রুম্পার ‘বয়ফ্রেন্ড’কে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠাল পুলিশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

রুম্পা-সৈকত

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার প্রেমিক রাইমান সৈকতকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দক্ষিণ গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) রোববার তাকে আদালতে পাঠায়।

আদালতে সৈকতের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রাজিব আল মাসুদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজিব আল মাসুদ বলেন, ‘রুম্পা হত্যা মামলায় সৈকতকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজই তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যায় সৈকতকে আটক করা হয়। গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে রুম্পা হত্যার ব্যাপারে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সৈকত স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিবিএ বিভাগের ৫৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি পরিবারের সঙ্গে শান্তিনগরে ভাড়া বাসায় থাকেন।

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনের দুটি ভবনের মাঝখান থেকে গত বুধবার রাতে রুম্পার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রুম্পার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বিজয়নগর গ্রামে। তার পরিবার মালিবাগের শান্তিবাগের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাসায় ভাড়া থাকত।

পরে পরিবার গিয়ে রুম্পার লাশ শনাক্ত করে। ওই ভবন দুটির একটিতে নারী হোস্টেল, অন্যটিতে পুরুষ হোস্টেল। এর বাইরে পারিবারিক বাসাও আছে।

পুলিশের ধারণা, পুরুষ হোস্টেলের একটি কক্ষে হয়তো রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে। রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল খায়ের বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন।

তবে রুম্পার মৃত্যুর রহস্য এখনও অজানা। হত্যা না আত্মহত্যা তা উদঘাটনে পিবিআই, ডিবি এবং সিআইডি আলাদাভাবে তদন্ত কাজ চালাচ্ছে।

এছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে (সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে ৬৪/৪ নম্বর বাড়ির) সিসি টিভির ফুটেজ উদ্ধার করেছে রমনা থানা পুলিশ।

ফুটেজে (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে ভবনে প্রবেশ এবং রাত পৌনে ১১টায় ভবন থেকে পড়ে যেতে দেখা গেছে।

রুম্পার বাবা মো. রুককুন উদ্দিন হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক হিসাবে কর্মরত। মা নাহিদা আক্তার পারুল গৃহিণী। এক ভাই ও এক বোনের রুম্পা সবার বড়।

রুম্পা ২০১৪ সালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি, ২০১৬ সালে ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ এইচএসসি উত্তীর্ণ হন।

রুম্পা স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আর ছোট ভাই আশরাফুল আলম রাজধানীর ঢাকার ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত।

রাজধানী ঢাকার শান্তিবাগে একটি ফ্ল্যাটে মায়ের সঙ্গে থেকে পড়াশোনা করতেন রুম্পা ও তার ছোট ভাই। পড়াশোনার পাশাপাশি রুম্পা টিউশনি করাতেন।

গত বুধবার টিউশনি শেষে বাসায় ফেরার পর রুম্পা। এরপর বাইরে কাজ আছে বলে আবার বাসা থেকে বের হন। কিন্তু এরপর রাতে আর বাসায় ফিরেননি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।

বৃহস্পতিবার রুম্পার মা-সহ স্বজনরা রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : রুম্পার রহস্যজনক মৃত্যু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×