বাড্ডায় গণপিটুনিতে নারীকে হত্যা: মূল হোতা হৃদয় ৩ দিনেও অধরা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ জুলাই ২০১৯, ১১:৩৭:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম হত্যার ঘটনার মূল হোতা হৃদয়কে তিন দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ বলছে তার খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।

তাসলিমা হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তিন আসামি রিমান্ডে রয়েছে। দুজনকে আজ আদালতে তোলা হবে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার মূল হোতা হিসেবে হৃদয়কে শনাক্ত করেছে পুলিশ। গণপিটুনির ভিডিও দেখে তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে জানান, মূল আসামি হিসেবে হৃদয় নামে একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

পুলিশ বলছে, শনিবার মেয়ের ভর্তির বিষয়ে খবর নিতে উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন তাসলিমা। বছরের মাঝে ভর্তির খোঁজখবর নিতে যাওয়ায় কয়েকজন অভিভাবকের সন্দেহ হলে তারা তাকে নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কাছে যান। এর মধ্যে ‘ছেলেধরা’ গুজব ছড়িয়ে পড়লে আশপাশ থেকে শত শত লোক ছুটে এসে তাকে সেখান থেকে বের করে পেটায়।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে বাড্ডার হোসেন মার্কেট ও তেঁতুলতলা এলাকা থেকে মো. কামাল ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে কালাম ও আজাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা উত্তর বাড্ডায় থাকত।

এর আগে রোববার রাতে মো. শাহীন, জাফর হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও বাচ্চু মিয়া নামে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের সোমবার আদালতে হাজির করা হলে তিনজনকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। জাফর হোসেন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় রোববার মধ্যরাতে গ্রেফতার জাফর বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বাকি তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে ঢাকার মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাড্ডা থানা পুলিশ আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে বলছে, শনিবার সকালে বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন তাসলিমা বেগম। তার দুই সন্তানের ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে স্কুলের গেটে কয়েকজন নারী তাসলিমার নাম-পরিচয় জানতে চান। পরে লোকজন তাসলিমাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নেন। কিছুক্ষণের মধ্যে বাইরে কয়েকশ লোক একত্র হয়ে তাসলিমাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যায়। স্কুলের ফাঁকা জায়গায় এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে। পরে উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাসলিমার বোনের ছেলে সৈয়দ নাসিরউদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতনামা চারশ থেকে পাঁচশ মানুষকে আসামি করে মামলা করেন।

নিহত তাসলিমার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে। মহাখালীতে চার বছরের মেয়ে ও মাকে নিয়ে থাকতেন তাসলিমা। দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ১১ বছরের এক ছেলেও আছে নিহত তাসলিমার।

তাসলিমাকে হত্যার ভিডিও

ঘটনাপ্রবাহ : বাড্ডায় নারীকে পিটিয়ে হত্যা

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত