নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এলাকাবাসী

  মহসীন কবির ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

মালিবাগ
নাগরিক ভোগান্তি

অভিজাত এলাকা হলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের-ডিএসসিসি ১৯নং ওয়ার্ডে উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগেনি। অলিগলির সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। আর দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া একটি প্রধান রাস্তার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। অপরিকল্পিত ময়লার কন্টেইনার ও ফুটপাতে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর কারণে বিরাজ করছে বিশৃঙ্খল পরিবেশ। অন্যদিকে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট, বিনোদন পার্ক, গণপাঠাগার, কমিউনিটি সেন্টার ও শরীরচর্চা কেন্দ্র না থাকাসহ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত বাসিন্দারা। একমাত্র খেলার মাঠটির আধুনিকায়নেও চলছে গড়িমসি। অবশ্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি দাবি করছেন, বিগত দিনে রাস্তাঘাটসহ সব ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে।

ওয়ার্ড পরিচিতি : ২ লাখ ৫০ হাজার জনসংখ্যা এবং ৩৬ হাজার ভোটার অধ্যুষিত ডিএসসিসির ১৯নং ওয়ার্ড। ওয়ার্ডে হোল্ডিং রয়েছে ২ হাজার ২০০টি। পশ্চিম মালিবাগ, কাকরাইল, মিন্টো রোড, সিদ্ধেশ্বরী, বেইলি রোড, হেয়ার রোড, বড় মগবাজার ও ওয়ারলেসের কিছু অংশ, রমনা থানা এবং ইস্কাটন রোড এ ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত।

ওয়ার্ডের আবাসিক এলাকার ড্রেনেজ সংস্কার এবং গলির রাস্তাগুলোর পুরোপুরি উন্নয়ন হয়নি। এতে বিপাকে পড়ছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ। ড্রেনে আটকে থাকা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ তাদের জীবনযাত্রাকে করছে দুর্বিষহ। বিশেষ করে পশ্চিম মালিবাগ ও বড় মগবাজার আবাসিক এলাকায় এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি। অবশ্য স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন পরপর দায়সারাভাবে পরিষ্কার করা হয়। তবে স্থায়ী উদ্যোগ না থাকায় দুর্ভোগ কমছে না। আর এসব এলাকার লিংক রোডগুলোও ভাঙাচুড়া। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক বেইলি রোডের মোড় থেকে ওয়ারলেস পর্যন্ত রাস্তাজুড়েই রয়েছে শতাধিক গর্ত। বহুলাংশে পিচঢালাই উঠে গেছে। বৃষ্টি এলে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। কয়েক বছর ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছেন অভিভাবকহীন রাস্তা।

ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণের জন্য শান্তিনগর মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে এসটিএস। কিন্তু প্রধান রাস্তায় অপরিকল্পিতভাবে বসানো হয়েছে ময়লার কন্টেইনার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে পশ্চিম মালিবাগ ও দেশ টিভির মাঝামাঝি, বড় মগবাজার কাজী অফিসের গলি ও ভিকারুন্নেসা স্কুলের সঙ্গে অস্থায়ী ময়লার কন্টেইনারের কারনে। এসব ডাস্টবিন নিয়মিত পরিষ্কার করা হলেও বেশিরভাগ সময় ময়লা আটকে থাকে। অন্যদিকে রাস্তার ফুটপাতে অবৈধভাবে ছিন্নমূল দোকান বসায় পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। ফুটপাত দখলের সঙ্গে সরকারি দলের একটি সুবিধাবাদী অংশ জড়িত থাকায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এসব সমস্যার পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত কোনো সুবিধাই পাচ্ছে না বাসিন্দারা। একটি অভিজাত এলাকা হওয়ায় এখানে উচ্চবিত্তদের জন্য অনেক বিলাসবহুল বিপণি বিতান গড়ে উঠেছে। কিন্তু অবসর বিনোদনের জন্য নেই কোনো ব্যবস্থা। অথচ ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য ওয়ার্ডে রয়েছে বিনোদন পার্ক, শরীরচর্চা কেন্দ্র, খেলার মাঠ ও নগর পাঠাগার। বছরের পর বছর এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন এ ওয়ার্ডবাসী।

তবে সিদ্ধেশ্বরী রোডের বালুর মাঠটি খেলার মাঠ হিসেবে ইদানীং কিছুটা প্রাণবন্ত হয়েছে। এর আগে বহু বছর এটি পরিত্যক্ত ছিল বলে জানায় খেলতে আসা কিশোর হায়াত উল্লাহ। তবে এর আধুনিকায়নের কথা বলা হলেও নানা কারণে গড়িমসি করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে পারলে এ মাঠটি হতে পারে শিশু-কিশোরদের প্রিয় ঠিকানা।

সিদ্ধেশ্বরী নেপচুন হাইটস ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আযাদ মনে করেন, বিগত দিনে এলাকার রাস্তাঘাটের কিছুটা উন্নয়ন হয়েছে। তবে এসব কাজ আরও টেকসই হওয়া উচিত ছিল। আর সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত কমিউনিটি সেন্টার, বিনোদন পার্ক ও শরীরচর্চা কেন্দ্র না থাকায় এলাকার মানুষ সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে বলে জানান।

কাউন্সিলর যা বললেলন

সার্বিক বিষয়ে কথা হয় ডিএসসিসির ১৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুন্সী কামরুজ্জামান কাজলের সঙ্গে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হয়ে এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। এর মধ্যে বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরী রোড, বড় মগবাজার ও পশ্চিম মালিবাগ প্রধান রাস্তার সংস্কার তার সময়েই হয়েছে। বেশ কয়েকটি রাস্তার স্যুয়ারেজের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বিনোদন পার্ক, গণপাঠাগার, শরীরচর্চা কেন্দ্র ও কমিউনিটি সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা তিনিও উপলব্ধি করছেন। তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও তিনি জানান। তারপরও নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার পূরণে সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter