রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে গ্র্যান্ড ওয়েডিং গালা ২২ নভেম্বর

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:০১ | অনলাইন সংস্করণ

গ্র্যান্ড ওয়েডিং গালা অ্যান্ড গেট টুগেদার নিয়ে ওয়েস্টিন হোটেলে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
গ্র্যান্ড ওয়েডিং গালা অ্যান্ড গেট টুগেদার নিয়ে ওয়েস্টিন হোটেলে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

উইম্যান ক্যানের আয়োজনে আগামী ২২ নভেম্বর রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গ্র্যান্ড ওয়েডিং গালা অ্যান্ড গেট টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠান।

এ উপলক্ষে আয়োজকরা গত বৃহস্পতিবার বিকালে ওয়েস্টিন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিউটি ইনফ্লুয়েন্সার ও এক্সক্লুশিয়ার কর্ণধার নম্রতা খান, মারিয়া’স বিউটি সেলুন ও জে.কে ফরেন ব্রান্ডের কর্ণধার মারিয়া মৃত্তিক, বিউটি এক্সপার্ট ও দি পারপেলের কর্ণধার সিলভি মাহমুদ ও আন্তর্জাতিক সনদপ্রাপ্ত মেকআপ আর্টিস্ট এবং মেববাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাহিদা আহসান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ইডাব্লিউ ভিলা মেডিকার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার আসিফ নূর এবং এ আয়োজনের হসপিটালিটি পার্টনার ওয়েস্টিনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার (ওয়েস্টিন) ডেনিয়েল মোহর।

অনুষ্ঠানে নম্রতা খান বলেন, দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে মেন্টাল হেলথ, ইন্টারপ্রেনারের ওপর সেমিনার, ফ্যাশন শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছি আমরা।

মারিয়া মৃত্তিক অনুষ্ঠান নিয়ে বলেন, অনুষ্ঠানে থাকছে সম্মাননা প্রদান, নারী উদ্যোক্তাদের প্রমোশনাল প্রদর্শনী, ব্রাইডাল এবং টপ মডেলদের নিয়ে থাকবে ফ্যাশন শোর আয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও জনপ্রিয় গায়িকা কনা উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া পারসোনার কর্ণধার কানিজ আলমাস খানসহ ছোট ও বড়পর্দার অনেক তারকা উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানের কো-স্পন্সর হিসেবে থাকছে আলভি জুয়েলার্স, ইংলট বাংলাদেশ, গালা মেকওভার সেুলন, পিউরিটি হিজার সেন্টার ও আমিন জুয়েলার্স। ফটোগ্রাফিতে ড্রিম ওয়েভার, গিফট স্পন্সর হিসেবে ওয়ারদা বাংলাদেশ, বিউটি পার্টনার পারসোনা, মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই, ক্যানভাস, আইস টুডে ও স্পাইস এফএম আমাদের সঙ্গে এই আয়োজনে থাকছে।

বিষাক্ত রাসায়নিকের ড্রামে সয়াবিন তেল

এ টি এম নিজাম সুষ্ঠু তদারকির অভাবে কিশোরগঞ্জবাসীর খাদ্য নিরাপত্তা ভয়ঙ্কর ও প্রাণঘাতি রূপ নিয়েছে। এ জেলার হাট-বাজারে ভোজ্য তেল সয়াবিন আমদানি, মজুত, বাজারজাত- বিপণনে প্রকাশ্য দিবালোক বিষাক্ত রাসায়নিকের ময়লাযুক্ত অস্বাস্থ্যকর ড্রাম ব্যবহার করা হচ্ছে। উপায়ন্তর না দেখে নিম্ন আয়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠী রাসায়নিকের ড্রামের বিষাক্ত তেল ব্যবহার করে খাদ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।

পরিহনে সুবিধার জন্য সয়াবিন তেলের ব্যবসায় এসব ড্রাম ব্যবহার করছেন বলে দাবি ব্যবসায়ী সমাজের । সাধারণ সচেতন ক্রেতাদের অভিযোগ, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবে খাদ্য নিরাপত্তা দিনে দিনে হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে।

এ অবস্থা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী স্বীকার করে করে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্হা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্য নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকা কিশোরগঞ্জের ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের পরিচালক ও সিভিল সার্জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন প্রাণঘাতি রাসায়নিকের ড্রামে করে কিশোরগঞ্জের প্রসিদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র বড় বাজার এবং ভৈরব বন্দর বাজারে আমদানি করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ সোয়া বিন তেল। তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি সংস্হার চোখে ধুলো দিয়ে রাতের অন্ধকারে এসব আমদানি -রপ্তানির পাশাপাশি স্হানীয় বাজারে মজুত ও বিপণনেও ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর অস্বাস্থ্যকর এ ড্রাম। অদৃশ্য রাতের অন্ধকারে ট্রাক থেকে ময়লাযুক্ত অস্বাস্থ্যকর রাসায়নিকের ড্রাম লোড-আনলোড হলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে দিনের বেলায়ও একই কায়দায় এসব নির্বিঘ্নে বাজারজাত ও বিপণন চলছে।

এ পরিস্থিতিতে কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার সরেজমিন পরিদর্শনকালে এসব ক্ষতিকর ড্রামে তেল আমদানি কারকদের একজন প্রদীপ সরকার দাবি করলেন, তারা ঢাকার সিটি গ্রুপ থেকে এসব ড্রামে করে তেল আমদানি করেন। সিটি গ্রুপের সামনে থেকেই এসব ড্রাম সংগ্রহ এবং ভিতর পরিষ্কারের পর তেল ভর্তি করে আমদানি,বাজারজাত,মজুত ও বিপণন করে করে আসছেন বলে জানিয়েছেন তিনি ।

এ সময় ড্রামের সয়াবিন তেল কিনতে আসা অশীতিপর বৃদ্ধ দরিদ্র আনফর আলী মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন একদিন ছিল, যখন স্যানিটারী ইন্সপেক্টরদের দাপটে ভোজ্যতেল এবং দুধ বিক্রেতারা তটস্থ থাকতো। ভেজাল পাইলে তেল-দুধ বিক্রেতাদের মাথায় ঢেলে দিতেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হতো। কিন্তু ; আজকাল স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌরসভার স্যানিটারী ইন্সপেক্টর কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের তৎপরতা কাগজে কলমে বন্দি থাকার কারণে বেড়েছে অসাধু ব্যাবসায়ীদের দৌরাত্ম। তারা যেনো তদারকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখের সামনেই কায়েম করছে ভেজাল আর অস্বাস্থ্যকর সয়াবিন তেল আমদানি-রপ্তানি, বাজারজাত ও বিপণনের রামরাজত্ব।

আর এ ক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জের প্রসিদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র ভৈরব বন্দর বাজার ও কিশোরগঞ্জের বড় বাজারের নাম উল্লেখ যোগ্য।

সূত্রমতে, কিশোরগঞ্জের বড় বাজার ও ভৈরব বন্দর বাজারে অস্বাস্থ্যকর ময়লা আবর্জনাযুক্ত ক্ষতিকর রাসায়নিকের ড্রামে করে প্রকাশ্যে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সয়াবিন তেল আমদানি-রপ্তানি,বাজারজাত ও বিপণন চলছে। আর এজন্য এসব বাজারে রয়েছে বিশাল বিশাল গুদামঘর।রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থ আর খুঁটির জোরে তদারকি কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ অনৈতিক ব্যবসা চলে আসার অভিযোগ রয়েছে। উপরন্তু, এক ধরনের ক্যামিক্যাল গুণে এ সয়াবিন তেল অনেক সময় উচ্চ মূল্যের সরিষার তেলও হয়ে ওঠার অভিযোগ আছে ।

আর সাধারণ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা বাধ্য হয়ে এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর ময়লাযুক্ত প্রাণঘাতি রাসায়নিকের ড্রামের সয়াবিন তেল খেয়ে পেটের নানারকম পীড়া এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারের ঝঁকিতে পড়ছেন।

এ ব্যাপারে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম দাবি করেন, বড় বাজার ও ভৈরব বন্দর বাজারসহ জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রতিদিন অন্ততঃ পাঁচ লাখ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি সম্প্রতি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষতিকর রাসায়নিকের ড্রামে তেল আমদানি, মজুদ ও বিপণন না করার বিষয়টি চোখে পড়ায় তিনি ব্যবসায়ীদের সচেতন করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। বিকল্প স্বাস্থ্য সম্মত পাত্রে তেল আমদানি-রপ্তানি, মজুত ও বিপণন করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে কথা হলে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মদিনা আক্তারের দাবি করেন , এসবের সেম্পল সংগ্রহ করে ঢাকায় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের এনালিস্ট বরাবর পাঠানো হবে।

অপরদিকে, কিশোরগঞ্জের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন বলেন,এসব সয়াবিন তেল ভেজাল ও ঝুঁকি পূর্ণ প্রমাণিত হলে, এ বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য আদালত আছে, সেখানে দায়িদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও কিশোরগঞ্জের সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, কোনো রাসায়নিক কেমিক্যালের পাত্রে তেল আমদানি-রপ্তানি,মজুত ও বাজারজাত স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকি পূর্ণ। এসব ড্রাম কিংবা পাত্রের তেল খেয়ে পেটের বিভিন্ন পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি মরণব্যাধি ক্যান্সারের পড়ারও ঝুঁকি থাকে।

তিনি ভয়ঙ্কর এ খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে তদরকি বৃদ্ধির পাশাপাশি যথাযথ আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×