লাশ ময়নাতদন্ত না করেই আমাকে দিয়ে দেয়: আবরারের বাবা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ১১:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

নাইমুল আবরার রাহাত
নাইমুল আবরার রাহাত

দৈনিক প্রথম আলোর সাময়িকী কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাত (১৫) নিহতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন তার বাবা মজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, আমার ছেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে কালক্ষেপণ করে পাশে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে না নিয়ে মহাখালীতে ইউনিভার্সাল হাসপাতালে নেয়। সেখানে উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে কিছুক্ষণ পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

ছেলের লাশ ময়নাতদন্ত না করে আমাকে দিয়ে দেয়। বাবার কাঁধে ছেলের লাশ কত যে ভারী, তা একমাত্র আমিই বলতি পারি। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

মজিবুর রহমান আরও বলেন, অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ৮টায়। রাহাত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় বিকাল ৪টায়, তার মৃত্যু হয় সন্ধ্যা ৭টায়। খবর মোবাইল ফোনে তার সহপাঠী লাভিব আমাদের জানায়। আমরা হাসপাতালে গিয়ে তার লাশ দেখতে পাই। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে রাহাত সবার ছোট।

তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় পরিবার কোনো অভিযোগ দেয়নি। এ কারণে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তারা ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নেবে- এজন্য একটি মুচলেকাও দেয়। আমরা লাশ পরিবারকে বুঝিয়ে দিয়েছি।

প্রসঙ্গত ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার শুক্রবার বিকালে বিদ্যুতায়িত হলে তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাহাতের মৃত্যুর খবরে ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে শনিবার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

তারা সেখান থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভির ফুটেজ প্রদানসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন।

অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিত বক্তব্য দিতে হবে, গাফিলতির বিষয়টি স্বীকার করে পত্রিকায় বিবৃতি দিতে হবে এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ছাত্রদের হাতে পৌঁছাতে হবে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে এদিন তদন্ত কমিটি করেছে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

রাহাতের মৃত্যুর খবরে রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক-নিন্দা এবং ‘ছাত্রের মৃত্যুর পরও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া নিয়ে’ সমালোচনা শুরু হয়।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সমালোচনার পর শনিবার বিকালে এ ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে কিশোর আলো কর্তৃপক্ষও। কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হক এক ফেসবুক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেন।

এদিকে এ মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের (কিশোর আলো দৈনিক প্রথম আলোর সাময়িকী) অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে আজ ঢাকার কারওয়ান বাজারে সংবাদপত্রটির কার্যালয় ঘেরাও করতে একটি ফেসবুক ইভেন্ট খোলা হয়েছে।

রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

এদিকে আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণে চেয়ে প্রথম আলোর সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : রেসিডেনসিয়াল ছাত্র আবরারের মৃত্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×