মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভ্রমণে শেকৃবির স্বজনরা

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০১৮, ১০:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  মো. আবুল বাশার

ঘড়ির কাঁটা দুপুর ২টা। শেকৃবির যুগান্তর স্বজনরা প্রত্যকে নিজ নিজ হল থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাস খেলার মাঠে একত্রিত হন। কেউ ক্যাপ, কেউ সানগ্লাস, কেউ ব্যানার নিয়ে পায়ে হেঁটেই রওনা দেন। 

ঠিক ৩৫ মিনিট পর এক স্বজন দুপুরের ভাতঘুম থেকে উঠেই ফোন দিয়ে জানায় ৫ মিনিট লাগবে আর মাত্র আসতে! ততক্ষণে সবাই শেরেবাংলা সরকারি গার্লস স্কুল ক্রস করবে। কী আর করা তাকে রেখে যাওয়া যায় নাকি?  যাইহোক, সবাই তার জন্য অপেক্ষমাণ। কিন্তু তিনি এসে অন্যরকম ভাব প্রকাশ করেন। বলে ভাই, আমি তো স্বপ্নেই চলে গেছিলাম, তাই একটু লেট হইছে। তখন সবাই হো হো করে হেসে দিল।

এমনই আনন্দের মধ্য দিয়ে গত শনিবার রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অন্যতম সংগঠন যুগান্তর স্বজন সমাবেশের স্বজনরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ঘুরে এলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

ঘড়ির কাঁটা বিকাল ৩টা। স্বজনদের স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মহাব্যবস্থাপক জনাব মেজর (অব.) মো. মুসলেহ উদ্দিন। স্বজনদের কাছে পেয়ে তিনি আবেগে আপ্লুত হন। ফিরে যান একাত্তরের নানা স্মৃতিতে।

 

পরে স্বজনরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। পরে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী ৩ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্বজনদের উদ্দেশে মেজর (অব.) মো. মুসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ধর্মভেদ করা যাবে না, আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো আমরা সবাই বাঙালি ও মানুষ।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুসলমান- হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে সবার মাঝে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই শিক্ষা সফর সার্থক এবং স্বজনদের এ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। স্বজনদের এ ভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ আবুল বাশার, কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন, নাহিদ, জাবের, আশিক, মানিক, তাহমিনা, দৌলত, কায়েসসহ স্বজনের সাবেক ও বর্তমান সদস্যবৃন্দ।

রিপোর্ট: মো. আবুল বাশার, সহ-সভাপতি, শেকৃবি যুগান্তর স্বজন সমাবেশ