল্যাবের আড়ং শোরুম থেকে পণ্য কিনে বের হচ্ছিলেন একজন।

তিনি হেসে বলেন, ‘এই ভিড়ের মধ্যে আর রোজা রেখে এতো ঘোরাঘুরি প্রায় অসম্ভব। ওই ঘটনা জানার আগে মেয়ে একটা জামা পছন্দ করে গিয়েছিল। তার জেদের কারণেই কিনতে এসেছি। না হলে আসতাম না।’

আরেক ক্রেতা বলেন, ‘আড়ং অনেক বেশি দাম নেয় জেনেও অনেকে এখানে আসেন। তবে কাল যে ঘটনা ঘটেছে। এরপরে আড়ং বর্জন করা উচিত।’

তবে আড়ংয়ের পক্ষ নিয়ে নিজেদের অভিমত জানিয়েছেন কেউ কেউ।

এমনই একজন বলেন, এখানে আড়ংয়ের কোনো দোষ ছিল না। ব্যাপারটা একটা ভুল মাত্র। তবে এ নিয়ে যেসব বিতর্ক, সমালোচনা হয়েছে এর সবই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি।

তিনি যুক্তি দেখান, আড়ং তো আর কাউকে বদলি করে দিতে পারে না। এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় করেছেন। তাই আড়ংয়ের চেয়ে তাদের দায় বেশি।

প্রসঙ্গত গত ৩ জুন রাজধানীর উত্তরায় জনপ্রিয় ব্র্যান্ড আড়ংয়ের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটে অভিযান চালিয়ে সাতশ ত্রিশ টাকার পাঞ্জাবি দ্বিগুণ দামে বিক্রির দায়ে সেটি বন্ধ করে দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই আবার সেটি খুলে দেয়া হয়। আর এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে খুলনায় বদলি করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক পদ থেকে বদলি করে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের খুলনা জোনের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয় তাকে।

তাকে বদলির বিষয়টি নিয়ে বেশ সমালোচনা ও প্রতিবাদ চলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

পরে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে এলে বদলি আদেশ বাতিল করে মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার স্বপদে বহাল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ঘটনাপ্রবাহ : ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা বদলি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×