হাত বাড়ালেই মাদক

  বিল্লাল হোসেন ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

মাদক_Drug
ডিএসসিসি ২০নং ওয়ার্ডে প্রধান সমস্যা মাদক। ছবি: যুগান্তর।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০নং ওয়ার্ডে প্রধান সমস্যা মাদক। এখানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক। বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট। খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। রাস্তায় রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। ওয়ার্ডে এখনও গড়ে উঠেনি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস)। নেই কোনো কমিউনিটি সেন্টার। বিভিন্ন পার্কও রয়েছে মাদকসেবীদের দখলে।

২০নং ওয়ার্ডে জনসংখ্যা রয়েছে ৪ লাখ, ভোটার ৩৫ হাজার। হোল্ডিং সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার। সেগুনবাগিচা, তোপখানা রোড, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও রেস্ট হাউস, টিবি ক্লিনিক এলাকা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা, হাইকোর্ট স্টাফ কোয়ার্টার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ফুলবাড়িয়া স্টেশন পূর্ব এলাকা, ফুলবাড়িয়া পশ্চিম ও সচিবালয় স্টাফ কোয়ার্টার, পুরাতন রেলওয়ে কলোনি পশ্চিম, রেলওয়ে হাসপাতাল এলাকা, ইস্টার্ন হাউজিং ও টয়েনবী সার্কুলার রোড, রমনা গ্রিন হাউস, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকা এ ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেগুনবাগিচা জাতীয় পার্টির অফিসের বিপরীত থেকে আকরাম টাওয়ার পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টার পর মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। রাত ৯টার সময় গিয়ে দেখা যায় অনেক লোক এ গলির ভেতরে বসে গাঁজা সেবন করছে। পুলিশকে দেখে তারা পালিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ফুটপাতে যে চায়ের দোকান আছে সন্ধ্যার পর থেকে এখানে যৌনকর্মীদের দেখা যায়। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সন্ধ্যা হলেই এ এলাকায় মাদক সেবীদেরও আড্ডা বেড়ে যায়। সেগুনবাগিচার আবাসিক এলাকার রাস্তার পয়েন্টে কিছু সিসি ক্যামেরা ছিল, সেগুলি এখন আর নেই। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার নতুন করে সংস্কার করা হচ্ছে না। বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলেন, দোকানের ভাড়া অনেক, তারপরও একটি বিদ্যুতের লাইট জ্বালিয়ে মাসে ১২শ’ টাকা বিল দিতে হয়।

তোপখানা রোড পল্টন মোড় থেকে বারডেম হাসপাতাল (সেগুনবাগিচা শাখা) পর্যন্ত রাস্তা হকারদের দখলে থাকায় পথচারীদের হাঁটতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। সামসুল হক নামে এক পথচারী বলেন, হাতের ডানে মার্কেট, বাঁয়ে হকারদের দোকান। ব্যস্ততম সড়কে হাঁটতে অনেক সমস্যা হয়।

টয়েনবি সার্কুলার রোড জিপিও মার্কেটের সামনের অংশে বহুদিন ধরে ময়লার ড্রেনে নেই কোনো ঢাকনা। হযরত আলেক পীর ইয়ামেনির মাজারের সামনের অংশে ছোট আকৃতির খোলা ড্রেন দিয়ে ময়লা পানি যাচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, একটু বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। শাহবাগ শহীদ জিয়া শিশুপার্কের সামনের অংশে অসংখ্য দোকান গড়ে তোলা হয়েছে।

পুরাতন রেলওয়ে কলোনিতে রাখা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ভ্যানগাড়ি। স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের দুটি অফিসের সামনে মাদক ফেলা হচ্ছে। দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করছে কিছু যুবক। আনন্দবাজার বস্তিতে গড়ে উঠেছে মাদকের আখড়া। কিছুদিন আগে ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন বলেছিলেন, আনন্দবাজার বস্তি মাদকের আখড়া।

কাউন্সিলর যা বললেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন বলেন, আমার ওয়ার্র্ডে একমাত্র সমস্যা মাদক। এ সমস্যা আমি একা সমাধান করতে পারব না। পুলিশই পারে মাদক নির্মূল করতে। পুলিশ চেষ্টা করলে একদিনের মধ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে পারে। ওয়ার্ডের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আমার নিজস্ব অর্থায়নে ১৪০টি সিসি ক্যামেরা বসিয়েছিলাম। কিন্তু সব চুরি হয়ে গেছে। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকবার ফুটপাতের অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছি। কিছুদিন পর আবার তারা দোকান গড়ে তোলে। শিগগির ফুটপাতে গ্রিল লাগিয়ে দেব, যাতে আর এখানে বসতে না পারে। জায়গা না থাকায় ময়লার জন্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করা যাচ্ছে না। রেলওয়ে কলোনির উচ্ছেদের লক্ষ্যেই এখানের সব প্রকার বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখানে নতুন ভবন তৈরি করবে। ওয়ার্ডে কমিনিটি সেন্টারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter