সংকটে ঢাকা শিশু হাসপাতাল

  সাদ্দাম হোসাইন ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা শিশু হাসপাতাল
ঢাকা শিশু হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত।

নগরীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা শিশু হাসপাতালে নানা সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালের বাইরের প্রবেশপথে চার দিকে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সামনে সড়কের পাশের ড্রেনে পচা ময়লা আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ায় নাকে রুমাল চেপে হাসপাতালে প্রবেশ করতে হয়। এর ভেতরেও নোংরা পরিবেশ বিরাজ করছে।

ব্যবহৃত টয়লেট ও ওয়াশরুম দেখে মনে হয়েছে সর্বশেষ কবে পরিষ্কার করা হয়েছে তা পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও সঠিকভাবে বলতে পারবেন না। সেগুলো ব্যবহারের প্রায় অনুপযোগী। তবুও অন্য কোনো উপায় না থাকায় রোগী ও তাদের স্বজন বাধ্য হয়ে সেগুলো ব্যবহার করছেন। রোগীর স্বজনরা বলছেন, এমন পরিবেশে যে কোনো সুস্থ শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীর স্বজনরা বলছেন, স্থানীয় ডাক্তাররা তাদের এখানে আসার পরামর্শ দিয়েছেন।

কিন্তু তারা জানতেন না যে, এ হাসপাতালের পরিবেশের এমন অবস্থা হবে। তারা জানলে এখানে তাদের শিশুকে ভর্তি করাতেন না বলে জানান অনেকে। তাদের দাবি হাসপাতালের পরিবেশের সমস্যা যেন অতিদ্রুত সমাধান করা হয়। হাসপাতালে দূর থেকে আসা রোগীর স্বজনদের জন্য নেই পর্যাপ্ত থাকার ব্যবস্থা। এমনকি গরিব রোগীরা অর্থ সংকটে সিট না পেয়ে নিরুপায় হয়ে হাসপাতালের বাইরে পলিথিন বিছিয়ে রাত পার করে।

সেই সঙ্গে বাড়তি ফি আদায়ের উদ্দেশ্যে রোগীর অপারেশন কার্যে বিলম্বসহ বিভিন্ন অজুহাতে হাসপাতালে দিনের পর দিন ভর্তি করিয়ে রাখার অভিযোগ করেছে একাধিক রোগীর স্বজন। এতে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কিন্তু এসব সমস্যার কোনো কার্যকরী সমাধান নেই। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই বললেই চলে। এখানে নিজস্ব কোনো সিটি স্ক্যান মেশিন নেই। একটি এ-ক্সরে মেশিন থাকলেও তা কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। যাবতীয় পরীক্ষা বাইরে করতে হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৬৫০ আসনবিশিষ্ট এ হাসপাতালটিতে ২৫ জন অধ্যাপক, ১৭ জন সহযোগী অধ্যাপক, দু’জন সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবং ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক, ২৯৬ জন নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৮৩৭ জন নিয়োজিত রয়েছেন।

এদিকে, পর্যাপ্ত আসন সংকট, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, জনবল কাঠামোয় সমস্যা, পরিচ্ছন্নতা কর্মী সংকট, পর্যাপ্ত নার্স সংকট ও তাদের এবং ইমার্জেন্সি ডাক্তারদের আবাসিক হোস্টেল সংকটসহ নানাবিধ কারণে এ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় প্রতিনিয়ত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল জেলা ও উপজেলা থেকে ছুটে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন চরম বিড়ম্বনায়।

সিরাজগঞ্জ থেকে রোগীর সঙ্গে আসা সুফিয়া আক্তার নামের এক স্বজন যুগান্তরকে বলেন, হাসপাতালে বহির্বিভাগে রোগী দেখাতে এসে কোনো জায়গা না পেয়ে বাইরে অবস্থান করছি। ডাক্তার এলে পরামর্শ নিয়ে চলে যাব। কিন্তু সে পর্যন্ত বাইরে পলিথিন বিছিয়ে কাটাতে হবে।

এসব বিষয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এটি শিশুদের জন্য দেশের বৃহৎ একটি হাসপাতাল। সারা দেশ থেকে যে পরিমাণ রোগী আসে সে তুলনায় আসন সংকট রয়েছে। ২০০ থেকে বর্তমানে ৬৫০ বেডের হাসাপাতালে উন্নতি হয়েছে এটি। কিন্তু শয্যা আরও বাড়ানো দরকার।

হাসপাতালের পরিবেশের বিষয়টি আমরাও লক্ষ করেছি। কিন্তু আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মী সংকট থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট থাকায় রোগীদের সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া হোস্টেল সমস্যা, নার্স ও ডাক্তার সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ চলছে। ইতোমধ্যে নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে নার্স সংকট কেটে যাবে। তবে আমি সবর্দা চেষ্টা করেছি হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন ঘটাতে। কতটুকু পেরেছি বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতিই তার প্রমাণ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter