ছোট্ট তুবার চোখের পানি মুছিয়ে দেবে কে?

  অনলাইন ডেস্ক ২৩ জুলাই ২০১৯, ০০:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর মেয়ে তুবা

কাঁদছে চার বছরের শিশু তুবা। কিন্তু তার চোখের পানি মুছিয়ে দেয়ার কেউ নেই। সে জানে না তার মা আর ফিরে আসবে না। সে জানে না খোদ রাজধানীতেই কয়েকজন বিবেকহীন মানুষের গুজবের বলি হয়েছেন তার মা।

ছেলেধরা গুজবে ঢাকার বাড্ডায় শনিবার সকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন তাসলিমা বেগম রেনু। তার শিশু কন্যা তুবার কান্না থামছেই না।কি হবে এই শিশু কন্যার ভবিষ্যত?

মা আসার অপেক্ষায় রয়েছে তুবা।তার মাকে কি এনে দিতে পারবে সমাজ? ছোট্ট তুবা বলছে- মা নিচে গেছে জামা আনতে, এখনো আসছে কেন?

কিন্তু সে জানে তার মা আর কোনো দিন ফিরে আসবে না। মায়ের আসার দেরি দেখে ক্ষণে ক্ষণে কেঁদে উঠছে ছোট্ট ওই শিশুটি। কিন্তু তার চোখের জল মুছিয়ে দেবে কে?

শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে কথাবার্তায় সন্দেহ হলে মুহুর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।

রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়।

রোববার সন্ধ্যায় রেনুর লাশ বাড়িতে আনা হলে বৃদ্ধা মা ছবুরা খাতুনসহ স্বজনদের মাতম আর আহাজারিতে আকাশ-বাতাশ ভারি হয়ে উঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

জানা গেছে, রেনুরা এক ভাই ও পাঁচ বোন। সে সবার ছোট। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। প্রাইভেটও পড়াতেন তিনি। পারিবারিক কলহের কারণে দুই বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তার।

বিচ্ছেদের পর ছেলে তাসফিক আল মাহি (১১) বাবার সঙ্গে থাকে। মেয়ে তাসলিমা তুবা (৪) থাকতো মায়ের কাছে।

নিহতের ভগ্নিপতি বদিউজ্জামান বলেন, অভিভাবকরা সন্তান ভর্তি করার জন্য স্কুলে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে গুজব ছড়িয়ে একজন শিক্ষিত-সংগ্রামী নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করতে হবে। এ সভ্য সমাজে এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যেন আর কোনো মানুষ এভাবে গুজবের বলি না হয়।

শনিবার সকালে তাসলিমাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রাতেই নিহতের বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫শ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে বাড্ডা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বাদী নাসির উদ্দিন এজাহারে বলেছেন, হঠাৎ অনেকেই তসলিমা বেগম রেনুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে গণপিটুনি দেয়া হলে তিনি নিহত হন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, পথচারীসহ স্থানীয় অনেকেই তাকে হত্যা করেছে।

ওসি বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ, বেকার সমস্যা এবং এক সন্তানকে নিজের থেকে দূরে রাখার কারণে তাসলিমা বেগম রানু হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। এ কারণে তিনি হয়তো হাঁটতে হাঁটতে বাড্ডায় চলে এসেছেন, এসে ঘটনার শিকার হয়েছেন। তাছাড়া যে স্কুলের কাছে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন ওই স্কুলে এ সময়ে ছাত্র ভর্তির কথা নয় বলে জানান ওসি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×