ঢাকায় হাসপাতাল পরিচালকের রুমে ফার্মাসিস্টের ঝুলন্ত লাশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:০৩:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ডেমরার মাতুয়াইলের ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষ থেকে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম মোবারক হোসেন (৩৩)। পেশায় একজন তিনি ফার্মাসিস্ট এবং বারডেম-২ হাসপাতালের এনেস্থেশিয়া বিভাগে কাজ করতেন।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরিবার বলছে, পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে শত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলছে।

এ ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের পরিচালক জামান ও মামুন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নিহত মোবারক পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। পরিচালকের কক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আমরা এখনও নিশ্চিত নই। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সঠিক কারণ জানা যাবে। ওই ব্যক্তির ডান পায়ে ও বাম পায়ে ইনজুরি রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে নিহত মোবারকের বড় ভাই মো. রুহুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, এই মৃত্যু নিয়ে রহস্যের কিছু নেই। তাকে ডেকে নিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। আমার ভাই হাসপাতালটির পরিচালকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা পেত। কিন্তু সে চেক দিলেও টাকাটা দিচ্ছিল না। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছিল। সে কয়েক দফায় হুমকি-ধমকিও দিয়েছে। সর্বশেষ অফিসে ডেকে নিয়ে তাকে মেরে ফেলা হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

নিহতের শ্যালক মাইনুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ কথা বলার সময় তিনি অল্প কথা বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এটি হত্যাকাণ্ড। এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

নিহতের স্বজন নাহিদ হোসেন জানান, বর্তমান দক্ষিণ দনিয়ার এ কে উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন মোবারক। ভোলার লালমোহন উপজেলায় তাদের বাড়ি। তিনি সাত মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। এখনও বিয়ের ‘রিসিপশন’ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের ওয়ারি বিভাগের উপকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) শাহ ইফতেখার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, তিনি একটি মেডিকেলে চাকরি করতেন। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের তিন তলায় এক পরিচালকের কক্ষে গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া গেছে। যেই হাসপাতালে মোবারক গিয়েছিলেন, সেখানকার পরিচালক তার পূর্বপরিচিত বলে মনে হয়েছে। এখানে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকতে পারে। পুরো ঘটনা তদন্তে বেড়িয়ে আসবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত